Train Mobile Charging Rules: চলন্ত ট্রেনে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় ফের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে কামরার চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখার পুরনো নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছে রেল বোর্ড। ট্রেনে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত মোবাইল চার্জিং বন্ধ! পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের পর কড়া নির্দেশ রেলের
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দূরপাল্লার ট্রেনে রাতের যাত্রায় মোবাইল চার্জ দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেক যাত্রীরই। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন, তাঁদের কাছে মোবাইলের চার্জ থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চলন্ত ট্রেনে রাতভর মোবাইল কিংবা পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জে রেখে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস যে বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা আরও একবার সামনে এল মুম্বই-হাওড়া মেলের একটি ঘটনায়। ওড়িশার বান্দামুন্ডা স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় আচমকা বিস্ফোরিত হয় চার্জে বসানো একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা।
এই ঘটনার পর ট্রেনের কামরায় মোবাইল ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্র চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার উপর জোর দিয়েছে রেল বোর্ড। নির্দেশ অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের কামরার চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখতে হবে। তবে এটি নতুন কোনও নিয়ম নয়। আগেই জারি হওয়া নির্দেশ যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয়, সেই বিষয়টিই এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মুম্বই-হাওড়া মেলে কীভাবে ঘটল পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণ? (Train Mobile Charging Rules)
শনিবার ভোরে ১২৮০৯ নম্বর ডাউন মুম্বই-হাওড়া মেলে ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি তখন ওড়িশার বান্দামুন্ডা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ট্রেনের বি-৩ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার ৬ নম্বর বার্থে থাকা এক যাত্রী নিজের পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জে বসিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, রাতভর সেটি চার্জে রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
ভোর প্রায় ৩টে ৩৮ মিনিট নাগাদ আচমকা পাওয়ার ব্যাঙ্কটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় যাত্রীদের। কামরার ভিতরে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় আতঙ্ক তৈরি হয়। রাতের অন্ধকারে চলন্ত ট্রেনের মধ্যে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
বিপদ বুঝতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেন রেলকর্মীরা। কামরায় অগ্নিসতর্কীকরণ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর রেল সুরক্ষা বাহিনী এবং রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে হাত লাগান। তাঁদের তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
ঘটনার পর বান্দামুন্ডার কাছে প্রায় ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভোর ৩টে ৫৩ মিনিট নাগাদ ফের যাত্রা শুরু করে মুম্বই-হাওড়া মেল।
এই ঘটনায় পাওয়ার ব্যাঙ্কটি ঠিক কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছিল, তা অবশ্য সরবরাহ করা তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে চার্জে বসানো বৈদ্যুতিন যন্ত্র থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা যে ট্রেনের মতো পরিবেশে গুরুতর বিপদ তৈরি করতে পারে, ঘটনাটি সেই সতর্কবার্তাই সামনে এনেছে।
রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চার্জিং বন্ধ (Train Mobile Charging Rules)
মুম্বই-হাওড়া মেলের ঘটনার পর রেল বোর্ড ট্রেনের কামরায় চার্জিং সংক্রান্ত নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য থাকা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখতে হবে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি। রাতের এই ছয় ঘণ্টা চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখার নিয়ম নতুন করে চালু হয়নি। ২০১৪ সালের ১৯ জুন রেল বোর্ড এই বিষয়ে নির্দেশ জারি করেছিল। পরে ২০২১ সালেও একই নিয়ম মেনে চলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, সাম্প্রতিক ঘটনার পর নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পরিবর্তে আগে থেকেই চালু থাকা নিরাপত্তাবিধি যাতে কোনওভাবেই উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ।
শুধু নির্দেশ জারি করেই বিষয়টি শেষ করতে চাইছে না রেল বোর্ড। নির্ধারিত সময়ে কামরার চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখা হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীদের। পাশাপাশি, এই নিয়ম ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে আধিকারিক এবং তত্ত্বাবধায়কদের আকস্মিক পরিদর্শন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন কর্মীর কী দায়িত্ব, কখন চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে এবং নিয়ম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এই বিষয়গুলি স্পষ্ট রাখার কথা বলা হয়েছে।
রেলের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য রাতের ট্রেনযাত্রায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো। বিশেষ করে যাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে থাকেন, সেই সময় কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বা আগুন বেরোলে বিপদ বুঝতে দেরি হতে পারে। তাই রাতের নির্দিষ্ট সময়ে চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখার নিয়ম কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ট্রেনে উঠলে মোবাইল চার্জ নিয়ে কী কী সতর্কতা মেনে চলবেন? (Train Mobile Charging Rules)
দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রার আগে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিন যন্ত্র যথাসম্ভব চার্জ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতের ট্রেনে উঠলে এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। কারণ রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কামরার চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ থাকার কথা।
অনেক যাত্রী যাত্রাপথে মোবাইলের পাশাপাশি পাওয়ার ব্যাঙ্কও চার্জে বসান। কিন্তু চার্জ দেওয়ার সময় কোনও যন্ত্র অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠছে কি না, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন। যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বেরোলে, পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে কিংবা অন্য কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে সেটির ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত রেলকর্মীদের জানাতে হবে।
বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে রাতভর কোনও যন্ত্র চার্জে রেখে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস সম্পর্কে। কারণ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকলে যন্ত্রে কোনও সমস্যা তৈরি হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে নজরে না-ও আসতে পারে। চলন্ত ট্রেনের কামরায় বহু মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করেন। ফলে একটি যন্ত্রে আগুন লাগলে তার প্রভাব অন্য যাত্রীদের উপরেও পড়ার আশঙ্কা থাকে।
মুম্বই-হাওড়া মেলের ঘটনায় রেলকর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে একইভাবে বিপদ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সেই কারণেই সতর্কতামূলক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যাত্রীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। ট্রেনের চার্জিং পয়েন্ট কখন চালু থাকবে, তা ব্যক্তিগত সুবিধার পরিবর্তে রেলের নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তাই রাতের যাত্রায় মোবাইল ব্যবহারের পরিকল্পনা করার সময় চার্জিং বন্ধ থাকার বিষয়টি আগেভাগেই মাথায় রাখা ভালো।
রেলের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও যন্ত্র থেকে আগুন বা ধোঁয়া বেরোলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত রেলকর্মীদের বিষয়টি জানানোই নিরাপদ পদক্ষেপ।
বান্দামুন্ডার কাছে মুম্বই-হাওড়া মেলে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সামান্য অসতর্কতা কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই রাতের ট্রেনযাত্রায় মোবাইল চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরনো নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এখন আরও বেশি জরুরি।

