Tiger Back in Buxa Tiger Reserve: কর্মসূচিতে বাল্মীকি থেকে বক্সায় এল বাঘিনী। আগামী দুই মাসে আরও তিন বাঘ আনার পরিকল্পনা, নজরদারি ও সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে বাঘের উপস্থিতি না থাকা বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে শুক্রবার শুরু হল বাঘ ফিরিয়ে আনার নতুন অধ্যায়। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে একটি বাঘিনীকে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে ছাড়া হয়েছে। এই বাঘিনীকে ঘিরেই শুরু হয়েছে ধাপে ধাপে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের কর্মসূচি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বাঘিনীকে ছাড়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি বাঘ বক্সায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের পরিবেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নয়; লক্ষ্য হল এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বাঘের একটি কার্যকর, প্রজননক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর জনসংখ্যা গড়ে উঠতে পারে।
বিহার থেকে বক্সায় এল বাঘিনী, শুরু হল নতুন অধ্যায়
শুক্রবার বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে আনা বাঘিনীকে ছাড়া হয়। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি হয়।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বাঘিনীকে আনার মধ্য দিয়ে বক্সায় ধাপে ধাপে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের কর্মসূচির প্রথম পর্যায় শুরু হল। বাঘিনীটির পরিচিতি নম্বর টি১৩৮। ভূপেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবেই বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে এই বাঘিনীকে আনা হয়েছে। তিনি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এই পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগকে ধাপে ধাপে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য একটি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্সায় দীর্ঘদিন স্থায়ী বাঘের জনসংখ্যা না থাকার পর এই বাঘিনীকে ছাড়ার ঘটনাকে সংরক্ষণ উদ্যোগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী দুই মাসে আরও তিন বাঘ আনার পরিকল্পনা
বাঘিনী ছাড়ার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী দুই মাসে বক্সায় আরও তিনটি বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ একটি বাঘিনী ছেড়ে দিয়েই এই কর্মসূচি শেষ হচ্ছে না। বরং ধাপে ধাপে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পরবর্তী বাঘগুলি কখন এবং কীভাবে আনা হবে, তা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়সূচির উপর নির্ভর করবে না। পরিবেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও বাঘ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিক বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তার মধ্যে রয়েছে বাঘের উপযোগী আবাসস্থল, পর্যাপ্ত শিকারপ্রাণীর উপস্থিতি, সম্ভাব্য বাঘের জনসংখ্যার স্থায়িত্ব এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।
অর্থাৎ বক্সায় বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিটি পর্যায়ের পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য শুধু বাঘের সংখ্যা বাড়ানো নয়, দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর এবং স্বনির্ভর বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলা।
বক্সায় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বাঘ পুনঃপ্রবর্তন?
উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঘের আবাসভূমি হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে বক্সার। পরিবেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে বক্সাকে ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
বক্সার অবস্থানও এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই সংরক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে ভুটান ও অসমের বনাঞ্চল এবং সংরক্ষিত এলাকার পরিবেশগত সংযোগ রয়েছে। ফলে বক্সাকে শক্তিশালী করা শুধু একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয় নয়। এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ, অসম এবং ভুটানের বিস্তৃত বনাঞ্চলের মধ্যে বন্যপ্রাণীর চলাচল ও বিস্তারের সম্ভাবনাও যুক্ত।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে আবাসস্থলের অবক্ষয় ও খণ্ডিত হওয়া, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং শিকারপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো কারণে বক্সায় স্থায়ী বাঘের জনসংখ্যা ধরে রাখার মতো পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর ফলেই দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে স্থায়ী বাঘের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
২০১৮ সাল থেকেই চলছিল প্রস্তুতি
বক্সায় বাঘ ফেরানোর এই উদ্যোগ হঠাৎ করে শুরু হয়নি। পরিবেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকেই বাঘের আবাস পুনরুদ্ধার ও সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।
জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ এবং বন্যপ্রাণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় রাজ্যের বাঘ বৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বক্সার পরিবেশকে বাঘের উপযোগী করে তোলা।
