Suvendu Adhikari Halisahar Visit: হালিশহরে নিহত বিরজু কেওতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে উত্তেজনার পর তাঁর এই সফরকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি শুনে কী আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, নজর এখন সেদিকেই।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে যে নির্দিষ্ট দাবিগুলি জানানো হয়েছে, সেগুলি পূরণের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কোনও এলাকায় যাওয়ার আগে প্রশাসনকে জানানো উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যায়।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনি যেখানেই যেতে চান, যেতে পারেন। কিন্তু যাওয়ার আগে সময় নিয়ে প্রশাসনকে জানিয়ে যাবেন। আপনার নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থা প্রয়োজন, পুলিশ তা করবে। আপনার সঙ্গে যদি কেউ থাকেন, তাঁদের নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।”
তাঁর বক্তব্য, কোনও এলাকায় গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, স্থানীয় বিধায়ক, জেলা শাসক এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক। নিহতের পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি ও অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলি জানানো হয়েছে, সেগুলি পূরণ করার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, নিহতের পরিবার যাতে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করা।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার মধ্য দিয়ে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব শুধু নিজের দলের মানুষের প্রতি নয়, রাজ্যের প্রত্যেক মানুষের প্রতি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন এমন পরামর্শ?
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক সফরের প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, কোনও এলাকায় যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে সেখানে যাওয়া হলে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেউ সাহায্যের জন্য ডাকলে তিনি অবশ্যই সেখানে যেতে পারেন। কিন্তু যাওয়ার আগে প্রশাসনকে জানানো প্রয়োজন। প্রশাসনকে জানালে পুলিশ তাঁর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারবে।
তাঁর বক্তব্য, “আপনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। কিন্তু যাওয়ার আগে জানিয়ে যাবেন। তাহলে পুলিশও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারবে।”
নিহতের পরিবারের পাশে প্রশাসন, দাবি শুভেন্দুর
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, নিহতের পরিবারের বক্তব্য ও দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিবার রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব রাজ্যের সমস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ঘটনাকে সেই দায়িত্বেরই অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
পুলিশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পদক্ষেপের কথাও জানালেন
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার পর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় তদন্তকারী আধিকারিককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা পুলিশের নেতৃত্বে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ
এর পরেই শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে অতীতের একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে বিরোধী দলের বহু কর্মী-সমর্থক নিহত হলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের পাশে একইভাবে দাঁড়াননি।
তিনি রাজবংশী যুবক মুক্তাঞ্জয় বর্মণের মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় পরিবারের পাশে তৎকালীন সরকার দাঁড়ায়নি।
অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের সময়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয়টি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
“মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি দলের নন”
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল—একজন মুখ্যমন্ত্রী কেবল একটি রাজনৈতিক দলের মানুষের মুখ্যমন্ত্রী নন। তিনি গোটা রাজ্যের মানুষের মুখ্যমন্ত্রী।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি পূরণের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। স্থানীয় বিধায়ক, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে প্রশাসনকে জানিয়ে এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে অতীতের একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান ও প্রাক্তন সরকারের ভূমিকার তুলনাও টেনেছেন তিনি।
#SuvenduAdhikari #Halisahar #HalisaharIncident #BirjuKeot #MamataBanerjee #WestBengalPolitics #BengalNews #PoliticalNews #PoliceCustodyDeath
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

