নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে হুমায়ুন কবিরকে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোট চলাকালীন হুমায়ুন কবিরের একাধিক মন্তব্য এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানালেন, আইন সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। নিজের ভোট দেওয়ার জন্য কেউ নিজের বাড়ি বা বুথে থাকতে পারেন, কিন্তু ভোটের বাইরে অন্যত্র যাওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও প্রশাসনের নির্দেশ মানতে হবে বলেই তাঁর বক্তব্য।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এসেছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কথাও। তাঁর দাবি, এই সময় রাজ্য সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার বদলে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই ভোট পরিচালনার আইন কার্যকর থাকে। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ভোট চলাকালীন হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে পুলিশের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁকে পুলিশ টেনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় আটক করে রাখার পর শেষ পর্যন্ত রেজিনগর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে।
হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
হুমায়ুন কবিরকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ছিল, আইন ভাঙার অভিযোগ উঠলে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভোটের সময় একজন সাধারণ ভোটার নিজের বুথ বা বাড়ির বাইরে গেলে যদি পুলিশের মুখোমুখি হতে পারেন, তাহলে অন্য কারও ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম থাকতে পারে কি না।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি যদি নিজের বুথ থেকে বেরিয়ে পাশের বটতলা বা জামতলার দিকে যান, সেক্ষেত্রেও পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, নিজের ভোট দেওয়ার জন্য একজন ভোটার নিজের বাড়িতে বা বুথে থাকতে পারেন। কিন্তু তার বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে আইন বা বিধিনিষেধ রয়েছে, তা সবার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, তিনি যে নিয়ম মেনে চলছেন, সেই নিয়মই সবাইকে মানতে হবে। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, আইন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী আলাদা হতে পারে না।
‘রাজ্য পুলিশের আইন নয়, নির্বাচন কমিশনের আইন চলছে’
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ভোটের দিন রাজ্য সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই ভোট পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই সময় রাজ্য পুলিশের নিজস্ব নিয়মে নয়, নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা ও ভোট পরিচালনার বিষয়গুলি দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ভোটের জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকরাও বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষকও দায়িত্বে ছিলেন। ফলে ভোট চলাকালীন কোনও ঘটনা ঘটলে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাই কার্যকর থাকে বলে তিনি দাবি করেন।
হুমায়ুন কবিরের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রেজিনগরের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোট চলাকালীন কখনও পুলিশের সঙ্গে, আবার কখনও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অশালীন ভাষায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার পর আটক হুমায়ুন
ভোট চলাকালীন হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনাও তৈরি হয় বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতির পর পুলিশ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে দীর্ঘ সময় আটক করে রাখা হয়।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় বারো ঘণ্টা তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছিল। পরে ভোট শেষ হওয়ার পর তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর রেজিনগর থানা থেকে হুমায়ুন কবিরকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
রেজিনগর থানায় থাকা পর্ব শেষ করে শেষ পর্যন্ত বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন হুমায়ুন কবির। ভোটের সময় তাঁর আচরণ এবং পুলিশের সঙ্গে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তাঁর মুক্তির পর সেই ঘটনাই ফের সামনে আসে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ভোটের সময় আইন ভাঙার অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থান দেখে আলাদা ব্যবস্থা করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, আইন সবার ক্ষেত্রেই সমান।
নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গেও একই যুক্তি শুভেন্দুর
নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুলেও একই বক্তব্য সামনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন, একজন সাধারণ ভোটার বা রাজনৈতিক নেতা নিজের বুথের বাইরে যেতে চাইলে পুলিশের নজরদারি বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে পারেন।
তিনি বলেন, নিজের ভোট দেওয়ার জন্য নিজের বাড়িতে বা বুথে থাকা যায়। কিন্তু তার বাইরে অন্যত্র যাওয়ার ক্ষেত্রে যে নিয়ম রয়েছে, তা মেনে চলতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজেও যদি নিজের বুথ থেকে বেরিয়ে পাশের বটতলা বা জামতলার দিকে যান, তাহলে পুলিশ তাঁকেও প্রশ্ন করতে পারে।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, ভোটের সময় কোনও ব্যক্তির জন্য আলাদা নিয়ম থাকা উচিত নয়। যে বিধিনিষেধ একজনের ক্ষেত্রে কার্যকর, তা অন্যের ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়া দরকার।
ভোট শেষ হতেই রেজিনগর থেকে মুক্তি
রেজিনগরে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর হুমায়ুন কবিরকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ আসে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর রেজিনগর থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর রেজিনগর থানা থেকে বাড়িতে ফিরে যান হুমায়ুন কবির। ফলে ভোট চলাকালীন তাঁকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পর্বেরও অবসান ঘটে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য এবং হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ—দুই বিষয়ই রেজিনগর উপনির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। একদিকে শুভেন্দু অধিকারী আইন সবার জন্য সমান হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরকে ভোট চলাকালীন আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
পুরো ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার কেন্দ্রে ছিল একটাই বিষয়—ভোটের সময় আইন ও নিয়ম সকলকেই মানতে হবে। নিজের ভোট দেওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই ভোটের সময় নির্ধারিত বিধিনিষেধও মেনে চলতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে যতই গুরুত্বপূর্ণ হন না কেন, আইনের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য আলাদা নিয়ম থাকা উচিত নয়।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

