Mrit Sanjibani Rahoshyo: মৃত সঞ্জীবনী রহস্য ঘিরে যুগ যুগ ধরে বিস্ময় ও বিতর্ক চলেছে। পুরাণের অলৌকিক কাহিনি, প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি—সবকিছুর মিলিত আলোচনায় উঠে আসে এক প্রশ্ন: সত্যিই কি মৃত্যু জয় করা সম্ভব, নাকি এটি কেবল মানব কল্পনার চিরন্তন স্বপ্ন?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মৃত সঞ্জীবনী রহস্য—শুনলেই যেন মনে পড়ে পুরাণের বিস্ময়কর গল্প, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত যোদ্ধাকে জীবিত করে তোলার অলৌকিক শক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি মৃতকে জীবিত করা সম্ভব? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ, চিকিৎসা প্রযুক্তি আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে ‘ক্লিনিক্যাল ডেথ’ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে বহু ক্ষেত্রে।
ভারতে ও বিশ্বজুড়ে Cardiac Arrest-এর পর সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার হার গত দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। WHO-এর তথ্য বলছে, সময়মতো CPR ও Defibrillation পেলে বহু মানুষ “মৃত্যু” থেকে ফিরে আসছেন। তাহলে কি প্রাচীন ‘মৃত সঞ্জীবনী’ বিদ্যার পেছনে কোনো বাস্তব চিকিৎসা জ্ঞান লুকিয়ে ছিল? এই প্রতিবেদনে আমরা জানব পুরাণ, আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে মৃত সঞ্জীবনীর আসল সত্য।
রামায়ণ-এর কাহিনিতে আমরা দেখি, যুদ্ধে আহত লক্ষ্মণকে বাঁচাতে হনুমান হিমালয়ের দ্রোণগিরি পর্বত থেকে ‘সঞ্জীবনী বুটি’ নিয়ে আসেন। সেই ভেষজ প্রয়োগেই লক্ষ্মণ পুনরায় জীবিত হন—এমনটাই বলা হয়েছে কাহিনিতে। এই গল্প শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের বিশ্বাস ও কল্পনায় বেঁচে আছে। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিক ও ভেষজ গবেষক মনে করেন, সঞ্জীবনী বুটি হয়তো কোনো বিরল ভেষজ উদ্ভিদ ছিল, যার ছিল তীব্র পুনরুজ্জীবন ক্ষমতা—বিশেষত শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞানতা বা মারাত্মক আঘাতের ক্ষেত্রে।
ভারতীয় প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্র সুশ্রুত সংহিতা এবং চরক সংহিতা-তে এমন বহু ভেষজ ও শল্যচিকিৎসার উল্লেখ রয়েছে যা আধুনিক সার্জারির পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত। ‘মৃত সঞ্জীবনী’ শব্দটি হয়তো সরাসরি শারীরিক মৃত্যুকে বোঝায়নি। অনেক গবেষকের মতে, এটি ছিল “প্রাণ সংকট” বা গভীর অজ্ঞান অবস্থাকে বোঝানোর রূপক। প্রাচীন আয়ুর্বেদে ‘প্রাণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শ্বাস-প্রশ্বাস ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতাই ছিল তার মূল ভিত্তি। অর্থাৎ, যাকে আমরা আজ Coma বা Cardiac Arrest বলি, প্রাচীন চিকিৎসকরা সেটাকেই হয়তো ‘মৃতপ্রায়’ বলে উল্লেখ করতেন। সঠিক সময়ে সঠিক ভেষজ বা শল্যচিকিৎসা প্রয়োগ করলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতেন—এবং সেই ঘটনাই লোককথায় “মৃত থেকে জীবিত” হয়ে যাওয়ার গল্পে রূপ নেয়।
ক্লিনিক্যাল ডেথ বনাম বায়োলজিক্যাল ডেথ
চিকিৎসা বিজ্ঞানে মৃত্যুর দুটি ধাপ আছে। হৃদস্পন্দন ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হওয়াকে বলা হয় ‘ক্লিনিক্যাল ডেথ’। এই অবস্থায় আধুনিক CPR বা Defibrillation-এর মাধ্যমে অনেককেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু যখন মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে শুরু করে (৪-৬ মিনিট পর), তখন তাকে বলা হয় ‘বায়োলজিক্যাল ডেথ’। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এই দ্বিতীয় পর্যায়টি নিয়েই গবেষণা করছেন। বিশ্বজুড়ে বহু হাসপাতাল এখন উন্নত Life Support প্রযুক্তির মাধ্যমে মৃতপ্রায় রোগীদের ফিরিয়ে আনছে। কিন্তু Biological Death হলে—অর্থাৎ মস্তিষ্কের কোষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে—তাকে পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান বিজ্ঞানের পক্ষে অসম্ভব।
সত্যিই কি মৃতকে জীবিত করা সম্ভব?
মৃত সঞ্জীবনী রহস্য নিয়ে বহু বিতর্ক থাকলেও, বৈজ্ঞানিক সত্য হলো—সম্পূর্ণ জৈবিক মৃত্যু থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা এখনও সম্ভব হয়নি। তবে ‘মৃতপ্রায়’ অবস্থা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি আজ বাস্তব সত্য। হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বুকে চাপ দিয়ে ও শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখার জরুরি পদ্ধতি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন কিংবা কোষ পুনর্জন্মভিত্তিক চিকিৎসা—এসবই প্রমাণ করে মানুষের হাতে জীবনের স্থায়িত্ব বাড়ানোর ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাচীন কাহিনির অলৌকিকতা হয়তো কল্পনার রঙে রঞ্জিত, কিন্তু তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিকিৎসাজ্ঞান ও ভেষজ বিজ্ঞানের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। সম্ভবত ‘মৃত সঞ্জীবনী’ ছিল এমন এক বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি বা বিরল ভেষজ উদ্ভিদ, যা দ্রুত প্রাণশক্তি ও চেতনাশক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম ছিল—আর সময়ের প্রবাহে সেই ঘটনাই কিংবদন্তির আকার ধারণ করেছে।
মৃত সঞ্জীবনী মূলত পুরাণের কাহিনি থেকে পরিচিত। ‘মৃত সঞ্জীবনী রহস্য’ আমাদের কৌতূহল জাগায়—কারণ এটি মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক: মৃত্যুকে জয় করার স্বপ্ন। পুরাণ আমাদের কল্পনাকে বিস্মিত করে, আর বিজ্ঞান সেই কল্পনাকে বাস্তবের মাটিতে দাঁড় করায়। হয়তো একদিন চিকিৎসা প্রযুক্তি আরও এগোবে—কিন্তু আপাতত, মৃত সঞ্জীবনী একটি সাংস্কৃতিক ও চিকিৎসা-ঐতিহাসিক রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

