নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্ত্রী-সহ একাধিক ভারতীয়ের সন্ধান নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপোর্টালে তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে এমন খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে মনে হচ্ছে তিনি নাকি নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছেন যে তাঁর স্ত্রী সুস্থ রয়েছেন। শুভ্রাংশুর দাবি, তিনি এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য দেননি। বরং তাঁর বিশ্বাস, শুধু তাঁর স্ত্রী নন, নেপালে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বাংলার বহু পরিবারের সদস্যই এখনও জীবিত এবং তাঁদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিখোঁজ ভারতীয়দের প্রকৃত সংখ্যা, তাঁদের অবস্থান এবং সীমান্ত এলাকায় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের আবেদন জানিয়েছেন।
স্ত্রীকে নিয়ে কী বললেন শুভ্রাংশু রায়?
শুভ্রাংশু রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হওয়ার ২৫ আগস্টের পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সেই পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপোর্টালে এমনভাবে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, যেন শুভ্রাংশুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কথা হয়েছে এবং তিনি সুস্থ আছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে।
এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন শুভ্রাংশু। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনও নিশ্চিত দাবি করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল জায়গা হল বিশ্বাস এবং অনুমান। তিনি মনে করছেন, তাঁর স্ত্রী একা নন, নেপালে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বাংলার আরও বহু পরিবারের সদস্য হয়তো এখনও জীবিত রয়েছেন।
শুভ্রাংশু বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত উৎকণ্ঠা যেমন রয়েছে, তেমনই একই পরিস্থিতির মধ্যে থাকা প্রত্যেকটি পরিবারের উৎকণ্ঠাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, তাঁর স্ত্রী তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ হলেও শুধু নিজের স্ত্রীকে নিয়ে কথা বলতে চান না। নিখোঁজ প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবার যেন তাঁদের প্রিয়জনের কাছে ফিরে যেতে পারেন, সেটাই তাঁর প্রধান আবেদন।
৩২ না ৩৭, নিখোঁজ পরিবারের প্রকৃত সংখ্যা জানাতে আবেদন
শুভ্রাংশুর বক্তব্যে বাংলার নিখোঁজ পরিবারগুলির সংখ্যা নিয়ে ৩২ এবং ৩৭—দুই ধরনের সংখ্যা উঠে এসেছে। তাই তাঁর বক্তব্যের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি না রেখে তিনি যে মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ—বাংলার বহু পরিবার এখনও তাঁদের স্বজনদের কোনও নিশ্চিত খবরের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, এমন পরিবারের মধ্যে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কল্যাণীর ২৬ বছরের এক যুবকের কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আরও একটি পরিবারের এক মহিলার নিখোঁজ হওয়ার কথাও তিনি বলেছেন, যাঁর দুই সন্তান রয়েছে।
শুভ্রাংশুর আবেদন, সংবাদমাধ্যম যেন শুধু তাঁর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে খবর না করে। একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্যান্য পরিবারগুলির কাছেও পৌঁছনো প্রয়োজন। তাঁদের উৎকণ্ঠা, তাঁদের প্রশ্ন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কী হয়েছে—সেই বিষয়গুলিও সামনে আসা দরকার।
তিনি মনে করেন, নিখোঁজ ঘোষণা করে বিষয়টি শেষ হয়ে যেতে পারে না। প্রত্যেক পরিবারের কাছে তাঁদের স্বজনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে যতটা সম্ভব নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
চীন সীমান্তে কী ঘটেছিল, সেই প্রশ্ন তুললেন শুভ্রাংশু
শুভ্রাংশু রায়ের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নেপালের চীন সীমান্তবর্তী এলাকার প্রসঙ্গ। তিনি দাবি করেছেন, নিখোঁজদের বিষয়ে তাঁর নিজের একটি অনুমান রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, নিখোঁজ ব্যক্তিদের কেউ কেউ হয়তো চীন সীমান্তের কোনও শিবির বা এলাকায় রয়েছেন।
তবে এটিকে তিনি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, এটি তাঁর বিশ্বাস এবং অনুমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চীন সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি চীনা সূত্রে প্রকাশিত তথ্য তাঁর নজরে এসেছে এবং সেটি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাতেও প্রকাশ করেছেন।
এই কারণেই তিনি রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, নিখোঁজদের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে সরকার কী তথ্য পেয়েছে? তাঁদের শেষ অবস্থান কোথায় ছিল? সীমান্ত এলাকায় তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
শুভ্রাংশুর মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় কী ঘটেছিল, সেই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে নিখোঁজদের সন্ধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
নেপালের অভিবাসন সংক্রান্ত তালিকা নিয়েও প্রশ্ন
