Kharmas 2026 zodiac effects: ১৫ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে খরমাস ২০২৬, যা চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। জ্যোতিষ মতে এই সময়ে বিয়ে, গৃহপ্রবেশ বা বড় বিনিয়োগের মতো শুভ কাজ এড়িয়ে চলা হয়। তবে কিছু রাশির জন্য মানসিক স্থিরতা ও পরিকল্পনার সময়ও হতে পারে। জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সামনেই হয়তো বাড়িতে দাদা বা দিদির বিয়ের কথা চলছে। পরিবারে সবাই মিলে আলোচনা, কোথায় বিয়ে হবে, কবে হবে, কীভাবে অনুষ্ঠান হবে—এসব নিয়েই ব্যস্ততা। কিন্তু এই সময়ই অনেক সময় বাড়ির বড়োদের মুখে শোনা যায় একটা কথা—এখন খরমাস চলছে, এই সময় বিয়ের কথা এগোবে না। পরের মাসে আবার আলোচনা করা যাবে।”
অনেকেই তখন অবাক হয়ে ভাবেন, এই খরমাস আসলে কী? আর কেন এই সময়ে বিয়ে বা অন্য কোনো শুভ অনুষ্ঠান করা হয় না? মার্চ মাসের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এক বিশেষ সময়। সূর্য যখন নিজের রাশি পরিবর্তন করে মীন রাশিতে প্রবেশ করেন, তখন শুরু হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষীয় পর্যায়—যাকে বলা হয় খরমাস। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী এই সময়টিকে সাধারণত শুভ কাজের জন্য অনুকূল মনে করা হয় না। তাই বিয়ে, গৃহপ্রবেশ, নামকরণ বা অন্য মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান অনেক পরিবারেই এই সময়ে করা হয় না।
আরও পড়ুন : যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?
২০২৬ সালেও একই নিয়মে ১৪ মার্চ মধ্যরাতের পর সূর্য মীন রাশিতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে খরমাস শুরু হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সময় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক কৌতূহল থাকে—কেন এই সময়ে শুভ কাজ করা হয় না, কতদিন থাকবে এই সময়, আর কোন কোন রাশির উপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। এই প্রতিবেদনে থাকছে সেই সব প্রশ্নের সহজ ব্যাখ্যা।
মীন সংক্রান্তি কী এবং কেন শুরু হয় খরমাস?
জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যের রাশি পরিবর্তনকে বলা হয় সংক্রান্তি। প্রতি মাসেই সূর্য এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে যান এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিভিন্ন জ্যোতিষীয় ফল। যখন সূর্য বৃহস্পতির রাশি—ধনু বা মীন রাশিতে প্রবেশ করেন, তখন সেই সময়কে খরমাস বলা হয়। এই সময় সূর্যের শক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল বা স্থির বলে মনে করা হয়। তাই নতুন শুভ কাজ শুরু করার জন্য এই সময়কে অনুকূল মনে করা হয় না। ২০২৬ সালে সূর্য ১৪ মার্চ রাত ১টা ৪ মিনিটের সময় মীন রাশিতে প্রবেশ করেছে। এই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছে খরমাসের সময়কাল। জ্যোতিষ মতে সূর্যের এই অবস্থান প্রায় এক মাস থাকে।
খরমাস কতদিন থাকে? (Kharmas 2026 zodiac effects)
সাধারণভাবে খরমাসের সময়কাল প্রায় এক মাস। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হবে খরমাস এবং এই সময় চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।আবার শুরু হবে বিয়ে ও অন্যান্য শুভ কাজের শুভ লগ্ন। অর্থাৎ প্রায় ৩০ দিনের মতো এই সময়কাল থাকে। এর পরে সূর্য অন্য রাশিতে প্রবেশ করলে আবার মাঙ্গলিক কাজের শুভ সময় ফিরে আসে। প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এই সময় সূর্যের শক্তি পূর্ণভাবে কার্যকর থাকে না। সূর্যকে শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের অগ্রগতির প্রতীক ধরা হয়। তাই সূর্যের অবস্থান দুর্বল হলে নতুন সূচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সূর্যের গতি ধীর হয়ে যায়, গ্রহগুলোর শুভ প্রভাব কম থাকে, নতুন কাজের ফল প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে, এই কারণেই এই সময়ে সাধারণত বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, মুন্ডন, জেনেউ বা নামকরণ ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা হয় না। তবে অনেক জ্যোতিষী বলেন, এই সময় সম্পূর্ণ অশুভ নয়। বরং এটি আত্মবিশ্লেষণ ও প্রস্তুতির সময়।
খরমাসে কোন কাজ করা ভালো (Kharmas 2026 zodiac effects)
