Suvendu Adhikari Kolkata BJP Rally: কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিজেপির মিছিল। পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি ও তোষণের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। মালদহ ও নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলের প্রসঙ্গ টেনে কলকাতাতেও জয়ের দাবি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সোমবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল ও সভার আয়োজন করে বিজেপি। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মিছিলের প্রথম সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটতে দেখা যায় তাঁদের।
সভা থেকে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি, তোষণ এবং উগ্রপন্থী রাজনীতির বিরোধিতা। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই ধরনের রাজনৈতিক প্রবণতা পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই আগামী দিনে বিজেপি কর্মীদের আরও সংগঠিত হয়ে রাজনৈতিক লড়াই চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
বক্তৃতায় শুভেন্দু বলেন, ‘জিহাদি, মাওবাদী, জামাতি, পরিবারবাদী, দুর্নীতিবাজ—এদের সবাইকে উৎখাত করার কাজ আমাদের করতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ও দলীয় আহ্বান হিসেবেই উঠে এসেছে।
মালদহ ও নন্দীগ্রামের ফল তুলে ধরে কী বললেন শুভেন্দু?
নিজের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি নির্বাচনী ফলের প্রসঙ্গ টানেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, মালদহে একটি নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোট পেয়েছিল। নন্দীগ্রামে পদ্মফুল ফুটেছিল প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটে। পাশাপাশি আরও একটি কেন্দ্রে প্রায় ৭৫ হাজার ভোট পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু বোঝাতে চান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেও দল আরও শক্তিশালী হবে।
তাঁর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদে উঠে আসে, ‘আগামী দিনে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় আমরা ওদের সাফ করে সঠিক জবাব দেব।’ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজিত করার বার্তা দিতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন কাশ্মীরের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে বিজেপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি ‘কাশ্মীর আমাদের’ বলে মন্তব্য করেন। বক্তৃতার শেষে ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও দেন।
সব মিলিয়ে কলকাতার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ছিল, বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টা জবাব দিতে রাজপথের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনী লড়াইয়েও সক্রিয় থাকবে বিজেপি। পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে কলকাতা এবং আশপাশের এলাকায় দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

