Petrol Diesel Price Hike in India: পেট্রোল-ডিজেলের দামে লাগামহীন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে কেন বাড়ছে জ্বালানির খরচ জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ বড় ধাক্কা খেয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আমেরিকা ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জল্পনা বাড়তেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে এসেছে ব্যারেল প্রতি ৯৯ ডলারের নিচে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বাজারে আশার সুর তৈরি হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমতে পারে। আর সেই প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৮১ ডলারে। একইভাবে WTI ক্রুডও ৪.৬৮ শতাংশ কমে ৯২.০৮ ডলারে নেমেছে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতে উল্টো বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। সোমবার সকাল ৬টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে পেট্রোল লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেল ২.৭১ টাকা করে বেড়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—যখন বিশ্ববাজারে দাম কমছে, তখন ভারতে কেন আগুন লাগছে জ্বালানির দামে? এর পেছনে রয়েছে একাধিক অর্থনৈতিক ও নীতিগত কারণ।
টাকার দুর্বলতাই বড় কারণ (Petrol Diesel Price Hike in India)
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেল কেনাবেচা হয় মার্কিন ডলারে। ফলে শুধু তেলের দাম কমলেই ভারতের সুবিধা হয় না, দেখতে হয় ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির অবস্থাও। ধরা যাক, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ কমলো। কিন্তু একই সময়ে যদি ডলারের তুলনায় রুপির মান ৩-৪ শতাংশ পড়ে যায়, তাহলে ভারতের আমদানি খরচ কার্যত খুব বেশি কমে না। বরং অনেক সময় আগের তুলনায় বেশি খরচ পড়ে যায়।
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে রুপির উপর চাপ বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতীয় তেল সংস্থাগুলোর আমদানি খরচ সেইভাবে কমছে না।
পুরনো বেশি দামের তেলের বোঝা
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার প্রভাব রাতারাতি পাম্পে দেখা যায় না। কারণ ভারতীয় রিফাইনারিগুলো আগেই বড় পরিমাণ কাঁচা তেল কিনে স্টক করে রাখে। সেই তেল যদি বেশি দামে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে নতুন দাম কমলেও পুরনো খরচের ভিত্তিতেই বাজারে দাম নির্ধারণ হয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক তেল কেনাবেচা দীর্ঘমেয়াদি কনট্রাক্টের মাধ্যমে হয়। ফলে আজ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার পুরো সুবিধা ভারতের খুচরা বাজারে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ বা অনেক সময় কয়েক মাসও লেগে যায়।
এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়—বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভারতের সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিক স্বস্তি পান না।
করের চাপে সাধারণ মানুষ (Petrol Diesel Price Hike in India)
ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের বড় অংশই আসে কর থেকে। কেন্দ্রের এক্সাইজ ডিউটি এবং রাজ্য সরকারের ভ্যাট মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানির মোট দামের ৫০ শতাংশেরও বেশি কর হিসেবে যোগ হয়।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম কমলেও সরকার যদি কর না কমায়, তাহলে সাধারণ মানুষের পকেটে সেই স্বস্তি পৌঁছায় না। বরং অনেক সময় রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে কর অপরিবর্তিত রাখা হয় বা বাড়ানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে জ্বালানির দাম শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করে না; সরকারের রাজস্ব নীতিও বড় ভূমিকা পালন করে।
পুরনো লোকসান তুলছে তেল সংস্থাগুলো?
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক সময়ই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সরকারি তেল সংস্থাগুলো সবসময় সেই হারে দাম বাড়াতে পারেনি।
IOC, BPCL এবং HPCL-এর মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন কম দামে জ্বালানি বিক্রি করে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। এখন ধাপে ধাপে সেই লোকসান তুলতেই একসঙ্গে বড় দামে বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।
এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “Accumulated Loss Recovery”। অর্থাৎ, আগে যে ক্ষতি হয়েছে, এখন বাজার পরিস্থিতি সামলে সেটি পুষিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শান্তি চুক্তির প্রভাব এত দ্রুত আসে না
আমেরিকা ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবর আন্তর্জাতিক বাজারে আশাবাদ তৈরি করলেও বাস্তবে সেই চুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। যদি সত্যিই চুক্তি হয়, তাহলে ইরানের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের সরবরাহ বাড়বে।
তবে সেই অতিরিক্ত সরবরাহ বাজারে পুরোপুরি কার্যকর হতে সময় লাগে। তেল উৎপাদন, রপ্তানি, শিপমেন্ট এবং রিফাইনারি পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়লেও ভারতের পাম্পে তার প্রভাব তাৎক্ষণিক দেখা যায় না।
আগামী দিনে কি কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? (Petrol Diesel Price Hike in India)
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন কম থাকে, রুপির অবস্থাও স্থিতিশীল হয় এবং সরকার কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসে ভারতের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশীয় অর্থনীতি, করনীতি এবং তেল সংস্থাগুলোর মূল্য নির্ধারণ নীতির কারণেই ভারতীয় গ্রাহকদের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।
#PetrolPrice #DieselPrice #FuelPriceHike #CrudeOil #BrentCrude #WTI #IndiaFuelPrice #OilMarket #EnergyNews #FuelCrisis
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

