নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সেই শপথের ২৫ বছর পূর্ণ হল। দেশের সরকারের শীর্ষে টানা ২৫ বছর দায়িত্ব পালনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। তিনি বললেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সেবা করার সুযোগ পাবেন, ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি তা ভাবেননি।
এই ২৫ বছরের পথচলায় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে পৌঁছেছেন মোদী। এই সময়ে বিধানসভা ও লোকসভা—দুই ধরনের নির্বাচনেই মানুষের সমর্থন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের মানুষ, গণতন্ত্র ও সংবিধানকে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও তাঁর ২৫ বছরের ধারাবাহিক নেতৃত্বের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল ২৫ বছরের পথচলা
নরেন্দ্র মোদীর সরকারের শীর্ষে থাকা দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার শুরু ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর। ওই দিন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বুধবার সেই দিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শপথ নেওয়ার সময় তিনি কখনও ভাবেননি যে একদিন এই পর্যায়ে এসে পৌঁছবেন।
২৫ বছর পর সেই শুরুর দিনের দিকে ফিরে তাকিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে মানুষের সমর্থনের কথা। তিনি জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়েছে সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সমর্থনের কারণে।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে গুজরাটে একাধিক নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে দল জয় পায়। সেই রাজ্য রাজনীতি থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা জাতীয় স্তরে বিস্তৃত হয়।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে জাতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। ফলে ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুরু হওয়া সরকারের শীর্ষে থাকার যাত্রা ২৫ বছর অতিক্রম করেছে।
এই দীর্ঘ সময়ে একাধিক নির্বাচন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বুধবারের বক্তব্যে সেই পুরো সময়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার মানুষের দেওয়া দায়িত্বের কথাই সামনে এনেছেন।
“মানুষ বারবার আমাকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন”
২৫ বছর পূর্তির দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল দেশের মানুষ। তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ে বিধানসভা নির্বাচন হোক বা লোকসভা নির্বাচন—মানুষ তাঁকে বারবার দেশ ও রাজ্যের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।
মানুষের এই আস্থার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল দেশের নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ। তিনি জানিয়েছেন, মানুষের সমর্থন ও আশীর্বাদ ছাড়া এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হত না।
এই প্রসঙ্গেই ভারতের গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের সম্পর্ক গভীর। কারণ, নির্বাচনের মাধ্যমেই মানুষ নেতৃত্ব বেছে নেন এবং সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেই তিনি একাধিকবার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
তাই নিজের ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের মাইলফলককে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেননি প্রধানমন্ত্রী। বরং তিনি এই সময়কে মানুষের দেওয়া দায়িত্ব এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
বিধানসভা থেকে লোকসভা—বিভিন্ন নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়নে মানুষের রায়কে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, সামনে এল ‘দেশ আগে’ ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের ধারাবাহিক নেতৃত্ব পূর্ণ হওয়ার উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একটি অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সেই প্রস্তাবে গুজরাট থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে তাঁর প্রশাসনিক চিন্তার সঙ্গে ‘দেশ আগে’ এবং ‘নাগরিক আগে’—এই দুই ভাবনাকে যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুজরাটে নেওয়া উদ্যোগ থেকে শুরু করে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি নিয়ে দেশের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গও প্রস্তাবে উঠে এসেছে।
মন্ত্রিসভার বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, গুজরাটে একাধিক নির্বাচনে পাওয়া সমর্থন এবং পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নরেন্দ্র মোদীর প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
তাঁর প্রশাসনিক জীবনের বিভিন্ন উদ্যোগ কীভাবে পরবর্তীতে জাতীয় স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই বিষয়টিও প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের অভিযোগ শোনা এবং সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুজরাটে নেওয়া কিছু উদ্যোগের উল্লেখ করা হয়েছে।
নাগরিকের অভিযোগ শোনা থেকে আটকে থাকা প্রকল্পে নজর
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে গুজরাটের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে ‘স্বাগত’-এর কথা বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শোনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে মানুষের সমস্যা পৌঁছে দেওয়া এবং সেই সমস্যার সমাধানের দিকে নজর দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০১০ সালে ‘স্বাগত’ উদ্যোগটি রাষ্ট্রসংঘের জনসেবা পুরস্কার পেয়েছিল বলেও মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ‘প্রগতি’ নামের একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রশাসনিক স্তরের মধ্যে সমন্বয় করে আটকে থাকা প্রকল্পের সমস্যা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করা হয়। কোনও প্রকল্প কেন থমকে রয়েছে, কোথায় প্রশাসনিক বাধা তৈরি হয়েছে এবং কীভাবে দ্রুত সেই বাধা দূর করা যায়—এই বিষয়গুলির উপর নজর দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়।
মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে ‘স্বাগত’ ও ‘প্রগতি’-র মধ্যে প্রশাসনিক চিন্তার ধারাবাহিকতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। গুজরাটে নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শোনার যে পদ্ধতি চালু হয়েছিল, পরবর্তীতে তার ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে জাতীয় স্তরে সরকারি কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক পথচলায় শুধু নির্বাচনী রাজনীতিই নয়, বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে।
দিল্লির মন্দিরে প্রার্থনা, দেশসেবার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
২৫ বছরের মাইলফলক উপলক্ষে বুধবার দিল্লির সরোজিনী নগরের শ্রী বিনায়ক মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারের শীর্ষে ২৫ বছর পূর্ণ করার দিনেই তাঁর এই মন্দিরে যাওয়া এবং প্রার্থনা করা দিনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে ওঠে।
প্রার্থনার পর দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকারের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই বিশেষ দিনে তিনি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দেশসেবার দায়িত্বের কথাই সামনে রেখেছেন।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। গুজরাটের রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এসে ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এরপর পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের রাজনীতি ও প্রশাসনে একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। তবে ২৫ বছর পূর্তির দিনে নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মূলত মানুষের সমর্থন ও আস্থার কথাই বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ তাঁকে বারবার দায়িত্ব দিয়েছেন।
একইসঙ্গে গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এই রাজনৈতিক যাত্রাকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাবেও তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। উন্নয়ন, পরিবেশ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং নাগরিক পরিষেবার মতো বিষয়গুলিকে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের প্রশাসনিক উদ্যোগ থেকে জাতীয় স্তরে বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৫ বছর আগে যে যাত্রা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে শুরু হয়েছিল, বুধবার তা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছেছে। আর সেই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে দেশের মানুষ এবং তাঁদের দেওয়া দায়িত্ব। তাঁর কথায়, মানুষের আশীর্বাদ ও সমর্থনই এই দীর্ঘ পথচলার মূল শক্তি।
গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের দেওয়া রায় এবং সংবিধানের কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ২৫ বছরের সরকারের শীর্ষে থাকার সময়কে স্মরণ করেছেন। আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই দীর্ঘ পথচলাকে ‘দেশ আগে’ এবং ‘নাগরিক আগে’ ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে অভিনন্দন জানিয়েছে।
২৫ বছরের এই রাজনৈতিক পথচলার পরেও দেশসেবার দায়িত্বকে সামনে রাখার অঙ্গীকারই বুধবারের অনুষ্ঠানের মূল বার্তা হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

