শীতের দুপুরে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি আর বেগুন ভাজা—বাঙালির আল্টিমেট কমফোর্ট ফুড। কিন্তু আপনার খিচুড়ি কি প্রায়ই গলে যায় বা তলায় ধরে যায়? চিন্তা নেই! আজ শিখে নিন চাল ও জলের সঠিক অনুপাত এবং শীতের সবজি দিয়ে তৈরি সেরা খিচুড়ি গলে যায়? জানুন চাল-ডাল ও জলের সঠিক অনুপাত। শীতের সবজি দিয়ে তৈরি সেরা Masala Khichdi Recipe—স্বাদে ও গন্ধে একদম ভোগের মতো। যা হবে একদম ভোগের মতো ঝরঝরে ও সুস্বাদু।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: জানলার বাইরে উত্তুরে হাওয়া, আকাশটা হয়তো একটু মেঘলা, আর গায়ে জড়ানো হালকা চাদর। এমন দিনে কি আর মাছ-ভাত খেতে ইচ্ছে করে? মনটা তখন থেকেই উসখুস করে একটু গরম গরম খিচুড়ির জন্য। সঙ্গে যদি থাকে বেগুন ভাজা, পাপড় আর সামান্য আচার—ব্যাস! শীতের দুপুর একেবারে জমে ক্ষীর।
খিচুড়ি বাঙালির ইমোশন হলেও, এটি রান্না করা কিন্তু খুব একটা সহজ নয়। বিশেষ করে ‘ঝরঝরে ভুনা খিচুড়ি’ বা ‘ভাজা মুগের খিচুড়ি’ বানাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খান। কখনো জল বেশি হয়ে খিচুড়ি একদম প্যাচপ্যাচে হয়ে যায়, আবার কখনো চাল সেদ্ধ হতে চায় না। আবার শীতের সবজিগুলো—যেমন ফুলকপি বা মটরশুঁটি—কখন দেবেন, সেটা না বোঝার ফলে গলে মিশে যায়।
আরও পড়ুন : হঠাৎ অতিথি এলে এই ৭টি Quick Snack রেসিপি রাখুন মনে | চটজলদি আপ্যায়ন
আসলে, একটি পারফেক্ট খিচুড়ির রহস্য লুকিয়ে আছে তার ‘পরিমাপে’ বা রেশিওতে। কতটা চালের সঙ্গে কতটা ডাল এবং ঠিক কতটা জল দিলে খিচুড়ি হবে মোমের মতো নরম অথচ একটার সঙ্গে একটা দানা লাগবে না—সেটাই হলো আসল আর্ট।
আজ ‘ভোজ-ON’ আপনাদের শেখাবে সেই পারফেক্ট এবং অথেনটিক রেসিপি। শীতের টাটকা ফুলকপি, গাজর আর কড়াইশুঁটি দিয়ে তৈরি এই ‘মসালা খিচুড়ি’ শুধু স্বাদে নয়, গন্ধেও মাতাবে আপনার রান্নাঘর। প্রেসার কুকার নয়, কড়াইতে বা হাড়িতে কীভাবে এই ম্যাজিক করবেন, আসুন দেখে নিই।
বানাতে যা যা লাগবে (সঠিক পরিমাপ)
একটি পারফেক্ট খিচুড়ির জন্য চাল ও ডালের অনুপাত সমান হওয়া চাই। অর্থাৎ ১ কাপ চাল হলে ১ কাপ ডাল।
প্রধান উপকরণ:
- চাল: গোবিন্দভোগ চাল – ১ কাপ (বা ২০০ গ্রাম)। বাসমতি চাল দিয়েও হবে, তবে গোবিন্দভোগের গন্ধে খিচুড়ি অন্য মাত্রা পায়।
- ডাল: সোনা মুগের ডাল – ১ কাপ (২০০ গ্রাম)।
- সবজি: ফুলকপি (বড় টুকরো), গাজর (ডুমো করা), বিনস, মটরশুঁটি, নতুন আলু (দু-টুকরো করা) – সব মিলিয়ে ২ কাপ।
- মশলা: আদা বাটা – ১ চামচ, কাঁচা লঙ্কা – ৪-৫টি, জিরে গুঁড়ো – ১ চামচ, হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চামচ করে।
- ফোড়ন: তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে, গোটা গরম মশলা (এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি)।
- অন্যান্য: সর্ষের তেল, ঘি (২ চামচ), লবণ ও চিনি।
- জল: ৪ কাপ (চাল ও ডালের মোট পরিমাণের দ্বিগুণ)।
বানাবেন যে ভাবে
ধাপ ১: চাল-ডাল প্রস্তুতি প্রথমে কড়াইতে মুগের ডাল শুকনো খোলায় ভাজুন। ডাল থেকে সুন্দর ভাজা গন্ধ বেরোলে এবং রং সামান্য লালচে হলে নামিয়ে ধুয়ে নিন। গোবিন্দভোগ চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। (চাল ও ডাল ভিজিয়ে রাখার দরকার নেই, শুধু জল ঝরিয়ে রাখবেন)।