যদিও বড় মাঙ্গলিক কাজ এড়ানো হয়, তবু কিছু কাজ এই সময়ে বিশেষভাবে ভালো বলে মনে করা হয়। পুজো, জপ, ধ্যান বা দান করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়। নতুন কাজ শুরু না করে পরিকল্পনা করা বা পড়াশোনায় মন দেওয়া এই সময়ে ভালো। অনেকেই বলেন খরমাসে পুরনো বা অসমাপ্ত কাজ শেষ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। নতুন বছরের আগে নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ঠিক করার জন্য এই সময় অনেকেই ব্যবহার করেন।
খরমাসে কোন কাজ এড়িয়ে চলা উচিত? (Kharmas 2026 zodiac effects)
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী খরমাসের সময় শুভ কাজ করা এড়িয়ে চলাই ভালো বলে মনে করা হয়। এই সময় সূর্যের অবস্থান জ্যোতিষ মতে খুব শক্তিশালী থাকে না, তাই নতুন কোনো বড় বা মাঙ্গলিক কাজ শুরু করার জন্য সময়টিকে অনুকূল ধরা হয় না। তাই এই সময়ে সাধারণত বিবাহ অনুষ্ঠান, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু, গাড়ি কেনা, জমি বা বাড়ি কেনা, নতুন সম্পত্তি কেনা কিংবা বড় কোনো বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে শুরু করা কাজ অনেক সময় প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।
এই কারণেই বহু পরিবার ও জ্যোতিষ মত অনুযায়ী এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা অনুষ্ঠান খরমাস শেষ হওয়ার পরই করা হয়, যখন আবার শুভ লগ্ন শুরু হয়। এতে কাজের সফলতা ও স্থায়িত্বের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে মনে করা হয়।
খরমাসে কোন রাশির জন্য বাড়তে পারে সমস্যা
২০২৬ সালের খরমাসে কিছু রাশির জন্য একটু বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
মিথুন রাশি
মিথুন রাশির মানুষের ক্ষেত্রে এই সময় কিছু মানসিক চাপ বাড়তে পারে। নতুন কাজ শুরু করলে সমস্যা বাড়তে পারে। চাকরি বা ব্যবসায় ওঠানামা থাকতে পারে, তাই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া আপাতত না নেওয়াই ভালো।
তুলা রাশি
তুলা রাশির জন্য এই সময়টা একটু অস্থির হতে পারে। মানসিক দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ধনু রাশি
ধনু রাশির মানুষদেরও এই সময় সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ছাত্রদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যেতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী সূর্যকে জীবনের শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। সূর্য মানুষের জীবনে উদ্যম, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং অগ্রগতির শক্তি সঞ্চার করে বলে বিশ্বাস করা হয়। কিন্তু যখন এই সূর্য বৃহস্পতির রাশি—ধনু বা মীন রাশিতে অবস্থান করে, তখন তার শক্তি কিছুটা কম কার্যকর বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ মতে এই সময় সূর্যের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর বা স্থির থাকে। ফলে কয়েকদিনের জন্য তার প্রভাব আগের মতো সক্রিয় থাকে না।
কোন রাশির জন্য ভালো হতে পারে
জ্যোতিষমতে খরমাসের সময় সব রাশির উপর একই রকম প্রভাব পড়ে না। কিছু রাশির জন্য এই সময় তুলনামূলকভাবে শান্ত ও ইতিবাচকও হতে পারে। বিশেষ করে কর্কট, বৃশ্চিক এবং মীন রাশির জাতকদের জন্য এই সময় কিছু ভালো দিক দেখা যেতে পারে বলে অনেক জ্যোতিষী মনে করেন। এই রাশির মানুষদের ক্ষেত্রে এই সময়ে মানসিক স্থিরতা, পরিকল্পনা করার সুযোগ এবং আধ্যাত্মিক চর্চার আগ্রহ বাড়তে পারে। নতুন বড় কাজ শুরু না করলেও পুরনো কাজ গুছিয়ে নেওয়া বা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার জন্য সময়টি উপযোগী হতে পারে।
এছাড়াও ধীরে-সুস্থে কাজ করলে পারিবারিক শান্তি, সম্পর্কের উন্নতি এবং ব্যক্তিগত উন্নতির সুযোগও তৈরি হতে পারে। তাই অনেক জ্যোতিষ মতে, এই সময়টিকে অশুভ না ভেবে ধৈর্য ধরে নিজের লক্ষ্য ঠিক করার সময় হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
এর প্রভাবেই বলা হয়, এই সময়ে অন্যান্য গ্রহের শুভ দৃষ্টিও তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর হয়ে পড়ে (Kharmas 2026 zodiac effects)। তাই নতুন কোনো কাজ বা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ শুরু করলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। এই বিশ্বাস থেকেই প্রাচীনকাল থেকে খরমাসের সময় বিবাহ, গৃহপ্রবেশ বা অন্য কোনো শুভ অনুষ্ঠান না করার প্রথা চালু রয়েছে। সাধারণত খরমাস শেষ হওয়ার পরই এই ধরনের মাঙ্গলিক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
#MeenSankranti #GhoroMash #AstrologyBengali #ZodiacGuide #NewsOffBeat
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে

