নিউজ অফবিট ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্ষেপ (Trump Nobel Prize Drama) বহু পুরনো। বারাক ওবামা পেয়েছেন, জিমি কার্টার পেয়েছেন, কিন্তু তিনি বিশ্বজুড়ে এতগুলো যুদ্ধ থামিয়েও পাননি—এই ‘যন্ত্রণা’ ট্রাম্প বহুবার প্রকাশ্যে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় উগরে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, “অন্তত ৮টি যুদ্ধ আমি থামিয়েছি, অথচ ক্রেডিট পাইনি।” তবে এবার কি সেই বহুদিনের ক্ষতে কিছুটা মলম পড়ল?
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী তথা নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো (Maria Corina Machado) নিজের নোবেল মেডেলটি তুলে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। ট্রাম্প বিষয়টিকে “অসাধারণ সৌজন্য” (Wonderful Gesture) বললেও, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যে দেখছেন গভীর এক রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রশ্ন উঠছে, মাচাদো কি ট্রাম্পের ‘ইগো’ তুষ্ট করে নিজের গদি পাকা করতে চাইলেন?
ট্রাম্পের ‘নোবেল’ ক্ষুধা এবং মাদুরো অপহরণ তত্ত্ব
ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবিরোধী’ এবং ‘শান্তি স্থাপনকারী’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরতে চান। কিন্তু নোবেল কমিটি তাঁকে ব্রাত্যই রেখেছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, ট্রাম্পের এই নোবেল না পাওয়ার হতাশা থেকেই কি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এত বড় পদক্ষেপ?
আমেরিকা যে কায়দায় মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত বা কার্যত ‘অপহরন’ করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, তা ট্রাম্পের শক্তি প্রদর্শনেরই নামান্তর। নিন্দুকেরা বলছেন, ট্রাম্প প্রমাণ করতে চেয়েছেন—তিনিই পারেন স্বৈরাচারীদের সরিয়ে গণতন্ত্র ফেরাতে, যা নোবেল পাওয়ার যোগ্য। আর ঠিক সেই জায়গাতেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন মাচাদো।
মাচাদোর মেডেল দান: কৃতজ্ঞতা নাকি তোষামোদ?
নোবেল কমিটির নিয়ম স্পষ্ট—পুরস্কারের অর্থ দান করা যায়, কিন্তু খেতাব বা সম্মান হস্তান্তরযোগ্য নয় (Not Transferable)। মাচাদো সেটা জানেন। তবুও তিনি কেন নিজের মেডেল ট্রাম্পকে দিলেন?
১. ট্রাম্পের মনস্তত্ত্ব বোঝা: মাচাদো জানেন, ট্রাম্প প্রশংসায় গলে যান। আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন ছাড়া ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর পক্ষে টিঁকে থাকা অসম্ভব। তাই ট্রাম্পের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা—’নোবেল প্রাইজ’-এ আঘাত করলেন তিনি। ট্রাম্পকে মেডেল দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, “আমার চোখে আপনিই আসল শান্তির দূত।” ২. প্রেসিডেন্সি পাকা করা: মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর পথের কাঁটা অনেক। ট্রাম্পের হাতে মেডেল তুলে দিয়ে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ব্যক্তিগত স্তরে নিয়ে গেলেন।
ট্রাম্প কি মেডেলটি রাখলেন?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক অনুষ্ঠানে মাচাদো যখন মেডেলটি ট্রাম্পকে দেন, ট্রাম্প দৃশ্যত আপ্লুত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, মাচাদো না থাকলে ভেনেজুয়েলার মুক্তি সম্ভব ছিল না। তবে ট্রাম্প মেডেলটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখবেন, নাকি প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দেবেন—তা সময় বলবে। কিন্তু মাচাদোর এই চালে যে ট্রাম্প যারপরনাই খুশি, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালের ছুটির ক্যালেন্ডার দেখে এখনই প্ল্যান করুন ৫টি ট্রিপ | Long Weekends List 2026
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: গণতন্ত্র নাকি দেওয়ানিয়া?
নোবেল কমিটি যাই বলুক, মাচাদোর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন নজির গড়ল। একজন রাষ্ট্রনেতা (ভাবী) নিজের দেশের সর্বোচ্চ সম্মান অন্য দেশের প্রেসিডেন্টের পায়ের কাছে সমর্পণ করছেন নিজের ক্ষমতা সুনিশ্চিত করতে। ট্রাম্প হয়তো মেডেলটি সাজিয়ে রাখবেন, কিন্তু ইতিহাস মনে রাখবে—নোবেল শান্তি পুরস্কারও আজ ভূ-রাজনীতির (Geopolitics) এক সাধারণ ‘কারেন্সি’ বা মুদ্রায় পরিণত হলো।
ট্রাম্পের ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি সত্য কি মিথ্যা তা তর্কের বিষয়, কিন্তু মাচাদো ট্রাম্পের ‘মন’ জয় করার যুদ্ধে যে জিতে গেলেন, তা নিশ্চিত। এই মেডেল হস্তান্তর আসলে ভেনেজুয়েলার মসনদে মাচাদোর ইনসিওরেন্স পলিসি ছাড়া আর কিছুই নয়।

