মেজিয়া স্টিলে পনেরো হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘিরে নতুন আশার আলো। Mejia Steel Investment প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় কুড়ি হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর বড় শিল্প বিনিয়োগের ঘোষণা সামনে এল বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেজিয়ায় স্যাম স্টিলের স্টিল ডিভিশনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংস্থা।
স্টিল ডিভিশনে ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ
স্যাম স্টিল গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁকুড়ার মেজিয়ায় তাদের বিদ্যমান ইস্পাত কারখানার সম্প্রসারণে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ও আবাসন প্রকল্পেও নতুন বিনিয়োগ
শুধু ইস্পাত শিল্প নয়, প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অবকাঠামো, আবাসন এবং টাউনশিপ-সহ একাধিক নতুন প্রকল্পেও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অতিরিক্ত প্রকল্পগুলির মাধ্যমে আরও প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
মোট ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
সব মিলিয়ে এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে স্যাম স্টিল গ্রুপ। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কারখানা গড়ে উঠলে শুধু সরাসরি চাকরিই নয়, পরিবহণ, সরবরাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, হোটেল, দোকান-সহ একাধিক ক্ষেত্রেও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর আশা শিল্পে নতুন গতি আসবে
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী জানালেন?
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে শিল্পের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার কোনওরকম আপস করবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম কাজ ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। শিল্পাঞ্চলে গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেট, কাটমানি বা জোর করে টাকা তোলার মতো কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। কারখানার গেটে তালা লাগানো, ভাঙচুর বা উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারখানার ক্ষতি করলে তার তিনগুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, “নো সিন্ডিকেট, নো কাটমানি, নো উসুলি”—এই নীতিতেই সরকার চলছে। কোথাও এমন অভিযোগ পেলেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
জমি নিয়ে নতুন নীতি
শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগের সরকারের মতো জোর করে জমি অধিগ্রহণের পথে তারা হাঁটবেন না। বামফ্রন্ট আমলে বলপ্রয়োগ করে জমি নেওয়া হয়েছে, আর তৃণমূল সরকারের সময় বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জমি কিনতে বলা হতো। বর্তমান সরকার সেই দুই নীতির বাইরে গিয়ে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ‘ল্যান্ড পারচেজ স্কিম’-এর মাধ্যমে শিল্পের জন্য যতটা জমি প্রয়োজন, সরকারই তা কিনে বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেবে। ফলে শিল্পপতিদের জমি নিয়ে আর আলাদা সমস্যায় পড়তে হবে না।
কর্মসংস্থানই হবে প্রণোদনার মূল ভিত্তি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পে প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, সেটাই একমাত্র বিবেচ্য হবে না। কতজনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, সেটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল রেখেছে। ভবিষ্যতে এই তহবিল আরও বাড়ানো হবে।
এক জানলায় সব অনুমোদন
১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী শিল্পসংস্থাগুলিকে আর পঞ্চায়েত, পুরসভা বা জেলা পরিষদের দফতরে ঘুরতে হবে না বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স, এনওসি-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন এক জানলা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি রাজ্য সরকারই দেবে। সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমস্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এতে শিল্পপতিদের অযথা হয়রানি বা স্থানীয় স্তরে কোনও অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
অবকাঠামোতেও সরকারের সহায়তা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও নতুন শিল্পপ্রকল্প নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় জল, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সহায়তা সরকার নিজের দায়িত্বে নিশ্চিত করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম দুই বছর শিল্পসংস্থাগুলিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কড়া বার্তা
শুধু শিল্প স্থাপন নয়, পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্যাম স্টিলের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজ্যের অন্য শিল্পগুলিকেও একইভাবে দূষণ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব কারখানা অতিরিক্ত দূষণ ছড়াচ্ছে, তাদের উদ্দেশে তিনি গাছ লাগানো, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেন, “মাথা উঁচু করে বিনিয়োগ করুন। পশ্চিমবঙ্গে এখন শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি করুন, সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।”
মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা
বাঁকুড়ার মেজিয়া দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। নতুন এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে এলাকায় শিল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এর ফলে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।
#MejiaSteelInvestment #WestBengal #Bankura #SteelIndustry #IndustrialInvestment #Jobs #SuvenduAdhikari #Employment #IndiaBusiness #Manufacturing

