Firhad Hakim Road Speech: রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যে উঠে এল তৃণমূলের অতীতের ভুল, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, বিজেপির উত্থান এবং কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা। দলের কিছু সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ ও ‘পাপ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রানি রাসমণি রোডে ছাত্র পরিষদের মঞ্চে বক্তৃতা দিতে উঠে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রসঙ্গ সামনে আনলেন ফিরহাদ হাকিম। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন উপস্থিতি ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন সেই মঞ্চ থেকেই ফিরহাদের বক্তব্যে উঠে এল দলের অতীতের ভুল, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, বিজেপির উত্থান, কর্মীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এবং দলীয় সম্পদের ব্যবহার নিয়ে একাধিক মন্তব্য।
একদিকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচিতে জনসমাগম নিয়ে আলোচনা, অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সভায় তুলনামূলক কম উপস্থিতি—এই দুই ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক প্রশ্ন। সেই আবহেই ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যে কার্যত আত্মসমালোচনার সুরও শোনা গেল। বিশেষ করে তিনি যে ভাবে দলের কিছু সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ এবং ‘পাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন, তা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
রানি রাসমণি রোডে কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?
রানি রাসমণি রোডে ছাত্র পরিষদের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম প্রথমেই গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, দলীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা। তিনি দাবি করেন, তাঁরা গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন এবং কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতির পক্ষে ছিলেন না। তাঁর কথায়, “আজকে একটার পর একটা যে অন্যায়গুলো আমরা করে এসেছি, সেই অন্যায়গুলো হচ্ছে স্বৈরাচার।”
‘অন্যায় সিদ্ধান্ত’ থেকে চাকরি বিতর্ক—কোন কোন প্রসঙ্গ তুললেন?
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যের ভাষায়, “সেই অন্যায় সিদ্ধান্ত যেমন ২৬ হাজার চাকরি ছিল, সেই অন্যায় সিদ্ধান্ত যেমন আজকে আমার যা ইচ্ছে সেটা করব—এগুলো পাপ।” ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রসঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি দাবি করেন, কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বাংলায় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার সুবিধা বিজেপি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “আজকে একটা সাম্প্রদায়িক দল মাথা চাড়া দিয়েছে।” এরপর ধর্মীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের ফলে মন্দির-মসজিদকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি শক্তিশালী হতে পারে।
তাঁর বক্তব্যে ইমাম ভাতা এবং ভবিষ্যতে অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভাতার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের বিষয় যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী যারা রাস্তাঘাটে মার খেয়েছে, যারা জেলে রয়েছে, যারা নিপীড়িত হচ্ছে, যারা বাড়িছাড়া হচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফিরহাদ দলীয় সংগঠনের নিচুতলার কর্মীদের গুরুত্বের বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর মতে, শুধু নেতৃত্বের স্তরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে হবে না, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা কর্মীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে হবে। ফিরহাদ দাবি করেন, দলের এক কর্মীকে বলা হয়েছিল, তাঁকে কয়েক মাস জেলে থাকতে হতে পারে।
তিনি বলেন, “দু’মাস, তিন মাস জেলে থাকবি। কী অসুবিধা আছে? ”
এরপরই তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জীবনযাত্রার তুলনা টানেন। তাঁর বক্তব্যে আসে, একজন সাধারণ কর্মী জেলে থাকবেন, অথচ অভিষেক বিদেশে থাকবেন—এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি কাউন্সিলরদের গ্রেফতার এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনজীবীর মাধ্যমে সাহায্য করে বহু কর্মীকে জেল থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে একাধিক ইঙ্গিত পাওয়া গেল। বিশেষ করে “এই দল আমার থাকবে, আমার বংশে থাকবে”, “তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে”
#FirhadHakim #RaniRasmoniRoad #RitabrataTrinamool #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #BengalPolitics #PoliticalSpeech
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

