Nepal Flash Flood: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেসে গিয়েছে জনপদ, সেতু, রাস্তা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শনিবার, ২৩ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৬। এখনও ২,৪২৬ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা হয়েছে ৪,৪৫০ জনকে। এই প্রতিটি সংখ্যার পিছনেই রয়েছে একটি করে পরিবার, অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠা। বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকদের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বত থেকে আরও ১৫০ জন নিরাপদে নেপালে পৌঁছেছেন। চীনের দিকে থাকা প্রায় ৪০০ ভারতীয়ও নিরাপদে রয়েছেন। তবে এখনও ৩২০ জন ভারতীয়র সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ৩২ জন, যাঁরা ‘চলো যাই’ নামের ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে গিয়েছিলেন। তাঁদের পরিবারের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬, নিখোঁজ ২,৪২৬
শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নেপালে বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬২৬। এখনও ২,৪২৬ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪,৪৫০ জনকে।
বিপর্যয়ের পর থেকেই নেপালের একাধিক এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারীদের সামনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। টেলিফোন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বহু জায়গায় বিপর্যস্ত। ফলে দুর্গত এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছনো এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্ধারকাজ আরও তৎপর করার চেষ্টা চলছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তা, পাহাড়ি পথ এবং কাদায় ভরা বিস্তীর্ণ এলাকা পেরিয়েই উদ্ধারকারীদের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
কাঠমান্ডু স্বাভাবিক, ছয় জেলায় বিপর্যয়ের ছবি ভয়াবহ
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সরাসরি এই দুর্যোগের প্রভাব নেই। সেখানে জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বাইরে নেপালের ছয়টি জেলায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ধাদিং, নুয়াকোট, গোর্খা-সহ একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ফোটেকোশি নদীর ধার ঘেঁষা রসুয়া এবং নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয়ের ছবি ভয়াবহ।
বুধবারের পর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও শনিবার দুপুরের পর থেকে সেই কাজে আরও গতি আনার চেষ্টা চলছে। কাঠমান্ডু থেকে ধাদিং হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাতীয় সড়কের একটি অংশ আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।
রাস্তার উপর প্রায় ছয় থেকে সাত ফুট পর্যন্ত মাটির স্তর জমে গিয়েছিল। সকাল থেকে কাজ করে সেই স্তর সরানোর পর রাস্তার একটি অংশ দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ধাদিং হয়ে চিতওয়ান-সহ আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবার বাড়ছে নদীর জল, রয়েছে নতুন বিপদের আশঙ্কা
ভোটে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীতে ফের জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিব্বত-চীন সীমান্তের উঁচু এলাকায় থাকা একটি হ্রদ নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। প্রথমে হ্রদটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কার কথা সামনে এলেও পরে জানা যায়, সেটি ভাঙেনি, বরং জল উপচে পড়েছিল। ওই এলাকায় প্রায় ৫০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সেই জল উপচে কিছুটা নীচের দিকে নেমে এলেও এখনও তার সরাসরি প্রভাব পড়েনি। তবে ত্রিশূলী নদীতে জলস্তর কিছুটা বেড়েছে। নদীর জলে কাদা-মাটির স্তরও দেখা গিয়েছে। বুধবারের মতো ভয়াবহ জলচ্ছ্বাস অবশ্য শনিবার দেখা যায়নি।
তবু বিপদের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। হ্রদটি যদি কোনওভাবে ভেঙে যায়, তা হলে নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
৩২০ ভারতীয়র সঙ্গে এখনও যোগাযোগ নেই
নেপালের বিপর্যয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলির একটি হয়ে উঠেছে নিখোঁজ ভারতীয়দের সংখ্যা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বত থেকে আরও ১৫০ জন ভারতীয় নিরাপদে নেপালে পৌঁছেছেন।
চীনের দিকে থাকা প্রায় ৪০০ ভারতীয়ও নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এখনও ৩২০ জন ভারতীয়র সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এই ৩২০ জনের মধ্যেই রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন বাসিন্দা। তাঁরা ‘চলো যাই’ নামের একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গেও এখনও কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে কলকাতা থেকে যাওয়া পর্যটক এবং ওই ভ্রমণ সংস্থার দুই কর্মী-সহ তাঁদের পরিবারগুলির উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে।
পাহাড়ি এলাকায় টেলিফোন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা এখনও তাঁদের অবস্থান জানার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার হওয়ার খবরের জন্যও অপেক্ষা করছে পরিবারগুলি।
প্রতিকূলতার মধ্যেও থামেনি উদ্ধার অভিযান
রাস্তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, পাহাড়ি পথে জমেছে কাদা, অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন—তার মধ্যেও উদ্ধারকারীরা কাজ থামাননি। বুধবারের পর থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান শনিবার আরও তৎপর করার চেষ্টা চলছে।
ধাদিং-সহ ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি জেলায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি কোথাও মাটির নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, কোথাও কোনও দেহ চাপা পড়ে রয়েছে কি না, সেই খোঁজও চালানো হচ্ছে।
এই বিপর্যয়ে ভারতও নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকে চিকিৎসক এবং বিশেষ সুরঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা চলছে।
নেপালের পরিস্থিতিতে তাই একদিকে যেমন মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ। ৬২৬ জনের মৃত্যু, ২,৪২৬ জন নিখোঁজ এবং ৪,৪৫০ জনের উদ্ধার—এই সংখ্যাগুলির প্রতিটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের জীবন, পরিবারের অপেক্ষা এবং নিরাপদে ফিরে আসার আশায় থাকা অসংখ্য মানুষ।
#NepalFlashFlood #NepalFlood #FlashFlood #FloodWarning #NepalDisaster #EarlyWarningSystem #Hydropower
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

