Grassroots women leaders Bengal politics: সাধারণ জীবন থেকে রাজনীতির ময়দানে উঠে আসা দুই নারী কলিতা মাজি ও রেখা পাত্র, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নজর কেড়েছেন, তাঁদের লড়াই, অভিজ্ঞতা ও মানুষের জন্য কাজ করার পরিকল্পনা ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতির ময়দানে নতুন মুখ হিসেবে নয়, বরং লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই আবারও সামনে এসেছেন দুই নারী। বিজেপির এবারের প্রার্থী তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন তাঁরা—কারণ তাঁদের জীবনের গল্প একেবারেই সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার কাহিনি। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে রাজনীতির মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেওয়া এই দুই প্রার্থী এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন আউশগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি। পেশায় তিনি একজন বাড়ির পরিচারিকা। সাধারণ জীবনের নানা সংগ্রাম পেরিয়ে আজ তিনি ভোটের ময়দানে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই যাত্রাপথ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। মানুষের কাছাকাছি থেকে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতাই তাঁর মূল শক্তি বলে মনে করছেন তিনি।
অপরদিকে, হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রও ইতিমধ্যেই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন একাধিকবার। সন্দেশখালি ঘটনার পর তিনি আলোচনায় আসেন এবং পরে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি, তবুও তাঁর লড়াই থেমে থাকেনি। আবারও তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি, যা তাঁর প্রতি দলের আস্থারই প্রতিফলন।
আরও পড়ুন : হাজার হাজার যুবকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না! যুবসাথীর টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রেখা পাত্রের বিশ্বাস, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসবে এবং ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান এবং তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে চান।
ভোটের ময়দানে দুই সাধারন নারীর গল্প (Grassroots women leaders Bengal politics)
দুই প্রার্থীর জীবনই প্রমাণ করে, সাধারণ পরিবার থেকেও বড় স্বপ্ন দেখা যায়। তাঁদের লক্ষ্য শুধু জয়লাভ নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের উন্নয়নে কাজ করা। এই দুই নারীর উত্থানের গল্প শুধু রাজনীতির নয়, এটি সংগ্রাম, সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের এক বাস্তব চিত্র—যা আগামী দিনে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
আউশগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজির গল্প একেবারেই মাটির কাছাকাছি থেকে উঠে আসা এক সংগ্রামের কাহিনি। তিনি একদমই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং পেশায় একজন বাড়ির পরিচারিকা। বর্তমানে তিনি মাসে প্রায় চার হাজার টাকা উপার্জন করেন এবং দু’টি বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। তবে জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি এখন নিজের লক্ষ্য স্থির করেছেন—ভোটের ময়দানে মানুষের জন্য লড়াই করা।
কলিতা মাজি জানিয়েছেন, তাঁর এলাকার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব, শিক্ষার ঘাটতি এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে পানীয় জলের সংকট। বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি রাজ্যের শাসক দলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেছেন, উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা এবং জঙ্গলমহলের বিভিন্ন অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। বনাঞ্চল ঘেরা এই এলাকাগুলিতে উন্নয়নের অভাব স্পষ্ট, আর সেই কারণেই তিনি এই বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চান। মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন, সাধারণ চিকিৎসার জন্যও এলাকাবাসীকে জেলা শহরে ছুটতে হয়, কারণ স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই।
শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। এলাকার স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই, ফলে পড়াশোনার মানেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই দুই ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। এছাড়াও তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং বেকারত্ব নিয়ে, তিনি বলেন যে সাধারণ মানুষের করের টাকাতেই এই প্রকল্পগুলি চালানো হয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের খরচ বাড়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কলিতা মাজি আরও জানান, দেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি তা সঠিকভাবে পালন করতে চান। তাঁর লক্ষ্য একটাই—সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আউশগ্রাম এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো।একজন সাধারণ পরিচারিকা থেকে প্রার্থী হয়ে ওঠার এই যাত্রা শুধুমাত্র রাজনীতির গল্প নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার প্রতীক—যেখানে ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের রাজনৈতিক উত্থান একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং অনুপ্রেরণামূলক। তিনি পেশায় একজন সাধারণ গৃহবধূ, যাঁর জীবন শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণ পরিবেশে। পড়াশোনা করেছেন মাত্র পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। সংসার সামলানোই ছিল তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি, তবুও তাঁর লড়াই থেমে থাকেনি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আবারও তাঁর উপর আস্থা রেখে তাঁকে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে।
রেখা পাত্র মূলত আলোচনায় আসেন সন্দেশখালি ইস্যুর সময়, যখন গোটা এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সেই সময়েই তিনি ঘরের রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। একেবারে সাধারণ একজন নারী থেকে জনসমক্ষে উঠে আসার এই যাত্রা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, আর্থিক দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ অবস্থায় রয়েছেন। নগদ অর্থ হিসেবে তাঁর কাছে ছিল মাত্র তিন হাজার টাকা। তাঁর স্বামী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারের কোনো স্থায়ী সঞ্চয়, স্থায়ী আমানত বা উল্লেখযোগ্য গয়নাও নেই।
এবার হিঙ্গলগঞ্জে তাঁর সরাসরি লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঝর্ণা সর্দারের সঙ্গে। শাসক দলের দাবি, ঝর্ণা সর্দারও আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা একজন প্রার্থী। ফলে এই কেন্দ্রে লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, রেখা পাত্র এবারের নির্বাচনে এক উল্লেখযোগ্য মুখ। সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে রাজনৈতিক ময়দানে নিজের জায়গা করে নেওয়ার এই গল্পই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরেছে। রেখা পাত্র তাঁর প্রার্থী পদ নিয়ে জানিয়েছেন, সন্দেশখালি এলাকায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এবং তিনি সেখানে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এলাকার সমস্যা ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত বলে দাবি করেছেন।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ জীবন থেকে উঠে আসা এই দুই প্রার্থী (Grassroots women leaders Bengal politics)—কলিতা মাজি ও রেখা পাত্র—ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। তাঁদের এই লড়াই কতটা মানুষের মন জয় করতে পারে এবং ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন কতটা দেখা যাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
#BJPCandidates #WestBengalElection #WomenInPolitics #KalitaMajhi #RekhaPatra #BengalPolitics #GrassrootsLeaders #Election2026 #IndianPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

