Inspiring Rural Women Entrepreneurs From Bengal: কৃষি উদ্যোগ ও ছোট ব্যবসার মাধ্যমে বাংলার গ্রামীণ নারীরা বদলে দিচ্ছেন নিজের জীবন ও গ্রামের অর্থনীতি। এই প্রতিবেদন তুলে ধরছে তাঁদের অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রীতা। নামটা বোধহয় পরিচিত লাগল না। রীতার জীবন যুদ্ধের কথা দিয়ে শুরু করবো। অল্প বয়সে তার বিবাহ হয়ে যায়। বিয়ের পর সুখের বিবাহিত জীবন সে নির্বাহ করছিল। কিন্তু হঠাৎই তার জীবনে আসে বিপর্যয়। তার যখন মাত্র ২৩ বছর বয়স সে হারিয়ে ফেলে তার স্বামীকে একটি অ্যাক্সিডেন্টে। এক মুহূর্তে রঙিন জগত তার কাছে সাদা হয়ে যায়। যেখানে কোন স্বপ্ন নেই। নেই ভালোবাসা। অগোছালো একটা জীবন। আত্মীয়, পরিজন সকলেই রীতার পাশ থেকে ধীরে ধীরে সরতে শুরু করে। কি গল্পটা বোধহয় এবার অনেকের খুব চেনা লাগছে? কারণ এমন পরিচিত গল্প আমরা আমাদের চারপাশে প্রায়শই দেখতে পাই।
গ্রামের মাটিতে হাঁটলে আজও আমরা এমন অসংখ্য নারীর মুখোমুখি হই, যাদের জীবনের গল্প শুনলে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। কেউ খুব অল্প বয়সেই হারিয়েছেন স্বামীকে, কেউ আবার সংসারের ভরসা ভেঙে পড়তে দেখেছেন প্রতারণা কিংবা সম্পর্কের ভাঙনের মধ্যে দিয়ে। কারও জীবনে এসেছে গভীর মানসিক বিপর্যয়, কারও আবার মধ্যবয়সে এসে শুরু হয়েছে নতুন করে লড়াই—অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক অবহেলা কিংবা সমাজের কটাক্ষকে সঙ্গে নিয়েই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই গল্পগুলো কেবল দুঃখের নয়। এই গল্পগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক অদম্য শক্তি। কারণ জীবনের পথে যতই বাধা আসুক, এই নারীরা থেমে যাননি। ভেঙে পড়েননি। বরং সেই ভাঙন থেকেই তারা গড়ে তুলেছেন নিজেদের নতুন করে। নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে, ছোট ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু করে আজ অনেকেই হয়ে উঠেছেন গ্রামের প্রধান উদ্যোক্তা।
শুধু নিজেরাই দাঁড়িয়ে যাননি, তাঁদের হাত ধরেই উঠে দাঁড়িয়েছে আরও অনেক নারী। কেউ শিখেছেন নতুন কাজ, কেউ পেয়েছেন আয়ের পথ, কেউ আবার ফিরে পেয়েছেন জীবনের প্রতি আস্থা। এক সময় যাদের জীবনকে সমাজ করুণা করে দেখত, আজ তারাই হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা—নিজেদের গ্রামে, নিজেদের সমাজে। এই কারণেই আজ তাদের প্রতি কুর্নিশ জানানোর সময়। নিউজ অফবিট আজ তুলে ধরতে চায় সেই সব অনামিকা গ্রামীণ নারীদের গল্প—যারা সংগ্রামকে পরাজিত করে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে জীবন আবার নতুন করে শুরু করা যায়। এই প্রতিবেদন ভারতের সেইসব সাধারণ থেকে অসাধারণ মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য, যারা নীরবে বদলে দিচ্ছেন গ্রামের অর্থনীতি, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ।
দীপালি মাহাতোর সাফল্যের গল্প (Inspiring Rural Women Entrepreneurs From Bengal)
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার কুসুম জুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা দীপালি মাহাতো জলবায়ু সহনশীল কৃষির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সী এই প্রান্তিক কৃষক অল্প জমি নিয়েই শুরু করেছিলেন মিলেট চাষের উদ্যোগ। SwitchON Foundation–এর সহায়তায় তিনি মাত্র ০.৩৫ একর জমিতে প্রথম খরিফ মরশুমে প্রায় ৩৭ কেজি মিলেট উৎপাদন করতে সক্ষম হন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীপালি শুধু মিলেট চাষের কৌশলই শেখেননি, বরং বীজ সংগ্রহ, সঠিক চাষ পদ্ধতি এবং মিলেট দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করার দক্ষতাও অর্জন করেছেন। তিনি মিলেট দিয়ে লাড্ডু, ক্ষীর, খিচুড়ি এবং মালপুয়া–র মতো পুষ্টিকর খাবার তৈরি করতে শিখেছেন। এই দক্ষতার ভিত্তিতেই পরে তিনি হুরা ব্লকে “মিলেট ক্যাফে” পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হন, যা আনন্দধারা প্রকল্প (Anandadhara Prakalpa) এবং West Bengal State Rural Livelihood Mission (WBSRLM)–এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
