Sourav Ganguly Dona Sana Dance: গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার জাদুঘরে বিশেষ অনুষ্ঠানে মা-মেয়ে ডোনা ও সানার নৃত্য পরিবেশনে মুগ্ধ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ সাত-আট বছর পর সানার মঞ্চে ফেরা এবং সানার জেদের কাছে ডোনার নাচের সিদ্ধান্তও হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার জাদুঘরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে দেখা গেল এক আবেগঘন মা-মেয়ের যুগলবন্দি। নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর কন্যা সানা গঙ্গোপাধ্যায় এদিন রামায়ণের একটি বিশেষ অংশের উপর নৃত্য পরিবেশন করেন। দীর্ঘ প্রায় সাত-আট বছর পর আবার মঞ্চে নাচলেন সানা। মেয়ের সেই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বাবা সঞ্জীব রায়। মঞ্চে সানা ও ডোনার নৃত্য পরিবেশনের পর উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় মুগ্ধতা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌরভ এবং ডোনা দু’জনেই তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। সৌরভের কথায় উঠে আসে মেয়ের দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফেরার আনন্দ, আর ডোনার কথায় জানা যায়, সানার ইচ্ছাতেই কীভাবে শেষ মুহূর্তে তিনিও মেয়ের সঙ্গে মঞ্চে নাচতে রাজি হন।
সাত-আট বছর পর আবার মঞ্চে সানা
সানার জন্য এই অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ। কারণ, প্রায় সাত-আট বছর পর আবার মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফিরে মেয়ের নাচ দেখতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তিনি নৃত্যের বিশেষ কিছু বোঝেন না। তবে এত বছর পর সানাকে আবার মঞ্চে নাচতে দেখে তাঁর খুব ভালো লেগেছে।
সৌরভের বক্তব্যে ছিল একজন বাবার সহজ আনন্দ। নৃত্যের কারিগরি বিচার নয়, মেয়েকে আবার মঞ্চে দেখে তাঁর ভালো লাগাটাই ছিল মূল বিষয়। প্রায় সাত-আট বছর পর সানা আবার নাচছে—এই মুহূর্তটিই তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মেয়ের পরিবেশনা দেখার পাশাপাশি তিনি সেই আনন্দের কথাও সাংবাদিকদের জানান।
সানার এই মঞ্চে ফেরা যে পরিবারের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল, অনুষ্ঠানে উপস্থিতি থেকেই তা স্পষ্ট। বিশেষ করে সকালে সানা নিজেই তাঁর বাবাকে নাচ দেখতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে দিনের শুরু থেকেই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সানার নিজের মধ্যেও ছিল বিশেষ আগ্রহ।
সানার আমন্ত্রণেই নাচ দেখতে হাজির সৌরভ
ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এদিন সকালে সানা নিজেই তাঁর বাবাকে অনুষ্ঠানে এসে তাঁর নাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। মেয়ের সেই ডাকেই সৌরভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সানার নাচ দেখতে বাবার উপস্থিতি তাই অনুষ্ঠানের আবেগের দিকটিকেও আরও গভীর করে তোলে।
সৌরভও মেয়ের নাচ দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাচের বিষয়ে তাঁর বিশেষ জ্ঞান নেই। তাই নৃত্যের বিচার করার জায়গা থেকে নয়, একজন বাবা হিসেবে দীর্ঘ বিরতির পর মেয়েকে আবার মঞ্চে দেখতে পাওয়ার আনন্দ থেকেই তিনি সানার পরিবেশনা উপভোগ করেছেন।
সৌরভের কথায় সেই সরলতাই ধরা পড়ে। মেয়ের মঞ্চে ফেরার বিষয়টিই তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছিল। এত বছর পর সানা আবার নাচছে, সেটি দেখেই তাঁর ভালো লেগেছে। পরিবারের সদস্য হিসেবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাশে থাকার সুযোগ পাওয়াটাও তাঁর কাছে আনন্দের ছিল।
সানার জেদেই মঞ্চে ডোনা
এই অনুষ্ঠানের আরও একটি বিশেষ দিক ছিল ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মঞ্চে ওঠা। ডোনা জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি নাচার কথা ভাবেননি। কিন্তু সানা তাঁকে মঞ্চে নাচার জন্য রাজি করায়। শেষ পর্যন্ত মেয়ের অনুরোধেই মা-মেয়ের যুগলবন্দি তৈরি হয়।
ডোনার বক্তব্য অনুযায়ী, সানা এমনভাবে তাঁকে রাজি করিয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত তাঁর আর না বলার উপায় ছিল না। তিনি জানান, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরেও তিনি নাচবেন না—এমনটা সানা মেনে নিতে পারেনি। মেয়ের বক্তব্য ছিল, তিনি পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন, অথচ মা নাচবেন না—এটা কীভাবে হয়?