ধাপ ২: সবজি ভাজা কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করুন। সামান্য লবণ ও হলুদ দিয়ে ফুলকপির টুকরো এবং আলুর টুকরোগুলো লালচে করে ভেজে তুলে নিন। ফুলকপি আগে না ভাজলে পরে গলে যাবে। গাজর ও বিনস হালকা সতে (Sauté) করে নিন।
ধাপ ৩: মশলা কষানো ওই তেলেই তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে এবং গরম মশলা ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বেরোলে আদা বাটা এবং কাঁচা লঙ্কা দিন। একটু নেড়ে গুঁড়ো মশলাগুলো (হলুদ, জিরে, লঙ্কা) সামান্য জল দিয়ে গুলে কড়াইতে দিন। মশলা থেকে তেল ছাড়া পর্যন্ত কষান।
ধাপ ৪: চাল ও ডাল ভাজা (সবথেকে জরুরি ধাপ) মশলা কষানো হলে জল ঝরানো চাল ও ডাল কড়াইতে দিয়ে দিন। মিডিয়াম আঁচে ২-৩ মিনিট মশলার সঙ্গে চাল-ডাল ভাজুন। এই ধাপটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। চাল-ডাল তেলের সঙ্গে ভাজা হলে খিচুড়ি ঝরঝরে হয়। এরপর ভেজে রাখা সবজিগুলো (মটরশুঁটি বাদে) দিয়ে দিন।
ধাপ ৫: জলের ব্যবহার এবার পাশের ওভেনে ফুটিয়ে রাখা গরম জল (ঠিক ৪ কাপ) ঢেলে দিন। মনে রাখবেন, চাল+ডাল যতটা, তার ঠিক দ্বিগুণ জল লাগবে। স্বাদমতো লবণ দিন।
ধাপ ৬: দমে রান্না জল ফুটে উঠলে গ্যাস কমিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। ১০-১২ মিনিট হতে দিন। মাঝখানে একবার ঢাকনা খুলে মটরশুঁটি এবং স্বাদমতো চিনি দিন (খিচুড়ি একটু মিষ্টি মিষ্টি ভালো লাগে)। আবার ঢাকা দিন।
ধাপ ৭: ফিনিশিং টাচ জল যখন শুকিয়ে চাল-ডালের গায়ে গায়ে চলে আসবে, তখন ওপর থেকে ২ চামচ ঘি এবং সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। গ্যাস বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রেখে দিন (Standing Time)। ব্যাস! তৈরি আপনার পারফেক্ট ঝরঝরে খিচুড়ি।
রান্নার গোপন টিপস (Chef’s Tricks)
১. গরম জল: ভুল করেও ঠান্ডা জল দেবেন না। এতে রান্নার প্রসেস স্লো হয়ে যায় এবং খিচুড়ি পাানসে হয়ে যায়। সবসময় ফুটন্ত জল ব্যবহার করুন। ২. সবজি: ফুলকপি এবং মটরশুঁটি খুব তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়। তাই মটরশুঁটি একদম শেষে দেবেন এবং ফুলকপি বড় টুকরো করে ভাজবেন। ৩. টেক্সচার: যদি দেখেন জল শুকিয়ে গেছে কিন্তু চাল সামান্য শক্ত, তবে আধা কাপ গরম জল ছড়িয়ে দিয়ে আবার ঢাকা দেবেন। নাড়াচাড়া বেশি করবেন না, তাহলে চাল ভেঙে যাবে।
পুষ্টিবিদরা কী বলছেন?
শীতকালে আমাদের জল খাওয়া কম হয়, কিন্তু খিচুড়িতে সবজি ও ডাল থাকায় এটি ফাইবার ও প্রোটিনের দারুণ উৎস। এটি সহজপাচ্য এবং শরীর গরম রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা আলুর পরিমাণ কমিয়ে সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে এটি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু | এটা কি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি চক্রান্ত?
- স্টেজ আছে, গান আছে—তবু Playback নয় কেন? অরিজিৎ সিং কি ক্লান্ত নাকি বদলের ইঙ্গিত?
- হঠাৎ অতিথি এলে এই ৭টি Quick Snack রেসিপি রাখুন মনে | চটজলদি আপ্যায়ন
- নতুন বছরে ট্রাভেল ফান্ড জমাবেন কীভাবে? রইল ৯টি জাদুকরী টিপস
- দিনে কতবার ফেসওয়াশ? বেশি ধুলে কি ত্বক ভালো থাকে নাকি ক্ষতি হয়? জানুন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের আসল রায়

