ভ্রমণের ইচ্ছে থাকলেও সঞ্চয়ের অভাবে অনেক সময় প্ল্যান কাগজেই আটকে যায়—এটাই বাস্তব। কিন্তু একটু পরিকল্পনা আর অভ্যাস বদলালেই ছবি বদলাতে পারে। এই Travel fund saving tips–গুলো কোনও কঠিন ফিনান্সিয়াল থিওরি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে সহজে মেনে চলার মতো কিছু স্মার্ট উপায়। কোথায় অযথা খরচ হচ্ছে, কীভাবে ছোট ছোট সেভিংস মিলিয়ে বড় অঙ্কের ট্রাভেল ফান্ড তৈরি করা যায়, আর কীভাবে আনন্দের সঙ্গে সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব—এই অংশে তারই স্পষ্ট দিশা মিলবে। আপনি চাকরিজীবী হোন বা ফ্রিল্যান্সার, এই Travel fund saving tips আপনাকে ধাপে ধাপে পৌঁছে দেবে আপনার স্বপ্নের পাহাড় বা সমুদ্রের ঠিকানায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক : নতুন বছর মানেই নতুন ক্যালেন্ডার আর নতুন ছুটির তালিকা। মনটা এখনই পাহাড়-পাহাড় বা সমুদ্র-সমুদ্র করছে, তাই তো? কিন্তু পকেটের দিকে তাকালেই সব প্ল্যান ভেস্তে যায়। মাসের শেষে সেই হাহাকার—”টাকাটা যে কোথায় বেরিয়ে যায়!”
ভ্রমণপিপাসু বাঙালির জন্য সুখবর! ট্রাভেল ফান্ড তৈরি করার জন্য আপনাকে বড়লোক হতে হবে না। প্রয়োজন শুধু একটু স্মার্টনেস আর আমাদের ঠাকুমা-দিদিমাদের শিখিয়ে যাওয়া কিছু পুরনো অভ্যাস। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা নিয়ে এসেছি এমন ৯টি অভিনব এবং কার্যকরী উপায়, যা মেনে চললে বছরের শেষে আপনার ট্রাভেল ফান্ড দেখে আপনি নিজেই চমকে যাবেন।
আসুন জেনে নিই, লক্ষ্মীলাভের সেই ৯টি গোপন সূত্র।
১. দিদিমা-ঠাকুমার সেই ‘বোকা ভাঁড়’ (The Traditional Clay Pot)
ছোটবেলায় মেলা থেকে কেনা মাটির ভাঁড় মনে পড়ে? একে ‘বোকা ভাঁড়’ বলা হতো কেন জানেন? কারণ, এর কোনো চাবি বা ঢাকনা নেই। টাকা বের করতে হলে একে ভাঙতেই হবে। আজকের যুগে এটিই হতে পারে আপনার সেরা বন্ধু। একটা মাটির ভাঁড় কিনুন। প্রতিজ্ঞা করুন, এটা শুধু ভ্রমণের জন্য। এটি ভাঙার শব্দটাই হবে আপনার ভ্রমণের টিকিট। এটি আপনাকে লোভ সংবরণ করতে শেখাবে, কারণ চাইলেই খুচরো প্রয়োজনে এখান থেকে টাকা বের করা যায় না।
২. অফিস ফেরত খুচরোর ম্যাজিক (The Loose Change Rule)
অফিস বা বাজার থেকে ফিরে পকেটে বা ব্যাগে যে খুচরো কয়েন বা ১০-২০ টাকার নোট থাকে, আমরা সেগুলোকে পাত্তাই দিই না। এদিক-ওদিক ফেলে রাখি। আজ থেকে একটা নিয়ম করুন—বাড়ি ফিরে পকেটের সব খুচরো টাকা সোজা ওই ‘বোকা ভাঁড়ে’ বা একটি নির্দিষ্ট জারে ফেলবেন। বিশ্বাস করুন, বিন্দু বিন্দু জলেই সিন্ধু হয়। এক বছর পর এই ‘অবহেলিত’ খুচরো টাকাই আপনার ট্রেনের টিকিট কেটে দেবে।
৩. অটোমেটেড ট্রাভেল আরডি (Automated RD)
যদি মাটির ভাঁড়ে ভরসা না পান, তবে ব্যাংকের সাহায্য নিন। স্যালারি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক করে একটি ১২ মাসের ‘রেকারিং ডিপোজিট’ (RD) খুলুন। নাম দিন ‘লাদাখ ফান্ড’ বা ‘গোয়া ফান্ড’। মাসের শুরুতেই মাইনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেটিক টাকা কেটে যাবে। যা হাতে নেই, তা খরচের ভয়ও নেই!