দীপালির এই উদ্যোগ বৃহত্তর একটি প্রকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় প্রায় ৫০০ জন কৃষক ১৫০ একরেরও বেশি জমিতে মিলেট চাষ শুরু করেছেন। বৃষ্টিনির্ভর জমিতে, যেখানে ধান চাষ করা কঠিন, সেখানে ফিঙ্গার মিলেট (রাগি) এবং পার্ল মিলেট চাষ করে কৃষকেরা নতুন আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অনুর্বর জমিতে রাগি চাষের ক্ষেত্রে লাভ-খরচের অনুপাত প্রায় ১.২৮, যা এই ফসলকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তুলেছে। এর ফলে শুধু কৃষকদের আয়ই বাড়ছে না, বরং জীবিকার বৈচিত্র্য বাড়ছে, ঝুঁকি কমছে এবং গ্রামীণ খাদ্যাভ্যাসে আবার ফিরে আসছে ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর শস্য।
পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় ইতিমধ্যে ১৫০ একরেরও বেশি জমিতে মিলেট চাষ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দীপালি মাহাতোর মতো কৃষকদের সাফল্যের গল্প আজ গ্রামের বহু নারীকে অনুপ্রাণিত করছে। তারা বুঝতে পারছেন, টেকসই কৃষি পদ্ধতি এবং নতুন ভাবনার মাধ্যমে অল্প জমিতেও সফল হওয়া সম্ভব। এই উদ্যোগগুলোই ধীরে ধীরে গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য সংস্কৃতিতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা করছে।
তাজকিরা বেগমের ‘কাঁথা বিপ্লব’ (Inspiring Rural Women Entrepreneurs From Bengal)
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নানুর গ্রামের বাসিন্দা তাজকিরা বেগম একসময় সংসারের চাপে পড়েই শুরু করেছিলেন সেলাইয়ের কাজ। পুরোনো শাড়ি দিয়ে কাঁথা সেলাই করে পরিবারের খরচে সাহায্য করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই সময় দিনে তাঁর আয় ছিল মাত্র ১৫–২০ টাকা—যা দিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভবই ছিল। তবে তাজকিরা বেগম থেমে থাকেননি। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি একটি এনজিও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে তিনি কাঁথা সেলাইয়ের আধুনিক নকশা, মান উন্নয়ন এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে নতুনভাবে শিখতে শুরু করেন। এই প্রশিক্ষণ তাঁকে শুধু দক্ষই করে তোলেনি, দিয়েছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও।
এরপর তিনি নিজের গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self-Help Group) গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে আরও বহু মহিলাকে এই কাজে যুক্ত করেন। তাজকিরা বেগম নিজেই হয়ে ওঠেন প্রশিক্ষক। তাঁর হাত ধরে শত শত গ্রামীণ নারী কাঁথা সেলাই শিখে নিজেদের আয় করার পথ খুঁজে পান। সময় যত এগিয়েছে, তাঁর উদ্যোগও তত বড় হয়েছে। এক সময় গ্রামের ছোট কাজ হিসেবে শুরু হওয়া এই কাঁথা শিল্প পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। আজ তাঁর তৈরি কাঁথা এবং তাঁর দলের কাজ রপ্তানি হচ্ছে জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও।
বর্তমানে তাজকিরা বেগমের উদ্যোগে প্রায় ৬০০ জন নারী কাজ করছেন। তাদের মাসিক আয় এখন প্রায় ২,৫০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামের মেয়েদের শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক মর্যাদা—সবকিছুই বেড়েছে। তাজকিরা বেগমের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি ব্যবসার গল্প নয়, এটি এক গ্রামের সামাজিক পরিবর্তনের গল্প—যেখানে একজন নারীর স্বপ্ন আজ শত শত নারীর জীবনে নতুন আলো জ্বালিয়েছে।
মায়া খানের সৌরচালিত কৃষি উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার সিমুরালি গ্রামের বাসিন্দা মায়া খান গ্রামীণ কৃষিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শুষ্ক ও অনুর্বর অঞ্চলে কৃষিকাজকে আরও কার্যকর করে তুলতে তিনি শুরু করেছেন সৌরশক্তি চালিত জৈব কৃষি (Solar-Powered Organic Farming)–এর উদ্যোগ। প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায়, তারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
