ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটে পুনর্নির্বাচন। তর্জনী নয়, এবার অন্য আঙুলে পড়বে অমোচনীয় কালির দাগ। জানুন Re-poll Ink Rule -এর খুঁটিনাটি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের ময়দান যখন ক্রমশ তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাটের ১৫টি বুথে শুরু হয়েছে পুনর্নির্বাচন। গত দফার ভোটে হিংসা, নানা আভিযোগ বা জালিয়াতির জেরে যে অশান্তি দানা বেঁধেছিল, তারই মীমাংসায় নির্বাচন কমিশন আজ ফের সাধারণ মানুষকে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে এক বিশেষ কারিগরি এবং নিয়ম। আমরা যারা ভোট দিই, তারা জানি যে বাঁ হাতের তর্জনী বা ফোর-ফিঙ্গার (Index Finger)-এ অমোচনীয় কালির দাগ দেওয়া হয়। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই চেনা ছবিটা বদলে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, একবার ভোট দেওয়ার পর সেই কালির দাগ অন্তত কয়েক সপ্তাহ নখ বা চামড়ায় থেকে যায়। তাই দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার সময় যাতে কোনো বিভ্রান্তি বা জালিয়াতি না হয়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের রয়েছে এক অমোঘ নিয়মাবলী।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়মবিধি (Conduct of Elections Rules, 1961) অনুযায়ী, কোনো কেন্দ্রে যদি পুনর্নির্বাচন বা রি-পোল (Re-poll) হয়, তবে ভোটারের বাঁ হাতের তর্জনী ব্যবহার করা যাবে না। কারণ সেখানে ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ভোটের কালির দাগ বিদ্যমান। এই পরিস্থিতিতে পুনর্নির্বাচনের সময় কালির দাগ দেওয়া হয় বাঁ হাতের মধ্যমা বা মিডল ফিঙ্গার (Middle Finger)-এ। ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাটের যে ভোটাররা আজ পুনরায় ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকের আঙুলে আজ এই পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা যাবে। এটি মূলত জাল ভোট রুখতে এবং একজন ভোটার যাতে একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন, তা সুনিশ্চিত করতে করা হয়। কমিশনের এই কড়াকড়ি প্রক্রিয়ার ফলেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: রিপোলের ইতিহাসে বড় বদল, বাংলার ভোটে নতুন চিত্র সামনে, রিপোল কেন কম?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে একই বুথে তৃতীয়বার নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ছে, তবে সেক্ষেত্রে কোন আঙুলে কালি দেওয়া হবে? কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর পুনর্নির্বাচন হলে মধ্যমায় কালি পড়ে। কিন্তু যদি নজিরবিহীনভাবে তৃতীয়বার বা তার বেশি বার একই ভোটারকে বুথে আসতে হয়, তবে সেই ক্রমানুসারটি বজায় থাকে। অর্থাৎ বাঁ হাতের তর্জনী এবং মধ্যমার পর তৃতীয় ক্ষেত্রে বাঁ হাতের অনামিকা বা রিং ফিঙ্গার (Ring Finger)-এ কালি দেওয়ার সংস্থান রয়েছে। তবে যদি কোনো ভোটারের বাঁ হাতের আঙুল না থাকে বা কোনো বিশেষ শারীরিক কারণে বাঁ হাত ব্যবহার করা না যায়, তবেই কেবল ডান হাতের তর্জনী থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজনীতির এই জটিল অংকের মাঝে আঙুলের এই কালির দাগই কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেয় কার কপালে জয়ের তিলক উঠবে আর কার ভাগ্যে জুটবে পরাজয়।
আপনার মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। এই বিষয়ে আরও জানতে চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