শুভ্রাংশু জানিয়েছেন, নেপাল সরকারের তরফে যাঁরা সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত বা অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন, তাঁদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। সেই তালিকাও তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু তাঁর বক্তব্য, শুধু কে নেপালে প্রবেশ করেছেন বা কে সীমান্ত পার হয়েছেন, সেই তথ্য জানলেই বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয় না। এরপর তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন, কোন এলাকায় ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল—সেই তথ্যও জানা প্রয়োজন।
বিশেষ করে নিখোঁজদের শেষ অবস্থান এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে কোনও নথি, ছবি বা দৃশ্যধারণের তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির এই সময়ে কোথাও না কোথাও ঘটনার কোনও ছবি বা দৃশ্যধারণের তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সমস্ত তথ্য উদ্ধার করে নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যমকে মিথ্যে খবর না করার আবেদন
শুভ্রাংশু রায়ের বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম, সংবাদপোর্টাল এবং কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্যকে অন্যভাবে তুলে ধরছেন।
বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে নাকি তাঁর স্ত্রীর কথা হয়েছে এবং তিনি সুস্থ রয়েছেন—এমন খবরের বিরোধিতা করেছেন তিনি। শুভ্রাংশুর বক্তব্য, তিনি বলেছেন তাঁর বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী-সহ নিখোঁজরা জীবিত এবং সুস্থ থাকতে পারেন। কিন্তু সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক নয়।
এই জায়গাতেই তিনি সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক থাকার আবেদন করেছেন। কারণ নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে প্রতিটি খবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল বা অসম্পূর্ণ খবর যেমন তাঁদের সাময়িক আশ্বস্ত করতে পারে, তেমনই পরে সেই খবর ভুল প্রমাণিত হলে তাঁদের মানসিক আঘাত আরও বাড়তে পারে।
তাই তাঁর আবেদন, সংবাদমাধ্যম যেন যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই খবর প্রকাশ করে এবং কোনও বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন করে মানুষের সামনে না তুলে ধরে।
সরকারকে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি
শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করছে বলে তিনি জানেন। তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজ্য সরকারের পাশে থাকার কথাও উঠে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, নবান্নে বৈঠকের কথাও তাঁকে জানানো হয়েছে।
তবে তাঁর প্রশ্ন, নিখোঁজদের নিয়ে সরকারি অনুসন্ধানের বর্তমান পরিস্থিতি কী? এখনও কতজন ভারতীয় নিখোঁজ? তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলার বাসিন্দা? শেষবার তাঁদের কোথায় দেখা গিয়েছিল? তাঁদের সন্ধানে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এই তথ্যগুলি পরিবারগুলির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
শুভ্রাংশুর কথায়, এক-দুদিন কেটে যাওয়ার পরেও যদি পরিবারের সদস্যদের কোনও নিশ্চিত খবর না আসে, তাহলে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। তাই সরকার কী জানতে পেরেছে, কোথায় অনুসন্ধান চলছে এবং আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে নিয়মিত তথ্য দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, নিখোঁজদের মধ্যে কেউ ফিরে এসে থাকলে তাঁদের ছবি ও পরিচয়ও সংবাদমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। একইভাবে যাঁরা এখনও নিখোঁজ, তাঁদের সংখ্যা এবং পরিচয় সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসা দরকার।
শুধু নিজের স্ত্রী নন, সব পরিবারের জন্যই আবেদন
শুভ্রাংশু রায়ের বক্তব্যের সবচেয়ে আবেগপূর্ণ জায়গা হল, তিনি শুধু নিজের স্ত্রীকে নিয়ে কথা বলছেন না। তাঁর বক্তব্য, নিখোঁজ প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবার একই ধরনের উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, একজন স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্বেগ স্বাভাবিক। কিন্তু একই সঙ্গে যে পরিবারের কোনও ছেলে, মেয়ে, মা, স্ত্রী বা অন্য কোনও প্রিয়জন নিখোঁজ, তাঁদের প্রত্যেকের যন্ত্রণা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই তিনি সংবাদমাধ্যমকে অন্য পরিবারগুলির সঙ্গেও কথা বলার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ২৬ বছরের যে যুবক নিখোঁজ, অথবা যে মহিলার দুই সন্তান রয়েছে এবং তিনি নিখোঁজ—তাঁদের পরিবারগুলির কাছেও পৌঁছনো প্রয়োজন। তাঁদের কাছে তাঁদের স্বজনের কী হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই।
শুভ্রাংশু মনে করছেন, সরকার যদি অনুসন্ধান আরও জোরদার করে এবং নিখোঁজদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আনতে পারে, তাহলে বহু পরিবারের মুখে আবার হাসি ফিরতে পারে।
তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, নিখোঁজরা জীবিত এবং সুস্থ রয়েছেন। তবে এই বিশ্বাসের পাশাপাশি তিনি সরকারের কাছ থেকে বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য তথ্যও চান।
#shubhranshuroy #missingwife #mukulroy #nepalmissingindians #missingbengalifamilies #nepalborder #missingpersons
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

