Gold-Silver Price Update 2026: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশের আগেই দেশের বুলিয়ন বাজারে নেমে এল বড়সড় ধাক্কা। ফিউচার মার্কেটে সোনা ও রুপোর দাম প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়ে লোয়ার সার্কিট স্পর্শ করে। রেকর্ড উচ্চতা থেকে মুনাফা বুকিং, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, বাজেট ঘিরে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মার্জিন মানি বৃদ্ধির ফলে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ১০ গ্রাম সোনার দামে ৩০ হাজার টাকার বেশি এবং কেজি প্রতি রুপোর দামে প্রায় ১.৩৬ লক্ষ টাকার পতন বাজারে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কয়েক মাস ধরেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল সোনা ও রূপোর লাগামছাড়া দাম। বিয়ে, উৎসব, কিংবা বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই সোনা যেন ক্রমশ সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, ডলার শক্তিশালী হওয়া, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে সোনার দামে তৈরি হয়েছিল রেকর্ড। ঠিক এই সময়েই আজকের কেন্দ্রীয় বাজেট কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিল। বাজেট ঘোষণার পরপরই বাজারে দেখা গেল, সোনা ও রূপোর দামে সামান্য হলেও পতন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই স্বস্তি কি দীর্ঘস্থায়ী? নাকি সামনের দিনগুলোতে আবারও সোনার দাম ছোঁবে নতুন উচ্চতা?
এই প্রতিবেদনে আমরা জানব, কেন হঠাৎ সোনা-রূপোর দাম বেড়েছিল, বাজেটে ঠিক কোন কারণে দাম কিছুটা কমল, আর ভবিষ্যতে কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করছে সোনার দামের ওঠানামা। বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সবার জন্যই এই বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন : জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
বাজেটের আগে কেন এতটা বেড়েছিল সোনা ও রূপোর দাম?
বাজেটের আগে সোনা ও রূপোর দামে যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে একাধিক দেশি-বিদেশি কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দেয়। আর সেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই যুগ যুগ ধরে সোনার কদর।
দ্বিতীয় বড় কারণ ছিল মার্কিন ডলারের ওঠানামা ও সুদের হার সংক্রান্ত জল্পনা। যখনই মনে হয় ভবিষ্যতে সুদের হার কমতে পারে, তখন সোনার চাহিদা বাড়ে। কারণ, সুদ না পাওয়া সত্ত্বেও সোনা তখন বেশি লাভজনক বিনিয়োগ হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে সোনা কেনা। বহু দেশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার শক্তিশালী করতে ডলারের পাশাপাশি সোনার উপর জোর দেয়, যা স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়িয়ে দেয়।
রূপোর ক্ষেত্রেও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়ে যাওয়া—বিশেষ করে ইলেকট্রিক গাড়ি, সৌর শক্তি ও প্রযুক্তি শিল্পে—চাহিদা বাড়িয়েছে বহুগুণ। ফলে বাজেটের আগে বাজারে তৈরি হয়েছিল এক ধরনের “price pressure”।
আজকের বাজেটে কী এমন হল, যাতে দাম কিছুটা নামল?
আজকের বাজেট ঘোষণার পর সোনা ও রূপোর দামে যে সামান্য পতন দেখা গেল, তার মূল কারণ সরকারের কিছু নীতিগত ইঙ্গিত। যদিও সরাসরি বড় কোনও করছাড় বা শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা হয়নি, তবুও বাজার বুঝেছে যে সরকার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, আমদানি ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রাস্ফীতি কমানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। বিনিয়োগকারীরা ধরে নেন, সরকার যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সোনার উপর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা কমতে পারে।
এছাড়াও বাজেট বক্তৃতায় পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার দিকে নজর থাকবে। এতে ডলারের তুলনায় দেশীয় মুদ্রা স্থিতিশীল থাকার আশা তৈরি হয়, যা সোনা ও রূপোর আমদানির খরচ কিছুটা কমাতে পারে। এই সব মিলিয়েই বাজেটের দিন বাজারে সোনা-রূপোর দামে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি দেখা গেছে।
এই দাম কমা কি স্থায়ী, নাকি সাময়িক?
বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই মনে করছেন, এই দাম কমা আপাতত সাময়িক। কারণ, বাজেট যতই স্বস্তির বার্তা দিক না কেন, আন্তর্জাতিক বাজারের উপর দেশের সোনা-রূপোর দাম অনেকটাই নির্ভরশীল। যদি বিশ্ববাজারে আবার অস্থিরতা বাড়ে, তাহলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উৎসব ও বিয়ের মরসুম। সামনে যদি চাহিদা বাড়ে, তাহলে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ইতিহাস বলছে, ভারতে সোনা শুধুমাত্র একটি ধাতু নয়—এটি আবেগ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। তাই সামান্য দাম কমলেই বাজারে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, যা আবার দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, বিশ্বের অর্থনীতিতে যদি মন্দার আশঙ্কা জোরালো হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা ফের সোনার দিকেই ঝুঁকবেন। সেক্ষেত্রে বাজেট-পরবর্তী এই পতন খুব বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে।
ভবিষ্যতে সোনার দাম আবার কেন বাড়তে পারে?
ভবিষ্যতে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিশ্বে যত দিন অস্থিরতা থাকবে, তত দিন সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা থাকবে।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি। যদি বড় অর্থনীতিগুলি সুদের হার কমানোর পথে হাঁটে, তাহলে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ, তখন বিনিয়োগকারীরা সুদভিত্তিক সম্পদের বদলে সোনার দিকে ঝুঁকবেন।
তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। সরকার যতই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুক, বিশ্বব্যাপী কাঁচামালের দাম, জ্বালানির খরচ ও পরিবহন ব্যয় যদি বাড়ে, তাহলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সোনার বাজারেও পড়বে। সবশেষে, বিনিয়োগ মানসিকতা। ডিজিটাল যুগে নতুন নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এলেও, অনিশ্চিত সময়ে মানুষের ভরসা এখনও সোনাই। এই মনস্তত্ত্ব বদলানো সহজ নয়।
কেন এই আকস্মিক পতন? মূল কারণগুলোর বিশ্লেষণ
এই বিশাল দরপতনের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র বাজেট-ভীতি নয়, বরং কিছু গভীর কারিগরি ও আন্তর্জাতিক কারণও রয়েছে।
১. মুনাফা বুকিং (Profit Booking)
গত কয়েক মাস ধরেই সোনা ও রুপোর দাম রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। যারা অনেক কম দামে সোনা-রুপো কিনেছিলেন, তাঁরা বাজেটের দিনটিকেই সুযোগ হিসেবে বেছে নেন লাভ তুলে নেওয়ার জন্য। এই ব্যাপক বিক্রির চাপেই বাজারে ধস নামে।
২. চাহিদা কমে যাওয়া
দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা ও গয়নার বাজারে চাহিদা কার্যত কমে গিয়েছিল। শিল্পক্ষেত্রেও উচ্চ দামের কারণে রুপোর ব্যবহার কিছুটা কমে আসে। চাহিদা কমে যাওয়া মানেই দামের উপর বাড়তি চাপ।
৩. মার্জিন মানি বৃদ্ধি – সবচেয়ে বড় কারণ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কারিগরি কারণ হল শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (CME)-এর সিদ্ধান্ত। CME সোনা ও রুপোর ফিউচার ট্রেডে মার্জিন মানি বাড়িয়ে দেয়।
- সোনার মার্জিন: ৬% → ৮%
- রুপোর মার্জিন: ১১% → ১৫%
এর ফলে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত নগদ টাকা জমা দিতে হয়। অনেকের পক্ষেই এত নগদ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে সোনা ও রুপো বিক্রি করতে শুরু করেন। এই ‘forced selling’-ই বাজারে সুনামির মতো ধস নামিয়েছে।
৪. শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও বিশ্ববাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সাধারণত সোনা ও রুপোর দাম কমে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৪৮৮৭ ডলার প্রতি আউন্সে নেমে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারে।
বর্তমান বাজার দর ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA) অনুযায়ী, বর্তমানে:
- ২৪ ক্যারেট সোনার দাম: প্রতি কেজি প্রায় ১.৬৫ লক্ষ টাকা
- রুপোর দাম: প্রায় ৩.৩৯ লক্ষ টাকা
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন আতঙ্কজনিত এবং সাময়িক। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এখনও মূল্যবান ধাতুর ওপর ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সোনা ও রুপো এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
#Budget2026 #GoldPriceCrash #SilverPriceDrop #UnionBudget2026 #MCX #GoldRateIndia #FinanceNews #CommodityMarket #NirmalaSitharaman #GoldInvestment #MarketCrash
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

