নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে তৃণমূল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপিকে কোনওভাবেই সমর্থন করা হবে না এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের সঙ্গে লড়াই করা হবে।
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হলদিয়ায় মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন সঞ্চিতা দে প্রধান। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে নন্দীগ্রাম নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান জানান।
নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা
সঞ্চিতা দেব প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পরই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, নন্দীগ্রামে তৃণমূল নতুন করে কোনও প্রার্থী দেবে না। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করা হবে।
“নন্দীগ্রামে আমরা কংগ্রেসকে সমর্থন করব, ইন্ডিয়া জোটে লড়ব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানান, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের সঙ্গে তাঁরা স্বাভাবিক জোটের অবস্থানেই থাকবেন। কোনওভাবেই বিজেপিকে সমর্থন করা হবে না বলেও তিনি জানিয়ে দেন।
রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন রয়েছে। সেই আসনে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘মায়ের কাছ থেকে সন্তানকে কেড়ে নিল’
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক এবং জোড়াফুল প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত আবেগের কথা।
এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন—
“যদি কেউ সত্যি তৃণমূলকে ভালোবাসত, তাহলে তার মাকে কেড়ে নিত না।”
তিনি আরও বলেন—
“মায়ের কাছ থেকে সন্তানকে কেড়ে নিল।”
তৃণমূলের কর্মীদের আবেগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের কর্মীরা সারা রাত কেঁদেছেন, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরে আনন্দের পরিবেশ দেখা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি তীব্র আক্রমণ করেন ঋতব্রত শিবিরকে।
‘সারা দেশে ঝড় উঠেছে, বিজেপি এবার দেশ থেকে আউট হবে’
বক্তব্যে বিজেপিকেও সরাসরি নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সারা দেশে ঝড় উঠেছে এবং এবার বিজেপি দেশ থেকে চলে যাবে।
“সারা দেশে ঝড় উঠবে এবার, ঝড় উঠেছে বিজেপি এবার দেশ থেকে আউট হবে।”
বিজেপির বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন তিনি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বৃহত্তর জোটের স্বার্থে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন
নিজের বক্তব্যে সংবিধানের ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন রাজনৈতিক দলের মানুষের নিজের মতো করে চলাফেরার স্বাধীনতা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও যদি তাঁর স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। রাজনৈতিক দলের মানুষের চলাফেরার অধিকার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, সংবিধানের ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ কোথায় এবং একটি রাজনৈতিক দলের মানুষের কি নিজের মতো করে চলাফেরার স্বাধীনতা নেই?
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর দলের নির্বাচন, প্রশ্ন মমতার
তৃণমূল কংগ্রেসের নামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি জানান, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তৃণমূল স্তর থেকে দলের নির্বাচন হয়। সেই কারণেই দলের নাম তৃণমূল কংগ্রেস।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে ব্লক এবং জেলা স্তর পর্যন্ত দলের নির্বাচন হয়। সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন—
“প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তৃণমূল স্তর থেকে দলের নির্বাচন হয় আর সেই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস।”
তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে নির্বাচন হয়েছিল এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে নির্বাচন হয়েছে। এই সাংগঠনিক নির্বাচনের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করেই তিনি প্রশ্ন তোলেন—
“তাহলে আমাদের সঙ্গে এই প্রতারণা কেন?”
‘আমরা মাথা নত করব না’
দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তাঁরা লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না। তিনি বলেন, এই লড়াই তাঁরা চালিয়ে যাবেন এবং আবার ঘুরে দাঁড়াবেন।
“আমরা মাথা নত করব না। আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব এবং আমরা ঘুরে দাঁড়াব।”
তিনি আরও জানান, তাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, দলের কর্মীদের সংগ্রাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত আবেগের প্রসঙ্গ তুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা দে প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং তার পরেই কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা—এই দুই ঘটনাকে ঘিরেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে দলের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রেজিনগর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
#mamataBanerjee #mamataBanerjeenandigram #nandigram #nandigrambypoll #nandrigramelection #congresssupport #trinamoOlcongress #tmcsymboldispute #rytabratabanerjee #sanchitadepradhan #indiaalliance #westbengalpolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

