নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একটি শহর শুধু তার রাস্তা, বাড়ি কিংবা বাজার দিয়ে তৈরি হয় না। শহরকে আপন করে তোলেন সেখানকার মানুষ। নানা পরিচয়, নানা বিশ্বাস আর আলাদা সামাজিক পরিমণ্ডল নিয়েও তাঁরা যখন একে অপরের আনন্দে পাশে দাঁড়ান, তখনই তৈরি হয় সহাবস্থানের সুন্দর ছবি। রাজস্থানের চৌমুতে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে সামনে এসেছে তেমনই এক মুহূর্ত। স্থানীয় নগর পরিষদের সভাপতি আশিস দুসাদকে সম্মান জানাতে একত্রিত হয়েছিলেন আগরওয়াল, খণ্ডেলওয়াল, মাহেশ্বরী ও ব্রাহ্মণ সমাজের প্রতিনিধিরা। যোগ দিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারাও।
অশোক বিহারে রাওয়াত পরিবারের বাসভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফুলের মালা, পাগড়ি এবং হনুমানজির ছবি দিয়ে সম্মান জানানো হয় আশিস দুসাদকে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে একবার পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। এবার নগর পরিষদের প্রথম পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্বকে ঘিরেই এই সংবর্ধনার আয়োজন।
কলকাতার পাঠকের কাছে চৌমুর এই অনুষ্ঠান কোনও বড় রাজনৈতিক পালাবদলের খবর নয়। এখানে নেই নতুন কোনও সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা কিংবা নাগরিক পরিষেবা নিয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের বিবরণ। বরং খবরটির আকর্ষণ অন্য জায়গায়—একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা। ছোট শহরের সামাজিক জীবনে এই ধরনের মিলনমেলা কীভাবে সম্পর্কের বন্ধনকে দৃশ্যমান করে, সেই ছবিটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অধ্যাপক রমেশ কুমার রাওয়াত। তিনি অখিল ভারতবর্ষীয় খণ্ডেলওয়াল বৈশ্য মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র ও মিডিয়া ইনচার্জ। পাশাপাশি সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার হিসেবেও কাজ করেন। গ্যাংটক থেকে এসে তিনি অতিথিদের রুদ্রাক্ষের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান বলে আয়োজকদের বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে। সিকিম থেকে আনা এই মালায় ‘ওম’ ও শিব পরিবারের প্রতীক ছিল বলেও জানানো হয়েছে।
রাওয়াত পরিবারের তরফে দামোদর প্রসাদ রাওয়াত আশিস দুসাদকে মালা ও পাগড়ি পরিয়ে সম্মান জানান। উপহার দেওয়া হয় হনুমানজির ছবি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চৌমুর আগরওয়াল সমাজের সভাপতি রাজেন্দ্র আগরওয়াল এবং খণ্ডেলওয়াল সমাজের বিভিন্ন পদাধিকারী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মাহেশ্বরী ও ব্রাহ্মণ সমাজের সদস্যরাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও বিস্তৃত সামাজিক পরিসর দেয়।
আশিস দুসাদের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা গোবিন্দ দুসাদ, কাকা রামঅবতার দুসাদ, পরিবারের অন্য সদস্য এবং ভাই সোনু। পরিবারের কাউকে সামাজিক সম্মান জানানো হলে সেই মুহূর্তে ব্যক্তিগত আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের শুভেচ্ছা। এই অনুষ্ঠানের বর্ণনাতেও সেই পারিবারিক উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।
চৌমুর প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক এবং রাজস্থান বিজেপির প্রধান মুখপাত্র রামলাল শর্মা-সহ আরও কয়েকজন স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি আশিস দুসাদকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অশোক বনসল, সুরেশ রাওয়াত, হরিশ রাওয়াত, রামবাবু রাওয়াত, মনীশ গোয়েল, রমেশ বাজাজ, গোবিন্দ ঝালানি ও দীপক যোশী।
তবে কোনও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৌহার্দ্যের ছবি দেখা গেলেই গোটা এলাকার সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। এই আয়োজনের প্রভাব কতটা বিস্তৃত, কিংবা এর পরে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ তৈরি হবে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই ঘটনাটিকে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের একত্রিত হওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবেই দেখা যায়।
বড় শহরের জীবনেও নানা সম্প্রদায় ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। কলকাতার পুজো, পাড়া-উৎসব কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে বহু সময় বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষ একসঙ্গে কাজ করেন। রাজস্থানের এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে কলকাতার বাস্তবতার সরাসরি তুলনা টানা যায় না, কিন্তু একটি সাধারণ ভাবনা সামনে আসে—সম্মান ও সৌজন্যের জায়গা তৈরি হলে মানুষ নিজেদের পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন।
চৌমুর সংবর্ধনার খবর তাই কোনও অজানা ব্যক্তির নাম মনে রাখার চেয়ে বেশি করে মনে করিয়ে দেয় স্থানীয় সমাজজীবনের একটি দিক। তবে এই গল্পের গুরুত্ব এখানেই সীমিত। আয়োজকদের বিবৃতিতে নাগরিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ বা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। সে কারণে ঘটনাটিকে তার প্রকৃত পরিসরেই দেখা জরুরি—একটি স্থানীয় সম্মাননা, যেখানে বিভিন্ন সমাজের মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন।

