Shuvendu Adhikari Anandabazar warning: যাদবপুরের ঘটনা ঘিরে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনামে ব্যবহৃত শব্দবন্ধকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রকে ক্ষমা চাওয়া এবং ওই শব্দবন্ধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দেন তিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। সেই শব্দবন্ধ প্রত্যাহারের দাবি তুলে এবার সরাসরি হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য কোনও সংবাদমাধ্যমকে সামগ্রিকভাবে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্রকে লক্ষ্য করেই। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট শব্দবন্ধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্ষমাও চাইতে হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের শুরুতেই ছিল আত্মবিশ্বাসী ও চ্যালেঞ্জের সুর। তিনি বলেন, “কোনও ভয় নাই। উত্তর দিয়ে দেব।” এরপর বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য এবং ভোটের হিসাব তুলে ধরে নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করেন তিনি। তারপরই নির্দিষ্ট একটি সংবাদপত্রের প্রকাশিত বিষয় নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা সামনে আনেন।
‘আমি সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিচ্ছি না’
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন যে তিনি সামগ্রিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিচ্ছেন না। তাঁর নিশানা একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্র। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আমি সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিচ্ছি না, পার্টিকুলার কাগজকে বলছি ক্ষমা আপনাকে চাইতে হবে!”
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে সংবাদমাধ্যম এবং নির্দিষ্ট সংবাদপত্রের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টানা হয়েছে। তিনি যে বিষয়টির বিরোধিতা করছেন, সেটি সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের প্রকাশিত একটি শব্দবন্ধকে কেন্দ্র করে।
যাদবপুরের ঘটনাকে প্রসঙ্গ করে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনাম প্রকাশিত হয়েছিল। সেই শব্দবন্ধ নিয়েই আপত্তি জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই শব্দবন্ধ প্রত্যাহার করতে হবে।
এই প্রসঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, “গেরুয়া তাণ্ডব আপনাকে প্রত্যাহার করতে হবে। কোনও কম্প্রোমাইজ নেই।”
‘ক্ষমা আপনাকে চাইতে হবে’, সরাসরি বার্তা শুভেন্দুর
নির্দিষ্ট সংবাদপত্রকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে ক্ষমা চাওয়া এবং প্রকাশিত শব্দবন্ধ প্রত্যাহারের দাবি। তিনি বলেন, “ক্ষমা আপনাকে চাইতে হবে।”
এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “গেরুয়া তাণ্ডব প্রত্যাহার করতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে এই অবস্থানকে কোনওভাবেই সমঝোতার বিষয় হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনও কম্প্রোমাইজ নেই।”
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের এই অংশেই মূলত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত শব্দবন্ধ নিয়ে তাঁর আপত্তি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সেই শব্দবন্ধকে তিনি প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “কোনও ভয় নাই। উত্তর দিয়ে দেব।” এরপরই নির্দিষ্ট সংবাদপত্রকে উদ্দেশ্য করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি সামনে রাখেন।
‘গেরুয়া’ শব্দবন্ধ নিয়ে আপত্তি, অপেক্ষার বার্তা
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে ‘গেরুয়া’ শব্দবন্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই শব্দকে এইভাবে কালিমালিপ্ত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “গেরুয়া শব্দটাকে এইভাবে কালিমালিপ্ত করতে দেব না।”
এই বক্তব্যের পরেই তিনি বলেন, “অপেক্ষা করুন।” অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে তাঁর বক্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অপেক্ষার কথাও এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট শব্দবন্ধ প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গেরুয়া আবরণ পরা সাধুদের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “নইলে গেরুয়া আবরণ পড়ে হাজার হাজার সাধু প্রস্তুত হচ্ছেন। শুধু আমার সম্মতি চায়।” তাঁর কথায়, “আমার তো দুটো ভূমিকা আছে, এক রাষ্ট্রবাদীর ভূমিকা আরেকটা প্রশাসনের হেড।” এরপরই তিনি বলেন, “তাই আমি বলেছি অপেক্ষা করুন।”
‘কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ কখনও কুকুরের পায়ে কামড়ায় না’
নির্দিষ্ট সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান বোঝাতে তিনি বলেন, “আমি বলেছি কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়। মানুষ কখনও কুকুরের পায়ে কামড়ায় না।”
এই বক্তব্যের পরেই তিনি আবারও একই দাবি সামনে আনেন। তাঁর কথায়, “গেরুয়া তাণ্ডব প্রত্যাহার করতে হবে।”
এরপরও তিনি ‘গেরুয়া’ শব্দবন্ধ নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “গেরুয়া শব্দটাকে এইভাবে কালিমালিপ্ত করতে দেব না।”
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যের এই অংশেও মূল বিষয় ছিল যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ এবং সেটি প্রত্যাহারের দাবি।
যাদবপুরের ঘটনা ঘিরেই প্রকাশিত শব্দবন্ধ নিয়ে বিতর্ক
মূলত যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই শব্দবন্ধকে ঘিরেই রাজনৈতিক এবং গণমাধ্যমের পরিসরে বিতর্ক তৈরি হয়। সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে ওই শব্দবন্ধ প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ওই শব্দবন্ধ প্রত্যাহার করতে হবে।
#ShuvenduAdhikari #AnandabazarPatrika #WestBengalPolitics #Jadavpur #BengalPolitics #PoliticalControversy
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

