Shuvendu Adhikari Terror Plot: বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিদ মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, পাশাপাশি তার জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার ও যোগাযোগের দিকও।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বর্ধমানের জনবহুল এলাকা রেনেসাঁ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হামিদ মণ্ডলকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কুখ্যাত সজ্জাদ ভাট গোষ্ঠী, যার কার্যকলাপ ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে, যা অত্যন্ত জনবহুল এলাকা এবং হাইওয়ের ধারে অবস্থিত। গোয়েন্দাদের একাংশের সন্দেহ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সারা রাজ্যে ঘুরে বেড়ালেও, তাঁর যাতায়াতের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্ধমানে বসেই তাঁর উপর হামলার কোনও ছক কষা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ আরও জানতে পেরেছে, রেনেসাঁ আবাসনে ওঠার আগে তিনি নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই ফ্ল্যাটটি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিউটাউনের বাসভবনের খুব কাছেই অবস্থিত। এই তথ্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী যে রাস্তা দিয়ে নিয়মিত তাঁর নিউটাউনের বাসভবনে যাতায়াত করতেন, সেই রাস্তায় হামিদ একাধিকবার নজরদারি বা রেকি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন এবং গতিবিধির বিস্তারিত বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিদ নিয়মিত জইশ-ই-মহম্মদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই যোগাযোগের সূত্র এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ধৃত যুবক আদৌ কাশ্মীরের বাসিন্দা নন, তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হতে পারেন। যদিও এই তথ্যের এখনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এছাড়াও নিউটাউন এবং বর্ধমানে যাঁরা হামিদকে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। হামিদের পরিচয়, গতিবিধি, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য নাশকতার ছক—সব দিকই খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।`
এসটিএফ সূত্রে দাবি, ধৃত হামিদ সজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠী মূলত পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক, যার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে খুন, তোলাবাজি, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছরে কাশ্মীরে এই গোষ্ঠীর সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও এই নেটওয়ার্কের সদস্যের খোঁজ মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিদের দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সংগঠনের প্রভাব বিস্তার করা। নতুন সদস্য সংগ্রহ, যুবকদের মগজধোলাই করা, সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজনে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ সে করত বলে অভিযোগ। সাধারণ চেহারার আড়ালে অত্যন্ত ধূর্ত ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী বলেই তদন্তকারীদের ধারণা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিদের পরিবারের শিকড় হাওড়ার পিলখানায়। তাঁর বাবা একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতেন এবং হামিদও বাবার সঙ্গে সেই কারখানায় কাজ করত। তবে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সে বর্ধমানে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিল।
এদিকে, এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই রাজ্যে সজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অসম পুলিশের অভিযানে ধরা পড়া একটি সন্ত্রাসবাদী মডিউলের সূত্র ধরেই এসটিএফ এই নেটওয়ার্কের খোঁজ পায় বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ধুবুড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধকরণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি, লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতেই সজ্জাদ ভাট এবং আজমল গুজ্জার এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতে ছদ্মবেশে ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’ নামে একটি শাখার মাধ্যমেও এই নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করে বিরিয়ানি বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা-সহ বিভিন্ন পেশার তরুণদের টার্গেট করে সংগঠনে টেনে আনার চেষ্টা চলত বলে অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইতিমধ্যেই এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১২ জন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে সজ্জাদ ভাট সদস্য সংগ্রহ করত। যাদের নিয়োগ করা হতো, তাদের উদ্দেশে পাকিস্তান থেকে সরাসরি ভয়েস নোট পাঠানো হতো বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
এছাড়া অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে পাঞ্জাব সীমান্ত পেরিয়ে দিল্লি পর্যন্ত অস্ত্র ও মাদক পাচারের মাধ্যমে এই গোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহ করত। সেই অর্থ ব্যবহার করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চলছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ)। সেই কারণেই আগামীকাল এসটিএফের পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানেই তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা দেশের সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক করেছিলেন। ২০২২ সালেও দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা সবার আগে। দেশ সুরক্ষিত থাকলেই সকলেই নিরাপদ থাকবেন। তাই এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়। তবে ধৃত ব্যক্তিকে ঘিরে চলা তদন্ত বা এসটিএফের অভিযানের বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর কথায়, আগামীকাল এসটিএফের সাংবাদিক বৈঠকেই তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তারি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।
#JaishEMohammed #TerroristArrest #WestBengal #STF #HamidMandal #NewTown #SuvenduAdhikari #BreakingNews #IndiaNews #SecurityAlert
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

