নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের রাজনীতির বাইরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিভাজন করা হচ্ছে না—এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যারা বিজেপিকে ভোট দেননি, তাঁদের মধ্যেও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে। আবাস যোজনা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান, সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পছন্দ কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, নতুন আবাস প্রকল্পে প্রায় ৫৪ লক্ষ পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এই তালিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ নাম সংখ্যালঘু পরিবারের। অর্থাৎ, আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সুবিধার ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন অংশকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে।
শুধু আবাসন নয়, মহিলাদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও একটি বড় সংখ্যার কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনায় আগস্ট মাসে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফের এই প্রকল্পের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। সেই পর্বেও প্রায় ২০ লক্ষ সংখ্যালঘু মহিলা সুবিধা পাবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভোটের পছন্দ নয়, সরকারি সুবিধাই মূল বার্তা
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সঙ্গে ভোট দেওয়ার সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। তাঁর দাবি, কোনও মানুষ নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে সরকারি পরিষেবা নির্ধারিত হচ্ছে না।
এই প্রসঙ্গে আবাস প্রকল্পের প্রায় ৫৪ লক্ষ নামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ মানুষের নাম রয়েছে বলেও বক্তব্যে উঠে এসেছে। সংখ্যার এই হিসাব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত বোঝাতে চেয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
রাজনীতির ময়দানে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে অন্য একটি বার্তা—সরকারি পরিষেবা নাগরিকের অধিকার এবং তা ভোটের পছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার বিষয় নয়।
অন্নপূর্ণা যোজনাতেও বড় সংখ্যার দাবি
মহিলাদের জন্য চালু থাকা অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পর্যায়ে প্রায় ২০ লক্ষ সংখ্যালঘু মহিলা সুবিধা পেতে পারেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে আবাসনের পাশাপাশি মহিলাদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রাম থেকে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা শুভেন্দুর
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বিজেপির সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘুদের সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে। এই নির্বাচনী পরিসরে সংখ্যালঘু ভোটারদের দেখাতে হবে যে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন।
নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এমন বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্য তৈরি করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্ব নেই বলে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে শুভেন্দুর বক্তব্যে ভোটের সমীকরণ এবং বিজেপির সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সম্পর্কের প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে দুটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিসর ও সুবিধাভোগীদের সংখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে, আর বিরোধী শিবির থেকে ভোটের সমীকরণকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আবাস থেকে আর্থিক সহায়তা, সামনে প্রকল্পের হিসাব
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ লক্ষ পরিবারের নাম আবাস প্রকল্পে উঠছে এবং তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু পরিবারের নাম রয়েছে। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনায় কোটি সংখ্যায় মহিলার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এই সংখ্যাগুলি শুধু সরকারি প্রকল্পের বিস্তারের ছবি তুলে ধরে না, নির্বাচনের আগে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প কীভাবে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে, তারও একটি উদাহরণ তৈরি করে। বিশেষ করে আবাসন এবং মহিলাদের আর্থিক সহায়তার মতো সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সংখ্যা রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এখন নজর থাকবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার পরবর্তী পর্বে এবং আবাস প্রকল্পের তালিকা নিয়ে পরবর্তী অগ্রগতির দিকে। পাশাপাশি রেজিনগর ও নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তাগুলিও আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
#governmentschemes #westbengalnews #welfareschemes #housing scheme #annapurnayojana #governmentbenefits #minoritywelfare #womenwelfare #politicalnews
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

