Jadavpur University Clash: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা, এসএফআই ও এবিভিপির পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসা এবং ক্যাম্পাসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার পর প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরেও বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। যাদবপুর নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শমীক ভট্টাচার্য।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক অশান্তির আবহে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বিজেপির শাখা সংগঠন নয়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের ভিতরের রাজনীতিতে বিজেপি সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বিজেপির নিজস্ব কোনও ছাত্র সংগঠন বা ট্রেড ইউনিয়ন নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবিভিপি কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে কোনও অশান্তি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিজেপির বিধায়ক সেখানে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
পতাকা পোড়ানো নিয়েও বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে শমীক বলেন, পতাকা পোড়ানো বিজেপির সংস্কৃতি নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে এবং মানুষের রায়ের উপরেই দলের আস্থা রয়েছে।
ক্যাম্পাসের ভিতরে বিজেপি থাকবে না, স্পষ্ট বার্তা শমীকের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসের ভিতরের কোনও বিষয়ে বিজেপি হস্তক্ষেপ করবে না। তাঁর বক্তব্য, এবিভিপি একটি স্বতন্ত্র ছাত্র সংগঠন এবং তারা নিজেদের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করবে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপির কোনও নিজস্ব ছাত্র সংগঠন নেই। ফলে এবিভিপির কর্মসূচি বা জমায়েতকে সরাসরি বিজেপির সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পতাকা পোড়ানো বিজেপির সংস্কৃতি নয়
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাতের মধ্যে পতাকা পোড়ানোর অভিযোগ ঘিরেও সরব হন শমীক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা পোড়ানো বিজেপির সংস্কৃতি নয়।
তাঁর বক্তব্য, এবিভিপি নিজেদের স্বতন্ত্র ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করে এবং তাদের কার্যকলাপের সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থানকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
বিধায়কের যাদবপুরে যাওয়া নিয়েও ব্যাখ্যা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপির এক বিধায়কের ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে শমীকের যুক্তি, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিজের এলাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ভিতরের কোনও বিষয়ে বিজেপি হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়লে এবং সেখানে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি সেখানে যেতে পারেন।
‘দখলের রাজনীতি’ নিয়ে কী বললেন?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বিজেপির কোনও ‘দখলের রাজনীতি’র পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে। জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি এই ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
তাঁর বক্তব্য, বিজেপি চাইলে অনেক আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু দল সেই পথে যায়নি। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেছে। মানুষের ভোটের মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে—এই বিশ্বাসের কথাই তুলে ধরেন তিনি।
শমীকের কথায়, “মানুষের উপরে আমাদের আস্থা আছে। মানুষই মানুষের কাজ করে দেবে।”
যাদবপুর নিয়ে বিজেপির অবস্থান কী?
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে তিনটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, বিজেপি এবিভিপিকে নিজেদের শাখা সংগঠন হিসেবে দেখছে না। দ্বিতীয়ত, ক্যাম্পাসের ভিতরের ছাত্র রাজনীতিতে বিজেপি সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। তৃতীয়ত, ক্যাম্পাসের বাইরে অশান্তি ছড়ালে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি সামাল দিতে যেতে পারেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
#JadavpurUniversity #JadavpurUniversityClash #SFI #ABVP #StudentPolitics #CampusViolence #KolkataNews #WestBengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

