Kolkata Restaurant Food License Suspension: খাদ্য সুরক্ষা বিধি না মানায় কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের ফুড লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে রিপন স্ট্রিটের করিংস, নিজামস, বাইপাসের শিমলা বিরিয়ানি ও নাগেরবাজারের আর্সেনাল। নিম্নমানের, পচা ও ছত্রাকযুক্ত খাবার মেলার অভিযোগে এই পদক্ষেপ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। স্বাস্থ্য দপ্তর ও কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, শহরের মোট ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের ফুড লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নামী রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং শপিং মলের ফুড কোর্টে তল্লাশি চালানো হয়। সেই অভিযানে সামনে এসেছে খাবার তৈরির জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পচা খাবার, ছত্রাকযুক্ত পনির, মাংস ও মাছ, আরশোলা-পোকামাকড়ের উপস্থিতি এবং দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা খাবারের মতো একাধিক অনিয়ম।
৪০টি খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় কড়া পদক্ষেপ
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা এক সপ্তাহ ধরে কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিপণিতে অভিযান চালান। সূত্রের খবর, প্রায় ১৭০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। সেই অভিযানে একাধিক জায়গায় খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
এই অনিয়মের ভিত্তিতেই ৪০টি কেন্দ্রের ফুড লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিযানে কোথাও পচা খাবার পাওয়া গিয়েছে, কোথাও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা খাবারে ছত্রাক দেখা গিয়েছে। আবার কোথাও খাবার তৈরির জায়গায় আরশোলা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে।
কলকাতার ওয়াটারলু স্ট্রিট থেকে পার্ক স্ট্রিট এবং বিভিন্ন শপিং মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। এক্রোপলিস, সাউথ সিটি-সহ একাধিক শপিং মলের ফুড কোর্টে তল্লাশি চালিয়ে একই ধরনের অনিয়মের ছবি সামনে এসেছে বলে সূত্রের খবর। অভিযানের সময় প্রায় দেড় টন খাবার নষ্ট করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র মারফৎ জানানো হয়েছে।
খাবার তৈরির জায়গায় ছিল না ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি
অভিযানে সবচেয়ে বড় যে অনিয়মটি ধরা পড়েছে বলে জানানো হচ্ছে, তা হল খাবার তৈরির জায়গায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাব। খাবার যেখানে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ।
শুধু রান্নার জায়গাই নয়, খাবার তৈরির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। খাবার কীভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা হবে, সেই নিয়মও অনেক ক্ষেত্রে মানা হয়নি বলে সূত্রের বক্তব্য।
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের নজরে এসেছে, বেশ কিছু জায়গায় খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের চিহ্ন বা ডেট ট্যাগ ছিল না। ফলে কোন খাবার কখন তৈরি হয়েছে বা কতদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা বোঝার উপায় ছিল না। কোথাও আবার পচে যাওয়া খাবারও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ফ্রিজে সংরক্ষণ করা খাবারের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। আগে ব্যবহার করার কথা থাকা খাবারের পরিবর্তে পুরনো খাবার সংরক্ষণ করে রাখার ঘটনাও অভিযানে ধরা পড়েছে।
পচা খাবার, ছত্রাক আর পোকামাকড়ের উপস্থিতি
তল্লাশিতে খাবারের মান নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পনির, মাংস এবং মাছের মতো খাদ্যসামগ্রীতে ছত্রাকের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কোথাও খাবার দীর্ঘদিন ধরে রেখে দেওয়ার কারণে তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
খাবার তৈরির জায়গায় আরশোলা, পোকামাকড় এবং অন্যান্য কীটপতঙ্গ পাওয়া গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। খাবারের সংস্পর্শে থাকা জায়গায় এই ধরনের পোকামাকড়ের উপস্থিতি খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে।
অভিযানে এমন কিছু খাবারের ছবিও সামনে এসেছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের ফলে খাবারে ছত্রাক ধরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরই সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিরিয়ানির রং নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ
খাবারের মানের পাশাপাশি খাবারে ব্যবহৃত রং নিয়েও অভিযান চলাকালীন গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, কোথাও মিষ্টির দোকানে ব্যবহৃত রং সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা কার্সিনোজেনিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমনকি বাড়ির দেওয়াল রং করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক খাবারে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরিয়ানিতে ব্যবহৃত রং নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
করিমসের ক্ষেত্রেও খাবারে ব্যবহৃত রং নিয়ে আগে অভিযোগ ধরা পড়েছিল বলে সূত্রের বক্তব্য। একইভাবে শিমলা বিরিয়ানির বিরুদ্ধেও খাবারে ব্যবহৃত রং নিয়ে অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে এবং তাদের ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রিপন স্ট্রিটের করিমসের লাইসেন্সও সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজামসের ফুড লাইসেন্স, বাইপাসের সিমলা বিরিয়ানি ও নাগেরবাজারের আরসানাল সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। তবে শুধু এই কয়েকটি নামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই নয়, মোট ৪০টি খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে লাইসেন্স সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স সাসপেন্ডের পর হবে প্রশিক্ষণ
শুধু শাস্তিমূলক পদক্ষেপেই বিষয়টি শেষ করা হচ্ছে না। যেসব রেস্তোরাঁ ও খাবারের কেন্দ্রের ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
খাবার কীভাবে সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে, কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং খাদ্য সুরক্ষার নিয়মগুলি কীভাবে মেনে চলতে হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের গাইডেন্স দেওয়া হবে। এই উদ্দেশ্যে একটি কর্মশালার আয়োজন করার কথাও জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রশাসনের পদক্ষেপের একদিকে যেমন লাইসেন্স সাসপেন্ড করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিকে সঠিক খাদ্যবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর ও কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, খাবারের মান, রান্নার পরিবেশ এবং খাদ্য সংরক্ষণের নিয়ম নিয়ে এই অভিযানেই একাধিক গুরুতর অনিয়ম সামনে এসেছে। সেই কারণেই ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
#kolkatarestaurantfoodlicensesuspension #kolkatarRestaurants #foodlicensesuspension #kolkatafoodsafety #foodsafetydepartment #kolkatamunicipalcorporation #restaurantlicense
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