সানার এই আবদারই শেষ পর্যন্ত ডোনাকে মঞ্চে নিয়ে আসে। ফলে যে অনুষ্ঠানে সানার একক নৃত্য দেখার কথা ছিল, সেখানেই তৈরি হয় মা-মেয়ের যুগলবন্দি। ডোনার কথায়, মেয়ের জেদের কাছেই তাঁকে শেষ পর্যন্ত নাচতে হয়েছে।
শেষ কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে তৈরি বিশেষ পরিবেশনা
ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সানা যখন সিদ্ধান্ত নেয় যে সে নাচবে, তখন খুব বেশি সময় হাতে ছিল না। শেষ কয়েক দিনেই পরিবেশনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এমন একটি পরিবেশনা তৈরি করা সহজ ছিল না বলেও তাঁর কথায় উঠে আসে।
তবু সানার আগ্রহ এবং নিজের নৃত্যদক্ষতার কারণে বিষয়টি সম্ভব হয়েছে। ডোনা মেয়ের নৃত্যপ্রতিভারও প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, সানা একজন প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী। দীর্ঘ বিরতির পরও মঞ্চে ফিরে নিজের নাচ পরিবেশন করতে পারা সেই প্রতিভারই পরিচয় দিয়েছে।
মেয়ের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও ডোনার কাছে আলাদা। কারণ এখানে শুধু নাচ ছিল না, ছিল মা-মেয়ের সম্পর্কের একটি আবেগঘন মুহূর্ত। সানার ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে ডোনারও মঞ্চে ফিরে আসা এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
মায়ের হাত ধরে মেয়ের মঞ্চে ফেরা, পাশে পুরো পরিবার
জাদুঘরের এই বিশেষ অনুষ্ঠান তাই শুধু একটি নৃত্য পরিবেশনা হয়ে থাকেনি। সানার দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফেরা, মায়ের সঙ্গে যুগলবন্দি এবং বাবার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পরিবারের কাছে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
ডোনা জানিয়েছেন, সানা জানত কীভাবে বাবা-মাকে রাজি করাতে হয়। কখনও আবদার, কখনও নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে শেষ পর্যন্ত সে নিজের কথাই প্রতিষ্ঠা করেছে। মায়ের সঙ্গে নাচার ইচ্ছাও সানা পূরণ করেছে। আর মেয়ের নাচ দেখতে বাবাকেও অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছে।
সৌরভের প্রতিক্রিয়াতেও ছিল সেই পারিবারিক আনন্দ। নৃত্যের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নয়, একজন বাবা হিসেবে তিনি মেয়ের নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘ সাত-আট বছর পর সানার মঞ্চে ফেরাকে সামনে থেকে দেখা তাঁর কাছে আনন্দের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ডোনার জন্যও এই অনুষ্ঠান ছিল মেয়ের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। সানার জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত মায়ের নাচ, বাবার উপস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের সামনে মা-মেয়ের যুগলবন্দি—সব মিলিয়ে গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মশতবর্ষের এই অনুষ্ঠান তাঁদের পরিবারের স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে নিল।
#souravganguly #donaganguly #sanaganguly #motherdaughterdance #kelucharanmahapatra #indianmuseumkolkata #danceperformance
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

