India US Trade Deal 2026: মোদি–ট্রাম্প ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামা নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শুল্কের কারণে যে সব ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিল, তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। বিশেষ করে বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিপণ্য ও প্রকৌশল শিল্পে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—ভারত যখন মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমাবে, তখন দেশীয় শিল্প কতটা সুরক্ষিত থাকবে? এই চুক্তি তাই শুধু সুযোগ নয়, সঙ্গে নিয়ে আসছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো নিঃশব্দে ইতিহাস বদলে দেয়। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঠিক তেমনই এক মুহূর্ত তৈরি হলো। মাত্র ৩০ মিনিটের একটি ফোনালাপ—এক প্রান্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অন্য প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই কথোপকথনের পরেই সামনে এলো এক বড়সড় বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা, যা শুধু ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, গোটা বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোকেই নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।
এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক নেমে এলো ১৮ শতাংশে। যেখানে এক সময় তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে ২৫ শতাংশে নামানো হয়েছিল, সেখানে এই নতুন হার ভারতীয় রপ্তানির জন্য এক ঐতিহাসিক স্বস্তি। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে জড়িয়ে রয়েছে জ্বালানি রাজনীতি, রাশিয়ান তেল থেকে সরে আসার ইঙ্গিত, বিপুল অঙ্কের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি এবং পারস্পরিক শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা। প্রশ্ন একটাই—এই সমঝোতায় ভারত ঠিক কতটা লাভবান?
মোদি–ট্রাম্প ফোনালাপ: ত্রিশ মিনিটে তৈরি হলো নতুন অধ্যায়
কূটনীতির দুনিয়ায় অনেক সময় নীরব কথোপকথনই সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়। ২ ফেব্রুয়ারির সেই ফোনালাপও তার ব্যতিক্রম নয়। জানা গিয়েছে, এই আলোচনায় শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, উঠে আসে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়।
এই ফোনালাপের সময়েই যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দেয়—ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তারা আরও গভীর করতে চায়, তবে শর্ত থাকবে পারস্পরিক সুবিধার। আর সেই শর্তের মধ্যেই জন্ম নেয় এই নতুন চুক্তি, যা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে।
শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ: ভারতীয় রপ্তানির জন্য বড় স্বস্তি
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় ঘোষণা—যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা। এই হার শুধু আগের তুলনায় কম নয়, আন্তর্জাতিক তুলনায়ও তা ভারতের পক্ষে সুবিধাজনক।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যের ওপর গড় শুল্ক প্রায় ৩৪ শতাংশ, মেক্সিকোর ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ। সেই তুলনায় ভারতের ১৮ শতাংশ শুল্ক হার ভারতীয় পণ্যকে মার্কিন বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে—
- বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে
- ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে
- প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে
- কৃষিভিত্তিক পণ্যে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে নতুন দরজা খুলবে, যা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শুল্কের কারণে আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে ছিল।
‘আমেরিকান পণ্য কিনবে ভারত’: বিপুল কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি
এই শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে ভারতও দিয়েছে বড়সড় প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী মোদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট করেছেন, ভারত আরও উচ্চমাত্রায় ‘আমেরিকান পণ্য কেনার’ নীতিতে এগোবে।
এই প্রতিশ্রুতির আওতায় রয়েছে—
- কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ জ্বালানি
- আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি
- কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্য
মোট অঙ্কটি প্রায় পাঁচশো বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বলে জানানো হয়েছে। এই কেনাকাটা আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
রাশিয়ান তেল থেকে সরে আসার ইঙ্গিত: বড় কৌশলগত পরিবর্তন?
চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত অংশ হলো তেল আমদানির বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি সংগ্রহের দিকে নজর দেবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু বাণিজ্য নয়, ভূ-রাজনৈতিক হিসেবও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ হলে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে। ভারতের জন্য এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়। কারণ, রাশিয়ান তেল তুলনামূলকভাবে সস্তা ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বৈশ্বিক অবস্থান বিবেচনা করে ভারত এই পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই চুক্তি একতরফা নয়। যুক্তরাষ্ট্র যেমন শুল্ক কমিয়েছে, তেমনই ভারতও ধীরে ধীরে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর ফলে ভারতের বাজারে আরও সহজে ঢুকতে পারবে—
- মার্কিন প্রযুক্তি পণ্য
- আধুনিক কৃষিযন্ত্র
- শিল্প যন্ত্রপাতি
- কিছু খাদ্যপণ্য
একদিকে এতে ভারতীয় ভোক্তারা কম দামে উন্নত পণ্য পেতে পারেন, অন্যদিকে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বাজারের প্রতিক্রিয়া: বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস
এই ঘোষণার প্রভাব সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে আর্থিক বাজারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের সূচক একদিনেই আটশোর বেশি পয়েন্ট বেড়ে যায়, যা প্রায় তিন শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।
এর পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার মানও ডলারের তুলনায় এক শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়। বাজারের এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয়—বিনিয়োগকারীরা এই চুক্তিকে ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব— অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে, রপ্তানি বাড়লে দেশে উৎপাদন বাড়বে, উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কিছু আমদানিকৃত পণ্যের দাম কমতে পারে।
২০২৬ সালের এই ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। শুল্ক কমা, বিপুল কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি, জ্বালানি নীতির পরিবর্তন—সব মিলিয়ে ভারতের সামনে সুযোগের দরজা খুলেছে।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

