Durga Puja Food Rules: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে খাবারের আয়োজন নিয়ে সামনে এসেছে একাধিক নির্দেশের কথা। বিশেষ করে প্রতিমার আশপাশে কী ধরনের খাবারের দোকান বসবে, কীভাবে পুজোর পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে এবং উদ্যোক্তাদের কোন বিষয়গুলিতে সতর্ক থাকতে হবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে আলোচনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, শিল্প আর সৃজনশীলতার মেলবন্ধন। সময়ের সঙ্গে সেই পুজোর মণ্ডপে এসেছে নানা ধরনের থিম, নতুন ভাবনা এবং অভিনব নির্মাণ। কোথাও মন্দিরের আদল, কোথাও সমকালীন কোনও ঘটনা, আবার কোথাও একেবারে ভিন্ন কোনও উপকরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। কিন্তু ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর আগে থিমভাবনা, প্রতিমার গঠন এবং মণ্ডপ চত্বরের খাবার নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনের মার্গদর্শকমণ্ডলীর সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, শিল্প বা থিমের বিরোধিতা তাঁদের নেই। তবে পুজোর সঙ্গে সম্পর্কহীন বা তাঁদের কথায় বিকৃত শিল্পকলার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিমার ক্ষেত্রে শালীনতা ও মাতৃত্বের ভাব বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে। আমিষ খাবার নিয়েও তাঁদের বক্তব্য, গোটা বাংলায় পুজোর সময় আমিষ বন্ধ করার কথা তাঁরা বলছেন না। তবে মণ্ডপ ও প্রতিমার আশপাশে আমিষ খাবারের বিক্রি বা উপস্থিতি না রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
থিমের পুজোয় আপত্তি নেই, আপত্তি ‘ডিম’ বা ‘জুতোর’ মণ্ডপে
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, থিমের পুজোর বিরোধিতা করা হচ্ছে না। নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, থিম উন্নত শিল্পকলার অংশ হতে পারে। তবে সেই থিমের নামে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়, যার সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোনও সম্পর্ক নেই। এই প্রসঙ্গেই তিনি ডিম এবং জুতোর আদলে মণ্ডপ তৈরির উদাহরণ দিয়েছেন।
সংগঠনের বক্তব্য, মণ্ডপ নির্মাণে আধুনিকতা থাকতেই পারে। নতুন ভাবনা বা শিল্পচর্চাও থাকতে পারে। কিন্তু পুজোর ভাবনার সঙ্গে তার একটি সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। সেই কারণে সনাতনী ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরির কথাও বলা হয়েছে। কারণ, প্রতিমা মন্দিরের মধ্যেই অবস্থান করেন—এমন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নির্গুণানন্দ।
অর্থাৎ থিমের অভিনবত্ব নয়, থিমে ব্যবহৃত উপাদান এবং তার সঙ্গে পুজোর সম্পর্কই এখানে মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিমার গঠনেও শালীনতার বার্তা
শুধু মণ্ডপ নয়, প্রতিমার গঠন নিয়েও নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমা অবশ্যই সাবেকি হতে হবে—এমন কোনও কথা বলা হচ্ছে না। তবে প্রতিমার মধ্যে শালীনতা এবং মাতৃত্বের ভাব বজায় থাকা প্রয়োজন।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, দুর্গাকে বিধবার মতো শাড়ি পরিয়ে দাঁড় করানো যাবে না। আবার দেবীর হাত থেকে অস্ত্র সরিয়ে তার জায়গায় অন্য কোনও উপাদান বসানোর ক্ষেত্রেও আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আধুনিকতা থাকতেই পারে, কিন্তু দুর্গার পরিচিত রূপ এবং মাতৃত্বের ভাব যেন নষ্ট না হয়।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে কী ধরনের উপস্থাপনা গ্রহণযোগ্য বলে সংগঠনটি মনে করছে, তার একটি নির্দিষ্ট ধারণা সামনে এসেছে।
পুজোয় আমিষ খাবার বন্ধ নয়, তবে মণ্ডপ চত্বরে নিষেধের বার্তা
দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির খাওয়াদাওয়ার সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপের আশপাশে নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে। সেই জায়গাতেই আমিষ খাবার নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য সামনে এসেছে।
নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, গোটা বাংলায় দুর্গাপুজো উপলক্ষে আমিষ খাবার বন্ধ করার কথা তাঁরা বলছেন না। তবে পুজো মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিমার আশপাশে যেন কোনওভাবেই আমিষ খাবারের উপস্থিতি বা ছোঁয়া না থাকে, সেটি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার কথা গোটা বাংলার খাবারের উপর নয়, মূল নজর রাখা হচ্ছে পুজো মণ্ডপ এবং প্রতিমার সংলগ্ন এলাকার উপর।
নতুন সরকারের আমলে প্রথম পুজো, উদ্যোক্তাদের কপালে ভাঁজ
রাজ্যে পালাবদলের পর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই পুজোর থিম, প্রতিমার গঠন এবং মণ্ডপ চত্বরের পরিবেশ নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই বক্তব্য সামনে এসেছে। ফলে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কলকাতার দুর্গাপুজোয় কয়েক বছর ধরেই মণ্ডপকে ঘিরে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যায়। মন্দিরের প্রতিরূপ থেকে শুরু করে সমকালীন বিষয়, বিভিন্ন উপকরণ এবং অভিনব শিল্পভাবনা—সবই থিম পুজোর অংশ হয়েছে। এবার সেই থিমভাবনার ক্ষেত্রেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বক্তব্য সামনে আসায় পুজো কমিটিগুলির ভাবনাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুজো উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন।
২০২৬-এর দুর্গাপুজোয় থিম, প্রতিমা এবং মণ্ডপ চত্বরের খাবার—এই তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। একদিকে পুজোর অভিনবত্ব বজায় রাখার প্রশ্ন, অন্যদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দেওয়া এই বার্তা—এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করবেন পুজো উদ্যোক্তারা, এখন সেই প্রশ্নেই কপালে ভাঁজ পড়েছে তাঁদের।
#DurgaPuja #DurgaPuja2026 #PujaRules #PujaGuidelines #KolkataDurgaPuja #DurgaPujaFoodRules
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