৪. ‘নো স্পেন্ড উইকেন্ড’ চ্যালেঞ্জ (No Spend Weekend)
মাসে অন্তত একটা সপ্তাহান্ত বা উইকেন্ড বেছে নিন, যেদিন আপনি এক টাকাও খরচ করবেন না। সিনেমা হল বা রেস্তোরাঁ নয়, বাড়িতেই সিনেমা দেখুন, বাড়িতেই ভালোমন্দ রাঁধুন। ওই উইকেন্ডে বাইরে বেরোলে যে ২-৩ হাজার টাকা খরচ হতো, সেটা সঙ্গে সঙ্গে আপনার ট্রাভেল ফান্ডে ট্রান্সফার করুন।
৫. নেশা বা অভ্যাসের জরিমানা (The Bad Habit Tax)
এটা বেশ মজার সাইকোলজিক্যাল ট্রিক। ধরুন আপনি ধূমপান ছাড়তে চান বা বাইরের কফি খাওয়া কমাতে চান। নিজেকে কথা দিন—”যতবার আমি নিয়ম ভাঙব বা বাইরে ফালতু খরচ করব, ঠিক সমপরিমাণ টাকা জরিমানা হিসেবে ট্রাভেল ফান্ডে জমা দেব।” এতে বদভ্যাসও কমবে, আবার ফান্ডও বাড়বে।
৬. উপহার হোক ট্রাভেল ভাউচার
জন্মদিন বা অ্যানিবার্সারিতে নিকট আত্মীয়দের স্পষ্ট বলে দিন—”আমার জামাকাপড় বা শোপিস লাগবে না, আমাকে ট্রাভেল ভাউচার বা সামান্য ক্যাশ দাও।” শুনতে একটু স্বার্থপর মনে হতে পারে, কিন্তু ঘর ভর্তি অপ্রয়োজনীয় উপহারের চেয়ে এটা অনেক ভালো।
৭. ৫২ সপ্তাহের চ্যালেঞ্জ (The 52-Week Challenge)
এটা একটা গেমের মতো। বছরের প্রথম সপ্তাহে জমান ৫০ টাকা, দ্বিতীয় সপ্তাহে ১০০ টাকা, তৃতীয় সপ্তাহে ১৫০ টাকা। এভাবে প্রতি সপ্তাহে ৫০ টাকা করে বাড়াতে থাকুন। বছরের শেষে গিয়ে দেখবেন অঙ্কটা প্রায় ৭০,০০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে!
৮. অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বাতিল
নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, হটস্টার, জিম—কত সাবস্ক্রিপশন আমরা নিয়ে রাখি যা ব্যবহারই করি না। আজই অডিট করুন। যেগুলো গত ২ মাসে দেখেননি, সেগুলো বাতিল করুন। সেই বেঁচে যাওয়া টাকাটা আরডির সঙ্গে যোগ করে দিন।
৯. পুরনো জিনিস বিক্রি (Sell to Sail)
বাড়িতে কত পুরনো বই, জামাকাপড় বা গ্যাজেট পড়ে আছে যা আপনি ব্যবহার করেন না। ওএলএক্স (OLX) বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সেগুলো বিক্রি করে দিন। ঘরও পরিষ্কার হবে, আর সেই টাকায় বিমানের টিকিটও হয়ে যাবে। একেই বলে ‘আমও গেল, ছালাও গেল’—কিন্তু লাভের খাতায়!
ভ্রমণ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আত্মার খোরাক। অজুহাত দেওয়া বন্ধ করুন। আজ অফিস ফেরত একটা মাটির ভাঁড় কিনেই আনুন। কে জানে, সেই মাটির ভাঁড়েই হয়তো লুকিয়ে আছে আপনার আগামী দিনের প্যারিস বা বালি ভ্রমণের চাবিকাঠি!
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

