পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলেন মহাকাল মন্দিরের (Mahakal Temple Siliguri)। ভোটের আগে বড় চমক। উত্তরবঙ্গের মানুষকে তিনি দিলেন উপহার। জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় রচনা হলো আজ। আগেই তিনি দীঘাতে জগন্নাথের মন্দির তৈরি করেছিলেন। কলকাতা দুর্গা পুজোকে বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরতে দূর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস করেন নিউ টাউনে। আর এবার উত্তরবঙ্গ। শিলিগুড়ির কাছে মাটিগাড়াতে আজ শিলান্যাস করলেন মহাকাল মন্দিরের। মন্দিরের নাম দিয়েছেন ‘মহাতীর্থ মহাকাল মন্দির’। মন্দির সম্পর্কে তিনি নিজেই বিস্তারিত জানিয়েছেন শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রী জানান এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম মহাকাল মন্দির। প্রত্যেকদিন মন্দিরে এক লক্ষ দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। বাংলার উত্তর-দক্ষিণ মিলনের প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে এই প্রকল্প। একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে সংস্কৃতি— দুইয়ের সেতুবন্ধন ঘটাতে চলেছে ‘মহাতীর্থ মন্দির শিলিগুড়ি’। ১৭.৪১ একর জমির উপর এই মন্দির নির্মাণ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের এই প্রত্যেকটি জায়গা সারা বিশ্বের ভ্রমণপ্রেমী মানুষদের আকৃষ্ট করবে বলেই তিনি মনে করেছেন। যেখানে ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশের মেলবন্ধন ঘটবে।
মন্দিরে গেলে কী কী দেখবেন? (Mahakal Temple Siliguri)
- বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি এখানে তৈরি করা হবে।
- মূর্তির উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট।
- মূর্তিটি হবে ব্রোঞ্চের।
- জমি দেবে রাজ্য সরকার। মন্দিরের প্যাডেস্ট্রিয়াল ব্লকে থাকবে নন্দী গৃহ।
- ১২ টি লিঙ্গ মন্দির থাকবে। যেখানে ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতি মূর্তি থাকবে।
- মন্দিরের দুটি প্রবেশ দ্বার থাকমন্দিরটি শেষ হতে সময় লাগবে।
- এছাড়াও আরো চারজন দেবতার পুজো এখানে করা হবে। গনেশ, কার্তিক, বিষ্ণু নারায়ন, শক্তি।
- বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে মহাকালের মাহাত্ম্য দেখানো হবে।
‘মহাকাল’ শব্দটি মহাদেবের এক রূপ, যিনি সময় ও মৃত্যুর অতীত। আর ‘মহাতীর্থ’ মানে সেই স্থান, যেখানে আত্মা ও বিশ্বাসের মিলন ঘটে। এই নামকরণে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য স্পষ্ট — বাংলার মাটিকে শুধু উন্নয়নের ক্ষেত্র নয়, আত্মিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করা।
ভারতীয় সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হবে এই মন্দির স্থাপনের মাধ্যমে (Mahakal Temple Siliguri)। সেই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতেই এই অভিনব উদ্যোগ। এই মন্দির কে কেন্দ্র করেই আশেপাশের অঞ্চলে হোটেল, রেস্তোরা গড়ে তুলতেও রাজ্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সমস্ত কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে ট্রাস্ট কে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই এই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। তিনি আরো বলেছেন যে শুভ দিন দেখেই তিনি এই মন্দিরের শিলান্যাস করেছেন। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট মানুষজনেরা, ট্রাস্টের সদস্যরা । মন্দিরের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আড়াই বছর। বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, আধুনিক স্থাপত্য, কর্মসংস্থান ও পর্যটন — এই শক্তিকে একত্রে বেঁধে দিচ্ছে “মহাতীর্থ মন্দির শিলিগুড়ি” প্রকল্প।
MahatirthaMandir, #MahakalTemple, #Siliguri, #Matigaratemple, #MahakalTempleSiliguri, #NorthBengal, #westbengaltourism

