Nepal Flood Disaster: ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালের একাধিক জেলায় চলছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারত ৫৭ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী এবং ১১ সদস্যের বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক:নেপালের ভয়াবহ ভোতে কোশি নদীর হড়পা বানের পর অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের সাহায্যের কথা তুলে ধরলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। বিপর্যয়ের পর নেপাল সরকার নিজেদের হাতে থাকা সমস্ত সম্পদ কাজে লাগিয়ে উদ্ধারকাজ চালালেও পরিস্থিতির ব্যাপকতার কারণে বিশেষায়িত সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ভারত থেকে পাওয়া ত্রাণসামগ্রী এবং বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে নেপাল সরকার। বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং বিপর্যয়ের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ভারত-সহ বন্ধু ও সহযোগী দেশগুলির পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে নেপাল।
বিপর্যয়ের পর ভারতের সাহায্যের কথা জানাল নেপাল
নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানান, ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ হড়পা বানের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভারতের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ৫৭ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।
শুধু ত্রাণসামগ্রী নয়, উদ্ধারকাজের ক্ষেত্রেও ভারতের বিশেষায়িত সহায়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গ খোলা, দুর্গত এলাকায় জীবিত মানুষকে শনাক্ত করার প্রযুক্তি, দ্রুত ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো বিশেষ ক্ষেত্রে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।
ভারত থেকে ১১ সদস্যের বিশেষায়িত কারিগরি সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। নেপালের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধারকাজকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
প্রথম দিনেই মোদীর সঙ্গে কথা, জয়শঙ্করের সঙ্গেও যোগাযোগ
নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানান, বিপর্যয়ের প্রথম দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য সাহায্যের আশ্বাস দেন।
তিনি নিজেও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নেপাল যোগাযোগ রাখছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে।
চিন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া-সহ অন্যান্য দেশ থেকেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইতিমধ্যে পাওয়া ত্রাণসামগ্রীর পরিমাণ এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারের জন্য পাঠানো বিশেষায়িত দলের কথা।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সংহতি, শুভেচ্ছা ও সাহায্যের প্রস্তাবের জন্য নেপাল কৃতজ্ঞ।
৬২৬ দেহ উদ্ধার, এখনও প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনের খোঁজ নেই
ভোতে কোশি নদীর বিপর্যয়ের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনও চলছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৬২৬টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, দুর্গত এলাকা থেকে ৪ হাজার ৪৫১ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মানুষের মধ্যে ১৮৭ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, প্রাদেশিক ও স্থানীয় প্রশাসন, চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সরকারি ভাবে যাচাই না করে কোনও তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।
শুধু উদ্ধার নয়, পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন
নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিপর্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বাড়িঘর, জল সরবরাহ ব্যবস্থা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে।
নেপাল মনে করছে, বিপর্যয়ের মাত্রা এতটাই ব্যাপক যে শুধু উদ্ধার ও ত্রাণ নয়, পরবর্তী সময়ে পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনের বিস্তারিত মূল্যায়নের পর নির্দিষ্ট সহায়তার কথা জানানো হবে।
বিদেশমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন, নেপাল আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন কিছু খবর ছড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের ব্যাপকতার কারণে নেপালের এখন উদ্ধার, ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রয়োজন।
এই বিপর্যয়ের জন্য নেপাল সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলও রয়েছে। দেশ-বিদেশে থাকা নেপালি এবং বিদেশি নাগরিকেরা সেই তহবিলে অর্থ দিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
বিপর্যয়ের মধ্যেও নেপালের বার্তা, দেশ পুরোপুরি বন্ধ নয়
ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরও নেপালের অধিকাংশ পর্যটন এলাকা খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাঠমান্ডু, পোখরা, লুম্বিনী, চিতওয়ান, জনকপুর এবং জনপ্রিয় পাহাড়ি ভ্রমণ ও অভিযানের অঞ্চলগুলির অধিকাংশই খোলা রয়েছে। এভারেস্ট অঞ্চলও খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, এই বিপর্যয়ের প্রভাব নেপালের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পড়েছে। দেশের অধিকাংশ সীমান্ত, পরিকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বড় অংশে স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে নদীগুলির জলপ্রবাহ এবং ভাটির দিকে বন্যার ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন করে বন্যার আশঙ্কার জন্য ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকার, চিকিৎসা এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা একসঙ্গে অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে নেপাল প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। সেই সহযোগিতার প্রসঙ্গেই সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের সাহায্যের কথা বিশেষ ভাবে তুলে ধরলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী।
#NepalFlood #NepalDisaster #BhoteKoshiFlood #IndiaSupport #NarendraModi #ShishirKhanal #NepalRescue #FloodRelief
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

