Hamim Mondal Pakistan Link: পাকিস্তান-যোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছে বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তে নাশকতার পরিকল্পনা, নজরদারি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা। তাঁর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল এবং বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছিল।
গৌরব শর্মা জানান, রাজ্য এসটিএফ নিয়মিতভাবে দিল্লি পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করে। সেই সূত্রেই এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
জঙ্গি যোগের সন্দেহে গ্রেফতার হামিম মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা সরকারকে ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর দাবি, হামিমের বিদেশি যোগাযোগের সূত্র ধরে এমন এক নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে, যার সূত্র পাকিস্তানে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু করে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ—সবকিছুই ছিল সুপরিকল্পিত। শুধু তাই নয়, দিল্লির যন্তরমন্তরে পুলিশের পোশাক পরে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিতও মিলেছে তদন্তে।
পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
এসটিএফ জানিয়েছে, প্রায় দু’-তিন মাস আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক কয়েকটি সন্দেহভাজন হ্যান্ডলের যোগাযোগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগ হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম-সহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে বিস্তৃত হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই সমস্ত হ্যান্ডল পাকিস্তান থেকেই পরিচালিত হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, যোগাযোগ গোপন রাখতে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে। ওই নম্বরগুলির মাধ্যমেই এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে কথাবার্তা চলত বলে দাবি এসটিএফের। তদন্তে জানা যায়, হামিম আগে হাওড়ায় থাকলেও কয়েক মাস আগে পূর্ব বর্ধমানের রোহিণী আবাসনে চলে আসে। সেখানে তার বিভিন্ন যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, সে “রানা”, “আবির”, “জাহির”, “হাম্মাদ” নামে একাধিক পরিচয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
এসটিএফের দাবি, যাচাই করে দেখা গিয়েছে, এই সব পরিচয় পাকিস্তান থেকেই পরিচালিত হচ্ছিল।
এরপর ৩০ ও ৩১ জুলাই রাতের মধ্যে হামিমকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
যন্তরমন্তরে পুলিশের পোশাক পরে নাশকতার ছকের অভিযোগ
এসটিএফের তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমকে দিল্লির যন্তরমন্তরে পুলিশের পোশাক পরে প্রবেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এর উদ্দেশ্য ছিল নাশকতা চালিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো। যদিও এই পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল, তা এখনও তদন্তাধীন।
অর্পিতার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
এসটিএফের দাবি, হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা সরকারকে প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি আধিকারিক এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার কাজে ব্যবহার করা হতো। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হতো। অপহরণের একটি পরিকল্পনাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসটিএফের অভিযোগ, অর্পিতাকে ব্যবহার করা হতো একটি বিশেষ কৌশলে। তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি আধিকারিক, আমলা এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।
তদন্তকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হতো। এই কৌশলকেই তদন্তকারীরা ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বর্ধমানের অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার
দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, বাইরে থেকে তিনি সাধারণ যুবকের মতো জীবনযাপন করলেও, তাঁর ডিজিটাল যোগাযোগ ও বিদেশি সংযোগে একাধিক সন্দেহজনক তথ্য সামনে এসেছে।
তদন্ত এখনও চলছে
এসটিএফ জানিয়েছে, হামিম ও অর্পিতার মোবাইল ফোন, ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই নেটওয়ার্কে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।
গৌরব শর্মা জানান, কয়েকদিন আগে একটি নির্দিষ্ট তথ্য আসে যে হাওড়ার এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের ষড়যন্ত্রেরও তথ্য পাওয়া যায়।
এই তথ্য পাওয়ার পরই এসটিএফ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে একটি সন্দেহভাজন যোগাযোগের সূত্র পাওয়া যায়। সেই সূত্র থেকেই হামিম মণ্ডলের নাম সামনে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লক্ষ্যবস্তু
এসটিএফের আইজি দাবি করেন, তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও সন্দেহভাজনদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন।
পাকিস্তান থেকে পরিচালিত যোগাযোগের মাধ্যমে হামিমকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা, নিরাপত্তাহীন মুহূর্ত এবং যাতায়াতের তথ্য সংগ্রহ করে জানাতে।
একাধিক মাধ্যমে নির্দেশ আসত
এসটিএফ জানিয়েছে, হামিমের কাছে নির্দেশ আসত একাধিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাকে বলা হতো পুলিশের পোশাক জোগাড় করতে, আরও যুবককে দলে টানতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে।
তদন্তকারীদের মতে, পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন যুবকদের যুক্ত করে একটি বড় নাশকতামূলক চক্র তৈরি করা।
#HamimMondal #PakistanLink #WestBengalSTF #ArpitaSarkar #TerrorInvestigation #SecurityAlert #WestBengalNews #HoneyTrap #JantarMantar #BreakingNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