মায়া খানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে i-IDEATE–এর মতো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পান। সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের জমিতে সৌরশক্তি নির্ভর সেচ ব্যবস্থা ও জৈব চাষ পদ্ধতি চালু করেন।
বাঁকুড়ার মতো অপেক্ষাকৃত শুষ্ক অঞ্চলে এই পদ্ধতি কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে জল ও বিদ্যুতের ব্যবহারও কমছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কৃষি করার ফলে জমির উর্বরতাও দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আজ মায়া খান শুধু নিজের ক্ষেতেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি আশপাশের কৃষকদেরও এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করছেন। তাঁর উদ্যোগ গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও টেকসই কৃষি (Sustainable Farming)–এর একটি আশাব্যঞ্জক দিশা দেখাচ্ছে। তাঁর এই কাজ প্রমাণ করে যে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং উদ্যোগ থাকলে গ্রামবাংলার মাটিতেও পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় লেখা সম্ভব।
অদ্বৈত বোধি ফাউন্ডেশন (Inspiring Rural Women Entrepreneurs From Bengal)
নদিয়া জেলার একটি ছোট গ্রামে, যা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত, সেখানে মাত্র কুড়ি বছরের রূপালি প্রতিদিনই নিজের জীবনে একাধিক ভূমিকা পালন করতেন। দিনে তিনি ছিলেন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী—কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছিলেন। আর রাতে সংসারের খরচ চালাতে কাজ করতেন শ্রমিক হিসেবে, গ্রামের রাস্তায় টার বসানোর কাজে যুক্ত থাকতেন।
২০২১ সালের শুরুর দিকে তাঁর গ্রামের কাছে একটি ডিজিটাল লিটারেসি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। রূপালি তখনই এই সুযোগটি লুফে নেন, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ডিজিটাল জ্ঞান ভবিষ্যতে তাঁর জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। এর জন্য যদি কয়েকদিনের দৈনিক মজুরি ছাড়তে হয়, তাতেও তিনি দ্বিধা করেননি। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, শুধু মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না; কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার শেখা অবশ্যই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এই কর্মশালার মাধ্যমেই রূপালি হয়ে ওঠেন অদ্বৈত বোধি ফাউন্ডেশন (Advaita Bodhi Foundation)–এর প্রথম দিকের ছাত্রছাত্রীদের একজন। এই বেসরকারি সংস্থাটি শুরু করেছিলেন দম্পতি সায়ন্তনী চক্রবর্তী এবং সুচয়ন মণ্ডল। অদ্বৈত বোধি ফাউন্ডেশন মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে সামনে রেখে কাজ করে—ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি (Digital Inclusion), আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion), গ্রামীণ মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা (Quality Education) এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরি (Rural Entrepreneurship)।
সায়ন্তনী, যিনি একসময় একটি সুপরিচিত প্রকাশনা সংস্থার সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন, এবং তাঁর সাংবাদিক স্বামী সুচয়ন—দুজনেই আগে নয়ডায় থাকতেন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন দূরবর্তী কাজ বা রিমোট ওয়ার্ক সাধারণ হয়ে ওঠে, তখন তারা নিজেদের শহর কল্যাণীতে ফিরে আসেন। সেখানে ফিরে এসে তারা খুব কাছ থেকে দেখতে পান গ্রামের মানুষের বাস্তব সমস্যা। অনলাইন শিক্ষার সুযোগ থাকলেও অনেকের হাতেই স্মার্টফোন থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি ব্যবহার করতে জানতেন না—ইউটিউব ভিডিও দেখা বা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই পরিস্থিতিই তাদের ভাবিয়ে তোলে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় গ্রামীণ মানুষের জন্য ডিজিটাল শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ।
