Sunidhi Chauhan Chokhe Chokhe Kotha Bolo: সুনিধি চৌহানের কণ্ঠে “চোখে চোখে কথা বলো” নতুনভাবে ভাইরাল, ষাট থেকে আশির দশকের পাঁচটি বাংলা গান আজও মঞ্চে একইভাবে জাগায় নস্টালজিয়া আর উন্মাদনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার মঞ্চ যেন আবারও সাক্ষী থাকল এক আগুনঝরা সন্ধ্যার। সুনিধি চৌহান—নামটাই যথেষ্ট, লাল সীমারি ফ্রিন্জ পোশাকে ঝলমলে উপস্থিতি, তুমুল নাচ, আর একের পর এক হিট গান—তখন দর্শকদের উন্মাদনা ছুঁয়ে যায় অন্য মাত্রা। গলা খারাপের কারণে আগের অনুষ্ঠান বাতিল হলেও, ২৫ মার্চ অ্যাকোয়াটিকার কনসার্টে মঞ্চে ফিরে এসে তিনি যেন দ্বিগুণ শক্তিতে মাতিয়ে দিলেন শহরকে।
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যে মুহূর্তটি হৃদয়ে গেঁথে গেল, তা হল আশির দশকের অমর গান “চোখে চোখে কথা বলো”—তার কণ্ঠে নতুন আবেশে ধরা দিল এই সুর, আর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সমাজমাধ্যমে (Sunidhi Chauhan Chokhe Chokhe Kotha Bolo) । শুধু একটি গান নয়, ষাট থেকে আশির দশকের এমন বহু বাংলা গান রয়েছে, যেগুলোর আবেদন আজও অটুট, মঞ্চে উঠলেই জাগিয়ে তোলে নস্টালজিয়া আর উচ্ছ্বাস। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন, সেই সোনালি সময়ের আরও পাঁচটি গান, যা এখনও মুহূর্তে মাতিয়ে দিতে পারে যে কোনও দর্শককে।
কিংবদন্তি বাংলা গান যা মঞ্চে আগুন ধরায় (Sunidhi Chauhan Chokhe Chokhe Kotha Bolo)
ষাটের দশকের বাংলা গানের জগৎ মানেই এক অনন্য মাধুর্য, এক গভীর আবেগের স্পর্শ। সেই সময়েরই এক অমর সৃষ্টি “এই মায়াবী তিথি”, যা আজও সমানভাবে সঙ্গীতপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে যায়। সোনার হরিণ ছবির এই গানটি কণ্ঠ দিয়েছেন কিংবদন্তি গীতা দত্ত। তাঁর মায়াবী কণ্ঠস্বর এই গানকে এনে দিয়েছে এক আলাদা আবেদন। গানটির সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার—এই দুই প্রবাদপ্রতিম সৃষ্টিশীল মানুষের হাত ধরে গানটি হয়ে উঠেছে কালজয়ী সম্পদ।
এই গানের আর একটি বিশেষ দিক হল, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটিকে একধরনের পার্টি গান হিসেবেও ধরা হতো। এর ছন্দ, তাল এবং উপস্থাপনায় এমন এক প্রাণবন্ততা রয়েছে, যা আজকের দিনের তথাকথিত মঞ্চ কাঁপানো বা নাচের গানের সঙ্গে সহজেই তুলনা করা যায়।
অর্থাৎ, বর্তমান সময়ে যেসব গান দর্শকদের নাচিয়ে তোলে, উন্মাদনা তৈরি করে—ঠিক সেই আবহই বহন করত “এই মায়াবী তিথি”। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার, সুপ্রিয়া দেবী এবং ছবি বিশ্বাসের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। তাঁদের উপস্থিতি এই গান এবং ছবির জনপ্রিয়তাকে আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
আজকের দিনেও “এই মায়াবী তিথি” শুধুমাত্র একটি গান নয়, এটি এক নস্টালজিয়ার প্রতীক। যদি এই গানটিকে আধুনিক আঙ্গিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে এটি আবারও নতুন প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। গীতা দত্তের কণ্ঠের সেই মায়া এবং সুরের জাদু আজও এতটাই জীবন্ত, যে মঞ্চে এই গান বাজলেই মুহূর্তে দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম।
ষাট থেকে আশির দশকের বাংলা গানের ভাণ্ডারে এমন বহু অমূল্য সৃষ্টি রয়েছে, যা আজও সমানভাবে শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সেই তালিকায় অন্যতম হল “ আজ দুজনে মন্দ হলে”, যা উনিশশো একাত্তর সালের ফরিয়াদ ছবির এক স্মরণীয় গান। এই গানের গীতিকার ছিলেন প্রণব রায়, যিনি অত্যন্ত সহজ অথচ গভীর কথার মাধ্যমে মানুষের মনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলিকে তুলে ধরেছিলেন। আর সুরারোপ করেছিলেন প্রখ্যাত সুরকার নচিকেতা ঘোষ, যার সুরে এই গানটি পেয়েছিল এক অনন্য মাধুর্য।
