নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি তদন্ত ও ভুয়ো প্রচার নিয়ে কী বললেন তিনি?চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে মঙ্গলবার হুগলি, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকায় যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন, সমবেদনা জানান এবং সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন। একই সঙ্গে চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও দাবির বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে কিছু ভুয়ো প্রচার ছড়ানো হচ্ছে। সেই প্রচারে পছন্দসূচক চিহ্ন দেওয়া কিংবা তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করার কথা বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার মৃতদের বাড়িতে যাওয়ার ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। বিপর্যয়ের পিছনে কোথায় ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন বিরোধী নেতারা ঘটনাস্থলে যাননি, কেন হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করেননি কিংবা মৃতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াননি, সেই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু।
‘কয়েকটা ভুলের জন্য এতগুলো প্রাণ গেল’—মৃতদের বাড়িতে গিয়ে শোকপ্রকাশ
নবমীর সকাল থেকেই চোরবাগানের বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবারও সেই কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন তিনি। প্রথমে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে যান শুভেন্দু। শনিবারের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃত ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দা টগর বেজ এবং তাঁর ১৪ বছরের ছেলে সন্দীপ বেজ। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পর আরামবাগে গিয়ে মৃত পিয়ালি প্রামাণিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে নদিয়ার চাকদায় মৃত আরতি সরকারের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে মৃতার ছবিতে শ্রদ্ধা জানান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
মঙ্গলবার হুগলির বৈদ্যবাটিতে মৃত শ্রীপর্ণা পোদ্দারের বাড়িতেও যান শুভেন্দু। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই চারটি পরিবারের হাতে সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমকে শুভেন্দু বলেন, “কয়েকটা ভুলের জন্য এতগুলো প্রাণ গেল। অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। ভাষা নেই।”
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ঘটনার দায় ও সম্ভাব্য ত্রুটির প্রসঙ্গও। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তিনি জানিয়েছেন, কোথাও ভুল হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত ঘটনা জানতে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দশমীতেও মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছতে চান।
‘বাংলাদেশ থেকে ভুয়ো প্রচার’—পছন্দ বা ভাগ করে নেওয়া নিয়েও হুঁশিয়ারি
চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার কারণ, পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ঘিরে নানা দাবি ও ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু ভুয়ো প্রচার করা হয়েছে। সেই সব প্রচার শুধু যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই নয়, যাঁরা পছন্দসূচক চিহ্ন দিয়েছেন কিংবা অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভেন্দুর বক্তব্য, “বাংলাদেশ থেকে কিছু ফেক ন্যারেটিভ পোস্ট করা হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে আমি বলেছি, লাইক-শেয়ার করেছে যারা, তাদের বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দিতে।”
একটি নির্দিষ্ট প্রচারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বারাসতের একটি ঘটনার ছবি বা বিবরণ বাংলাদেশ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে সেই প্রচারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বা তা ছড়িয়েছেন।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, কোচবিহার-সহ বিভিন্ন জায়গার মোট ১৩৫ জনের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানান তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “আপনি সত্যের উপর দাঁড়িয়ে বলুন।”
তবে কোন কোন প্রচারকে ভুয়ো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে কি না, কিংবা কোন নির্দিষ্ট আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা প্রদত্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
ফলে শুভেন্দুর বক্তব্যকে তাঁর অভিযোগ ও ঘোষিত অবস্থান হিসেবেই দেখতে হবে। কোনও পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানো বা তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আইনত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু, প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনের উপর।
নজরদারির ছবি নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে হস্তক্ষেপ না করার বার্তা
চোরবাগানের বিপর্যয়ের তদন্ত ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যে জায়গা থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু বলেন, “পুলিশমন্ত্রী হয়ে তদন্তে নাক গলাতে যাওয়া নট গুড। সিট বানিয়ে দিলাম। তারা দেখবে। আমি অনেক ফুটেজ পেয়েছি, দেখেছি, সবটা বলতে যাব কেন?”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলই ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবে।
তিনি নিজে বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন বলেও দাবি করেন। তবে তদন্ত চলাকালীন সেগুলির সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করতে চাননি।
চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পিছনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা, ঘোষণার ভূমিকা কিংবা অন্য কোনও ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
শুভেন্দু অবশ্য জানিয়েছেন, ত্রুটি হয়ে থাকলে তা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তিনি একই আশ্বাস দিয়েছেন।
বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস
মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর প্রশ্ন, এত বড় বিপর্যয়ের পর বিরোধী শিবিরের নেতারা কেন চোরবাগানে যাননি? কেন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেননি? কেন মৃতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াননি?
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বিরোধী দলগুলির কোনও প্রতিক্রিয়া প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শুভেন্দু জানান, নবমী ও দশমীর উৎসবের মধ্যেও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার কাজ চালিয়ে যাবেন। সকলের বাড়িতে পৌঁছনোর ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। এদিকে বিজয়াদশমীর প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু। কলকাতার বাবুঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চোরবাগানের ঘটনায় সঠিক তদন্ত হবে এবং অসহায় পরিবারগুলির পাশে সরকার থাকবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯ জনের প্রাণহানির এই ঘটনার পর মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং তদন্তের আশ্বাসের পাশাপাশি ভুয়ো প্রচারের অভিযোগে কঠোর আইনি পদক্ষেপের বার্তা—মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে এই বিষয়গুলিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

