Mukundapur TMC BJP Clash: মুকুন্দপুরে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষের পর পূর্ব যাদবপুর থানার সামনে ফের উত্তেজনা। উপাসনা চৌধুরীর উপর ডিম ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের পাশাপাশি রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় হুমায়ুন কবিরকে। তাঁকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মুকুন্দপুরে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পূর্ব যাদবপুর থানার সামনের এলাকা। থানার সামনে উপাসনা চৌধুরীর উপর ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে কালিঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর গাড়িতে ভাঙচুর চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। সেই মিছিলের মাঝেই বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব যাদবপুর থানার সামনেও।
এই ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। বিজেপির দাবি, তাঁদের দলের এক কর্মী মিছিলের ছবি ধারণ করছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর হামলা হয়। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, সেখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরী অভিযোগ করেন, মিছিলের মধ্যে তাঁর পোশাক টেনে ধরে তাঁর উপর হামলা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। উপাসনার দাবি, তাঁদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে আটক করে পূর্ব যাদবপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সন্ধ্যার দিকে পূর্ব যাদবপুর থানায় পৌঁছন প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবির-সহ কালীঘাটপন্থী একাধিক নেতা। হুমায়ুন কবিরের দাবি, দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়।
হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, বচসার পর তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। তাঁর চশমা ভেঙে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল এবং টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন কবির।
এরপর হুমায়ুন কবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে তিনি ঘটনার কথা জানান।
“পঞ্চাশ জন পুলিশের সামনে আমাকে মারা হয়েছে। ভদ্রভাবে, বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলাম যে আমি ভিতরে যেতে চাই। হঠাৎ আমাকে টেনে-ঘিসড়ে থানার সামনে মেরে ফেলে মারা হল। প্রচুর রক্ত বেরিয়েছে। একত্রিশ বছর চাকরি করেছি আমি, এরকম দেখিনি।”
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবিরের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির দাবি, নিজের পায়ে হোঁচট খেয়েই পড়ে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন বিজেপি কর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। উপাসনা চৌধুরীর উপর ডিম ছোড়ার অভিযোগ, তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর এবং হুমায়ুন কবিরকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পূর্ব যাদবপুর থানার সামনে পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত ছিল।
#MukundapurTMCBJPClash #MukundapurClash #UpasanaChowdhury #HumayunKabir #TMC #BJP #EastJadavpur #WestBengalPolitics #PoliticalClash