নচিকেতা ঘোষের সুরের বিশেষত্বই ছিল—সহজ সুরের ভেতর দিয়ে গভীর আবেগকে জীবন্ত করে তোলা। “যে আজ দুজনে মন্দ হলে” গানটিতেও সেই সুরের জাদু স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। প্রেম, অভিমান আর সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবকিছু মিলিয়ে এই গানটি হয়ে উঠেছে এক চিরকালীন অনুভূতির প্রতিচ্ছবি।
আজকের দিনে যখন পুরনো গান নতুনভাবে মঞ্চে ফিরে আসছে, তখন এই গানটিও আধুনিক উপস্থাপনায় আবার নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সঠিক কণ্ঠ ও পরিবেশনায় এটি আবারও দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম—যেমনটা একসময় করেছিল। এইভাবেই ষাট থেকে আশির দশকের এইসব গান শুধুমাত্র স্মৃতি নয়, বরং আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং জীবন্ত।
এবার আসা যাক সেই বিখ্যাত গানটির কথায়, যার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সুনিধি চৌহান। গানটি হল “চোখে চোখে কথা বলো”—যা বাংলা সঙ্গীতের এক অমূল্য সম্পদ। এই গানটি কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে, যার কণ্ঠের মাধুর্য এই গানকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। গানটির সুরারোপ করেছিলেন রাহুল দেব বর্মণ এবং গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার—বাংলা গানের দুই উজ্জ্বল নাম, যাঁদের সৃষ্টিতে এই গান পেয়েছে চিরকালীন আবেদন।
মূলত একটি অ্যালবামের গান হিসেবে প্রকাশিত হলেও “চোখে চোখে কথা বলো” সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠেছে এক জনপ্রিয়, আবেগঘন সুরের প্রতীক। আর সেই গানকেই নতুনভাবে মঞ্চে উপস্থাপন করে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছেন সুনিধি চৌহান। তাঁর কণ্ঠে, তাঁর পরিবেশনায় গানটি যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে—পুরনো দিনের মাধুর্য বজায় রেখেই তিনি এনে দিয়েছেন আধুনিকতার ছোঁয়া।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি এই গানটি পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পুরোনো ঐতিহ্যকে ভাঙেননি। বরং নিজের কণ্ঠের জাদুতে, গানটির অমরত্বকে অক্ষুণ্ণ রেখেই তিনি সেটিকে উপস্থাপন করেছেন। অর্থাৎ, গানের আসল আবেগ, তার গভীরতা বা সৌন্দর্য কোথাও ক্ষুণ্ণ না করেই তিনি নতুনভাবে সেটিকে দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন—যা একজন শিল্পীর সংবেদনশীলতারই প্রমাণ।
সুনিধির এই পরিবেশনা শুধুমাত্র দর্শকদের মুগ্ধ করেনি, বরং গভীরভাবে আবেগতাড়িত করেছে বাঙালি শ্রোতাদের। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এই গানটি হয়ে উঠেছে এক নতুন আবিষ্কার—এক হারিয়ে যাওয়া সুরের পুনরুদ্ধার। অনেকেই এই গানের মাধ্যমে যেন ফিরে পেয়েছেন তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক টুকরো, যা এতদিন শুধুই স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ ছিল।
এইভাবেই একটি পুরনো গান, সঠিক কণ্ঠ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে, আবারও নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে—আর “চোখে চোখে কথা বলো” তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
আশির দশকের বাংলা গানের ধারায় এমন বহু সৃষ্টি রয়েছে, যা আজও মঞ্চে উঠলেই দর্শকদের মধ্যে এক বিশেষ উন্মাদনা তৈরি করে। সেই তালিকায় অন্যতম একটি গান হল “এমন মধুর সন্ধ্যায়”, যা উনিশশো সাতাশি সালের একান্ত আপন ছবির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান। এই গানটি কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে, যার কণ্ঠের মাধুর্য গানটিকে এক অনন্য আবেগে ভরিয়ে তোলে।
গানটির সুরারোপ করেছিলেন রাহুল দেব বর্মণ, যিনি তাঁর স্বতন্ত্র সুরের জাদুতে প্রতিটি গানকে আলাদা মাত্রা দিতেন। আর এই গানের গীতিকার ছিলেন স্বপন চক্রবর্তী, যার কথার গভীরতা ও সহজাত সৌন্দর্য গানটিকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তুলেছে। ছবিটির পরিচালনা করেছিলেন বিরেশ চট্টোপাধ্যায়, যার নির্মাণশৈলীতে গানটি পেয়েছিল আরও বেশি প্রাণ।
“এমন মধুর সন্ধ্যায়” শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্রের গান নয়, এটি এক বিশেষ অনুভূতির প্রতিচ্ছবি—যেখানে রয়েছে ভালোবাসা, নরম আবেগ এবং স্মৃতিমাখা এক সুরের জগৎ। আজকের দিনেও এই গানটি মঞ্চে পরিবেশিত হলে একইভাবে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়, তৈরি করে এক অনন্য আবহ।
বর্তমান সময়ে যখন পুরনো গান নতুনভাবে ফিরে আসছে, নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা সেই গানগুলিকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরছেন, তখন “এমন মধুর সন্ধ্যায়” গানটিও আবার নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রাখে। এর সুর, এর আবেগ আর এর চিরকালীন আবেদন আজও এতটাই জীবন্ত, যে সঠিক পরিবেশনায় এই গান মুহূর্তেই দর্শকদের মধ্যে সেই পুরনো দিনের উন্মাদনা ফিরিয়ে আনতে পারে।
আশির দশকের বাংলা সিনেমা ও সঙ্গীতের জগৎ ছিল বৈচিত্র্য আর পরীক্ষার এক অনন্য সময়। সেই সময়েরই এক উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি ১৯৮২ সালের ‘ত্রয়ী’ ছবি, যা পরিচালনা করেছিলেন গৌতম মুখোপাধ্যায়। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, দেবস্মিতা রায় এবং সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। আজও এই সিনেমা দর্শকদের মনে এক বিশেষ ছাপ ফেলে রেখেছে।
এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর সঙ্গীত, বিশেষ করে “একটু বোসো চলে যেও না” গানটি। গানটি কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে, সুরারোপ করেছিলেন রাহুল দেব বর্মণ এবং গীত রচনা করেছিলেন স্বপন চক্রবর্তী। এই গানটি সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে একেবারেই ভিন্ন স্বাদের—এক ধরনের নাচের গানের আবহ, যা বর্তমান সময়ে ‘আইটেম গান’ হিসেবে পরিচিত হতে পারে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই গানটির উপস্থাপনা নির্মিত হয়েছিল বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী হেলেনের চরিত্রে। সেই সময়ের জনপ্রিয় নাচের ধারা, মঞ্চের উজ্জ্বলতা এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনার মিশেলে গানটি পেয়েছিল এক আলাদা আবেদন। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি গান হয়ে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছিল এক সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা।
আজকের দিনেও “একটু বোসো চলে যেও না” গানটি শুনলে সেই পুরনো দিনের উন্মাদনা যেন আবার ফিরে আসে। এর সুর, তাল এবং উপস্থাপনার শক্তি এতটাই প্রবল, যে সঠিকভাবে মঞ্চে পরিবেশিত হলে আজও এটি দর্শকদের একইভাবে মাতিয়ে তুলতে পারে। এই ধরনের গানই প্রমাণ করে, সময় বদলালেও ভালো সঙ্গীত কখনও পুরনো হয় না—বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বারবার নতুন করে ধরা দেয়।
ষাট থেকে আশির দশকের বাংলা গান (Sunidhi Chauhan Chokhe Chokhe Kotha Bolo) শুধু সময়ের সাক্ষী নয়, বরং আবেগ, সুর আর নস্টালজিয়ার এক অমূল্য ভাণ্ডার। প্রতিটি গানই তাদের নিজস্ব সুর ও আবেদনে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু এই গানগুলোর আবেদন একটুও কমেনি। আর সেই কারণেই সুনিধি চৌহান -এর কণ্ঠে “চোখে চোখে কথা বলো” শুধু একটি পারফরম্যান্স হয়ে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে অতীত আর বর্তমানের এক সেতুবন্ধন। ভালো গান কখনও পুরনো হয় না, সঠিক শিল্পীর হাতে পড়লে তা আবারও নতুন করে হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে। বাংলা সঙ্গীতের সেই সোনালি যুগ আজও আমাদের মনে, আমাদের মঞ্চে এবং আমাদের অনুভূতিতে সমানভাবে বেঁচে আছে।
#SunidhiChauhan #BengaliSongs #ChokheChokheKothaBolo #RetroMusic #RDBurman #AshaBhosle #ViralPerformance #OldIsGold #BengaliMusic #LiveConcert
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

