নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অষ্টমীর সন্ধ্যা যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে কলকাতার বড় দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড়। উত্তর কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা সম্মিলনী, সুরুচি সংঘ—সর্বত্রই পুজো দেখার জন্য মানুষের ঢল। আর এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ভিড় নিয়ন্ত্রণে শহরের একাধিক পুজোমণ্ডপে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ‘সোলার লাঠি’। পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছবি তুলে মণ্ডপের ভিতরে ভিড় বাড়িয়ে না তোলেন, সে জন্য চেতলা অগ্রণীতে মাইকে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য কলকাতার বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা এবং ভিড়ের চাপ সামলানোই এখন পুলিশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ভিড় সামলাতে মণ্ডপে মণ্ডপে ‘সোলার লাঠি’
এবারের দুর্গাপুজোয় কলকাতা পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় বিশেষ নজর কেড়েছে ‘সোলার লাঠি’। শহরের একাধিক বড় পুজোমণ্ডপে এই বিশেষ লাঠি ব্যবহার করে দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা।
বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মেলনীতে এই উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপে প্রবেশ করতে চাইলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং মণ্ডপের সামনে অযথা জমায়েত কমাতে সোলার লাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুজোর দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের মতে, এই লাঠি ব্যবহার করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কাজ অনেকটাই সহজ হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দর্শনার্থীদের চলাচল সচল রাখতে এই উদ্যোগ উপযোগী বলে মনে করছেন তাঁরা।
চেতলা অগ্রণীতে কড়া ঘোষণা, বেশি সময় ছবি তুললে মোবাইল বাজেয়াপ্তের সতর্কতা
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো চেতলা অগ্রণীতে ভিড় সামলাতে নেওয়া হয়েছে আরও একটি কড়া পদক্ষেপ। বিকেল চারটে থেকেই মাইকে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ ঘোষণা করা হচ্ছে।
সেই ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, মণ্ডপে প্রবেশ করে কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে অতিরিক্ত সময় নিলে তাঁর ফোন বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুজো শেষ হওয়ার পরে নির্দিষ্ট দিনে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে।
মূলত মণ্ডপের ভিতরে দর্শনার্থীরা যাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকেন এবং পিছনের সারিতে অপেক্ষারত মানুষ দ্রুত এগোতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ঘোষণা করা হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে কেউ বেশি সময় দাঁড়িয়ে ছবি তুললে দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। তাই মণ্ডপের ভিতরে মানুষের যাতায়াত সচল রাখতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই ঘোষণা অনুযায়ী বাস্তবে কোনও দর্শনার্থীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
চেতলা থেকে ত্রিধারা, বড় পুজোগুলিতে পুলিশ আধিকারিকদের নজরদারি
দক্ষিণ কলকাতার বড় পুজোগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের তৎপরতাও চোখে পড়ছে। চেতলা অগ্রণী, সুরুচি সংঘ এবং ত্রিধারা সম্মিলনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুজোমণ্ডপগুলিতে নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন মিরাজ খালিদ।
তাঁর সঙ্গে সহকারী দায়িত্বে রয়েছেন প্রিয়ব্রত রায়। পাশাপাশি দক্ষিণ বিভাগের উপনগরপাল রাহুল দে এবং বেতার বিভাগের উপনগরপাল শুভ্রেন্দু কুমারও বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।
পুজোর ভিড়ে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, দর্শনার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে কি না এবং মণ্ডপের সামনে অতিরিক্ত ভিড় জমছে কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।
পুলিশের মূল লক্ষ্য, বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদে প্রতিমা দর্শন করে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
দেশপ্রিয় পার্ক থেকে একডালিয়া, নজরদারিতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও
শুধু চেতলা অগ্রণী বা ত্রিধারা সম্মেলনী নয়, দক্ষিণ কলকাতার অন্যান্য জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
দেশপ্রিয় পার্কের মতো বড় পুজোয় নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন বিশেষ টাস্ক বাহিনীর উপমহাপরিদর্শক রূপেশ কুমার। অন্যদিকে একডালিয়া এভারগ্রিন এবং সিংহী পার্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন যানবাহন বিভাগের উপমহাপরিদর্শক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য।
সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় মণ্ডপগুলির আশপাশের পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতের পথ সচল রাখার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অষ্টমীর রাতে কলকাতার পুজোমণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। একদিকে সোলার লাঠির ব্যবহার, অন্যদিকে মাইকে সতর্কবার্তা এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়মিত মণ্ডপ পরিদর্শন—সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, উৎসবের আনন্দের মধ্যেও যেন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কোনও খামতি না থাকে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