২০১৮ সাল থেকে বক্সায় ৮০০টিরও বেশি চিতল ছাড়া হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৮০ হেক্টর তৃণভূমি পুনরুদ্ধার অথবা নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। বাঘের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে শিকারপ্রাণীর উপস্থিতি এবং তৃণভূমির গুরুত্ব এখানে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
এছাড়াও বক্সার বিস্তৃত অঞ্চলে পাতা ক্যামেরায় ২০২১, ২০২৩ এবং ২০২৬ সালে বাঘের চলাচলের প্রমাণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটি বাঘকে অসমের মানস ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের একটি বাঘের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল। অর্থাৎ বক্সার বৃহত্তর বনভূমিতে বাঘের চলাচলের সম্ভাবনা আগে থেকেই নজরে এসেছিল।
শুধু বাঘ ছাড়লেই হবে না, নজর থাকবে বাঘিনীর উপর
বক্সায় বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়ার পরেও কাজ শেষ হচ্ছে না। বরং শুরু হচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। পরিবেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, বাঘিনীটির উপর নিবিড় নজরদারি চালানো হবে।
এর জন্য ব্যবহার করা হবে দূরবর্তী গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, পাতা ক্যামেরা এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারি। এর মাধ্যমে বাঘিনী কোথায় যাচ্ছে, নতুন পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, তার স্বাস্থ্য কেমন এবং তার আচরণ কী রকম—সেগুলি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের বাঘ পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ বক্সায় বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিটি নতুন বাঘ আনার আগে পরিবেশের উপযোগিতা এবং আগের পর্যায়ের ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।
কেন্দ্রের বক্তব্য স্পষ্ট—এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধুমাত্র বাঘকে বক্সায় ফিরিয়ে আনা নয়। লক্ষ্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বাঘ নিজেদের মধ্যে প্রজনন করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর ও স্বনির্ভর জনসংখ্যা তৈরি করতে পারে।
বক্সার সঙ্গে যুক্ত বনাঞ্চলও পাবে গুরুত্ব
বক্সার বাঘ পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব শুধু বাঘের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ, অসম এবং ভুটানের বনাঞ্চলের সঙ্গে বক্সার পরিবেশগত সংযোগ রয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের আবাস শক্তিশালী হলে বৃহত্তর বনভূমিতে বন্যপ্রাণীর চলাচল এবং বিস্তারের সুযোগও বাড়তে পারে।
এর ফলে বাঘের পাশাপাশি বন, তৃণভূমি, শিকারপ্রাণী এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থাৎ বাঘ পুনঃপ্রবর্তনকে একটি নির্দিষ্ট প্রাণীকে একটি নির্দিষ্ট বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং বৃহত্তর পরিবেশগত পরিসরে বক্সার ভূমিকা শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই এই কর্মসূচিকে ব্যাখ্যা করেছে পরিবেশ মন্ত্রক।
স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ
বক্সায় বাঘ পুনরুদ্ধারের এই কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে পরিবেশ মন্ত্রক। বর্তমানে ৬৪টি পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি এবং যৌথ বন ব্যবস্থাপনা কমিটিকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা, জীবিকার সুযোগ তৈরি, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমানো এবং সংরক্ষণ থেকে স্থানীয় মানুষের উপকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
কারণ একটি বাঘের আবাসস্থল দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে শুধু বন ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, সেই এলাকার মানুষের সঙ্গে সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বক্সায় বাঘের পুনরুদ্ধার কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকেও একই পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে।
জয়ন্তীতে ২ হাজার একর জমিতে পর্যটনকেন্দ্রের পরিকল্পনা
বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের পাশাপাশি জয়ন্তীর কাছে প্রায় ২ হাজার একর জমিতে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এলাকার পরিদর্শনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে বক্সায় বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের পাশাপাশি পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে এই পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণের বিস্তারিত নকশা, সময়সীমা বা নির্দিষ্ট পরিকাঠামোর পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাই এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জয়ন্তীর কাছে ২ হাজার একর এলাকায় এমন একটি পর্যটনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।
বক্সায় বাঘিনী ছাড়ার মধ্য দিয়ে তাই একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুরু হল। সামনে আরও তিনটি বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু তার থেকেও বড় বিষয় হল—বাঘের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল, পর্যাপ্ত শিকারপ্রাণী, নজরদারি, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি স্থায়ী বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
#TigerBackInBuxaTigerReserve #BuxaTigerReserve #BuxaTigerReintroduction #BuxaTigressRelease #TigerConservation #ValmikiTigerReserve #BuxaTigerRecovery #WestBengalTiger #TigerReintroductionIndia #BuxaWildlifeConservation
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

