Nepal Flash Flood: তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও সেতুর অংশ। নিখোঁজ ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও যাত্রী। মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। নেপাল সেনা ও পুলিশ উদ্ধারকাজে নেমেছে। নিখোঁজদের সন্ধানেই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে মনে করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা বরফ-পাথরের ধস নেমে থাকতে পারে। সেই ধস নদীর গতিপথে বাধা তৈরি করে আচমকা বিপুল জলরাশি নীচের দিকে নেমে এসে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি করে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই বিপর্যয়ে রসুয়া জেলার ভুটে কোশি নদী ও তার আশপাশের এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল জলস্রোতে ঘরবাড়ি, গাড়ি, সেতু, রাস্তা এবং বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে এবং শতাধিক মানুষের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভূমিকম্প থেকেই কি শুরু বিপর্যয়ের?
প্রাথমিক তদন্তে যে সম্ভাবনাটি সামনে এসেছে, তা হল—হিমালয়ের উঁচু এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পনে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ে নদীর গতিপথ আটকে দিতে পারে। পরে সেই জায়গায় জল জমে চাপ বাড়তে থাকলে বাধা ভেঙে বিপুল জলরাশি একসঙ্গে নীচে নেমে আসে। নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যেও এই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রাথমিক মূল্যায়নেও লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে সাময়িক বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সেই বাধার পিছনে জল জমে যাওয়ার পর তা হঠাৎ ভেঙে পড়লে ভুটে কোশি নদীতে আচমকা জলের প্রবাহ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ব্যাখ্যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
সকাল ৯টার পরেই আচমকা জলস্রোত
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে ভুটে কোশি নদীতে আচমকা জলস্রোত বাড়তে শুরু করে। জল ও কাদার প্রবল স্রোত চিনের দিক থেকে নেপালের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দিকে নেমে আসে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রসুয়া জেলার তিমুরে এবং স্যাফ্রুবেশি এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর সেই জলস্রোত ভুটে কোশি থেকে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে মেশে এবং নুওয়াকোট-সহ আরও কয়েকটি এলাকায় তার প্রভাব পড়ে। বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় পালানোর চেষ্টা করেন।
ভেসে গেল ঘর, সেতু, রাস্তা
হড়পা বানের শক্তি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে নদীর স্রোতে যানবাহন, বাড়ি, দোকানের সামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পত্তি ভেসে যায়। নুওয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের কাছে প্রায় ৬০টি বাড়ি জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
ত্রিশূলী নদীর উপর থাকা দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধারকাজেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাস্তা, বাজার, পুলিশ পোস্ট-সহ একাধিক সরকারি পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বড় ধাক্কা
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শুধু বসতি নয়, নেপালের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে ছয়টি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রাসুওয়াগাড়ি, চিলিমে, ত্রিশূলী-৩এ এবং দেবীঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও এর প্রভাব পড়েছে।
এখনও নিখোঁজ শতাধিক, উদ্ধারকাজে বাধা
দুর্গত এলাকায় বহু রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও প্রবল জলস্রোতের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল।
নেপাল সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজে নেমেছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যেও দুর্গত মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে কোথাও কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এবং উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে
ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস, নদীর গতিপথে সাময়িক বাধা এবং তার পরেই আকস্মিক জলমুক্তি—এই ঘটনাক্রমই বর্তমানে অন্যতম সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে বিজ্ঞানী ও কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিতভাবে চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেনি। বরফধসের পাশাপাশি হিমবাহ-সংক্রান্ত ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ মানুষদের দ্রুত খুঁজে বের করা। একই সঙ্গে নদীর জলস্তর, নতুন করে কোনও বাধা তৈরি হয়েছে কি না এবং আরও হড়পা বানের আশঙ্কা রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
#NepalFlashFlood #NepalFlood #IndianTouristsMissing #NepalTibetBorder #FlashFloodDisaster #NepalFloodNews #RescueOperation
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

