TMC Candidate List 2026 Women Candidates এ ৫২ জন মহিলা প্রার্থীকে সামনে রেখে বড় বাজি তৃণমূলের। ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাহাড়ে জোট এবং —জানুন, কারা এই শক্তিশালী নারী মুখ? রইল তালিকার বিশ্লেষণ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজ্য জুড়ে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়েছেন, মোট ২৯১টি বিধানসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী দিচ্ছে।
বাকি তিনটি আসন দার্জিলিং পাহাড় অঞ্চলে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি আসন ছাড়া হয়েছে অনিত থাপা-র নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা-র জন্য। অনিত থাপা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত, এবং পাহাড়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—এই প্রার্থী তালিকায় মোট ৫২ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, এবারের নির্বাচনে নারী শক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় মহিলাদের প্রার্থী করা হয়েছে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায়ও এই সংখ্যা বেশি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং নারীদের ক্ষমতায়নের একটি সুস্পষ্ট বার্তা।
সব মিলিয়ে, ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা, পাহাড়ে জোটের বার্তা এবং ৫২ জন মহিলা প্রার্থী—এই তিনটি দিক মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা এবারের নির্বাচনে এক নতুন রাজনৈতিক দিশা দেখাচ্ছে। শুধু সংখ্যা নয়, প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে মহিলা প্রার্থীদের তুলে ধরে TMC এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে।
ভবানীপুর কেন্দ্র মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক। এই কেন্দ্র থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়া শুধু আনুষ্ঠানিক নয়—এটি একটি স্পষ্ট বার্তা, নারী নেতৃত্বই তৃণমূল কংগ্রেসের মূল ভিত্তি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বাংলার রাজনীতিতে নারী ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় মুখ। ফলে তাঁর নেতৃত্বে এইবারের প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের অগ্রাধিকার পাওয়া খুবই স্বাভাবিক।
এইবারের তালিকায় (TMC Candidate List 2026 Women Candidates )দেখা যাচ্ছে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মহিলা মুখও উঠে এসেছে।
- মানিকতলা থেকে শ্রেয়া পান্ডে — প্রয়াত নেতা সাধন পান্ডের কন্যা, দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, সমাজকর্মী।
- শ্যামপুকুর থেকে শশী পাঁজা — রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সম্প্রতি রাজনৈতিক আক্রমণের শিকারও হয়েছেন
- দমদম উত্তর থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য — রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, অভিজ্ঞ ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত
- মিনাখা থেকে উষা রাণী মণ্ডল — গ্রামীণ সংগঠনের শক্তিশালী মুখ
এই তালিকা দেখলে স্পষ্ট—তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা নয়, সংগঠনের ভিত শক্ত রাখতে অভিজ্ঞতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।
এইবারের তালিকায় কিছু সেলিব্রিটি ও বিশেষ মুখও রয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রাজারহাট গোপালপুর থেকে অদিতি মুনশি — জনপ্রিয় গায়িকা, সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখ, রাজগঞ্জ থেকে স্বপ্না বর্মণ — এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট।
স্বপ্না বর্মণের প্রার্থীপদ নিয়ে অনেকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এবার সেই জল্পনারই বাস্তব রূপ দেখা গেল। জনপ্রিয়তা ও অনুপ্রেরণার সমন্বয়ই ভোটের শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে।
শুধু শহর নয়, গ্রাম ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলাদেরও এই তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন একদিকে সেলিব্রিটি ও পরিচিত মুখদের প্রার্থী করা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে আদিবাসী, তপসিলি জাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদেরও যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়েছে। বালুরঘাট থেকে অর্পিতা ঘোষ , ধনেখালি থেকে অসীমা পাত্র — দীর্ঘদিনের সংগঠক, বিনপুর থেকে বীরবাহা হাঁসদা — আদিবাসী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ, ইন্দাস থেকে শ্যামলী রায় — স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত নাম। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ মমতা বালা ঠাকুর-এর কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুর-কে প্রার্থী করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে সংগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা স্পষ্ট।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রীনা টপ্পো এক্কা-কে, যিনি তপসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মুর্শিদাবাদে প্রার্থী করা হয়েছে সায়নী সিংহ রায়-কে। বনগাঁ দক্ষিণ থেকে টিকিট পেয়েছেন ঋতুপর্ণা আঢ্য। স্বরূপনগর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বীণা মণ্ডল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারাও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছেন। সোনারপুর উত্তর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে ফিরদৌসি বেগম-কে।
অন্যদিকে, তপসিলি জাতিভুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে। সাঁকরাইল থেকে প্রার্থী হয়েছেন প্রিয়া পাল এবং কেশপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে শিউলি সাহা-কে। চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ, অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-কে প্রার্থী করা হয়েছে, যিনি বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। এছাড়া হুগলির হরিপাল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে করবী মান্না-কে।
হুগলির হরিপাল কেন্দ্র থেকে করবী মান্নাকে প্রার্থী করা হয়েছে, পাশাপাশি তাঁর স্বামী বেচারাম মান্নাকেও প্রার্থী তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। ফলে একই পরিবারের দুই সদস্যের এই কেন্দ্রকে ঘিরে আলাদা করে নজর কেড়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বর্ষীয়ান নেত্রী ও মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-কে দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এই কেন্দ্রের অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রত্না চট্টোপাধ্যায়-কে। তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়-এর স্ত্রী হিসেবেও পরিচিত। এই প্রার্থী তালিকায় যেমন নতুন ও বৈচিত্র্যময় মুখ রয়েছে, তেমনই অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতাদের ওপর জোর দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন—অন্যান্য দলের তুলনায় অনেক বেশি মহিলা প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ: মহিলা ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি, সরকারি প্রকল্পে মহিলাদের সরাসরি সুবিধা, নারী নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা।
অভিজ্ঞতা ও নারী শক্তির সমন্বয়ই তৃণমূলের মূল মন্ত্র (TMC Candidate List 2026 Women Candidates)
২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস যে কৌশল নিয়েছে তা একেবারেই স্পষ্ট—অভিজ্ঞ মহিলা নেতৃত্ব, কৌশলগত মুখ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ভারসাম্যের সমন্বয়। শুধুমাত্র গ্ল্যামার নয়, বাস্তব রাজনীতির অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব। মহিলাদের সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্তিশালী করা।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