মমতা নাড়ুর টার্কি খামার
পশ্চিমবঙ্গের কিছু গ্রামে আজ প্রমাণ হয়ে গেছে যে সঠিক সুযোগ ও একতা থাকলে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Group)–এর মাধ্যমে নারীরাও সফলভাবে জীবিকা গড়ে তুলতে পারেন। শুধু নিজেদের উপার্জনের পথই নয়, তারা গড়ে তুলেছেন একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল। এই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ হলেন মমতা নাড়ু, যিনি গ্রামীণ নারীদের জন্য এক নতুন আশার দিশা দেখিয়েছেন। সীমিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লাভজনক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন—টার্কি পাখি পালন করে।
পশ্চিমবঙ্গের বনহুগলি এলাকার বলরামপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা ছিল কৃষিকাজ। প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবাহিত জীবনে মমতা নাড়ুও ছিলেন একেবারে সাধারণ গৃহবধূ। কিন্তু একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, জীবনে নতুন কিছু করতে হবে।
মমতা নাড়ু এবং বলরামপুরের পাশাপাশি নোনা ও জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের কিছু নারী একসঙ্গে প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে সঞ্চয় করতে শুরু করেন। সেই সঞ্চয় থেকেই তারা তৈরি করেন একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যার মাধ্যমে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমদিকে তারা সেলাই, সবজি চাষ এবং মাছ চাষের মতো কাজ শুরু করেছিলেন। কারণ পশুপালন বা প্রাণী পালন করতে বিশেষ দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরে তারা সেই চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তারা যান কৃষি বিকাশ কেন্দ্র (Krishi Vikas Kendra)–এ, যেখানে তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে টার্কি পাখি পালন শেখেন। এই ব্যবসাটি যে বেশ লাভজনক হতে পারে, তা তারা সেখানেই বুঝতে পারেন।
আজ সেই নারীরা শুধু টার্কি পালনই করছেন না, বাজারে তাদের মাংস বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন (Inspiring Rural Women Entrepreneurs From Bengal)। আরও বড় বিষয় হল, তারা খরচ কমানোর জন্য একটি অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করছেন—আজোলা (Azolla) নামের একটি জলজ ফার্ন গাছ, যা প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজে সমৃদ্ধ। এই আজোলা টার্কির খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে পালন খরচ অনেকটাই কমে গেছে। মমতা নাড়ু এবং তাঁর সহযাত্রী নারীরা আজ দেখিয়ে দিয়েছেন, একতা, প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোগ থাকলে গ্রামীণ নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, গ্রামবাংলার নারীদের আত্মবিশ্বাস এবং স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায়ও লিখছে।
এই সব গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কুর্নিশ—কারণ তাদের হাত ধরেই বদলে যাচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি ও সমাজ।
#RuralWomenEntrepreneurs #WomenEmpowerment #BengalWomen #InspiringWomen #SelfHelpGroup #RuralEntrepreneurship #WomenSuccessStories #WestBengal #SustainableLivelihood #InspiringRuralWomenEntrepreneurs
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ঘরশত্রু বিভীষণ কি ইরানের সংকটের কারণ হল? আমেরিকা কোন বিশেষ বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে?
- বই পড়লে কি মন শান্ত হয়? জানুন, স্ট্রেস কমাতে কীভাবে এই বিশেষ থেরাপি কাজ করে
- গোলাপি মণীশ মলহোত্রা শাড়িতে নজর কাড়লেন সারা তেন্ডুলকর! অর্জুন-সানিয়ার রাজকীয় বিয়েতে চাঁদের হাট, জানুন অন্দরমহলের অজানা গল্প
- কে এই নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি? জানুন তাঁকে নিয়ে তামিলনাড়ুর সমস্ত বিতর্ক ও যাবতীয় তথ্য
- কেন পদত্যাগ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের? কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

