Sumit Roy Case: সুমিত রায় মামলা ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে রহস্য। একদিকে আদালতে চলছে আইনি লড়াই, অন্যদিকে পুলিশ তাঁর খোঁজে একাধিক রাজ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে। জমি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। একদিকে কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর আইনি রক্ষাকবচ নিয়ে চলছে লড়াই, অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ) তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, সুমিত রায়ের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সম্প্রতি পাঞ্জাব সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে পুলিশের নজর এড়িয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পাঞ্জাবে গা ঢাকা, শেষ মুহূর্তে পুলিশের হাত এড়িয়ে পালানোর অভিযোগ
পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রথমদিকে সুমিত রায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাঞ্জাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তিনি পরিবারকে সেখানেই রেখে একাই আত্মগোপন করেন। সম্প্রতি তাঁর মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও অবস্থান শনাক্ত করে পাঞ্জাবে পৌঁছে যায় রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। তাঁকে প্রায় ঘিরেও ফেলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। তবে শেষ মুহূর্তে অল্পের জন্য তিনি পুলিশের হাত এড়িয়ে পালিয়ে যান।
তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন সূত্রে নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাই বেশিদিন আত্মগোপন করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। পুলিশের অনুমান, খুব শীঘ্রই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
কলকাতা হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি
এদিকে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে সুমিত রায়ের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। কিন্তু রাজ্যের প্রবীণ আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।
আদালত পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে আগামী সোমবার নির্ধারণ করেছে। বিচারপতি মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারি অভিযান চালাতে পারবে না। ফলে আপাতত সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি।
কী কী অভিযোগ রয়েছে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে?
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—
- সরকারি খাস জমি জালিয়াতির অভিযোগ
- আর্থিক প্রতারণা
- বিশ্বাসভঙ্গ
- ভুয়ো সরকারি নথি তৈরির অভিযোগ
অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকায় সরকারি খাস জমিকে নিজের বা বৈধ মালিকানাধীন জমি বলে দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে।
এক ব্যক্তির অভিযোগ অনুযায়ী, জমি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে এককালীন প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
নতুন এফআইআর, তদন্তে সিআইডি
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা এবং সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ভুয়ো সরকারি নথি তৈরি করে প্রতারণার অভিযোগে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে।
এদিকে সিআইডি ইতিমধ্যেই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়েছে, যাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।
কালিঘাটে শেষ মোবাইল লোকেশন
তদন্তে উঠে এসেছে, সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল কলকাতার কালিঘাট এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই অবস্থান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের আশপাশেই ছিল।
এরপরই শালবনির তদন্তকারী দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছয়। সেই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
সোমবারের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
আইনজীবীদের মতে, আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ওই দিন পুলিশের গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়ার বৈধতা, তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
একদিকে আদালতের দেওয়া সাময়িক আইনি সুরক্ষা, অন্যদিকে পুলিশের লাগাতার তল্লাশি— এই দুইয়ের মাঝেই ক্রমশ চাপে পড়ছেন সুমিত রায়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে গ্রেপ্তার করা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
#SumitRoy #AbhishekBanerjee #WestBengalPolice #KolkataHighCourt #CID #LandScam #PoliticalNews #WestBengal #FraudCase #BreakingNews

