Union Budget 2026 Preview: পশ্চিমবঙ্গ কি এবার কেন্দ্রের ফোকাসে? ভোটের আগে কি বাংলা পাবে কোন বাড়তি সুবিধা? জেনে নিন কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে পশ্চিমবঙ্গ পেতে পারে কী কী সুবিধা? রেল, আয়কর, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, জিএসটি ঘিরে রাজ্যের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সমীকরণের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ শুভনীল চৌধুরী।
শম্পা পাল: অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন টানা নবমবারের মতো ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে চলেছেন। এবছর বিশেষত্ব হলো, এই দিনটি রবিবার, ফলে ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপিত হচ্ছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন—রবিবারেই বা কেন বাজেট? ১লা ফেব্রুয়ারি মানেই শুধু অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা নয়—এই দিনটা পশ্চিমবঙ্গের জন্য কার্যত এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লিটমাস টেস্ট। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটকে ঘিরে রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ, শিল্পমহল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এক অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করছে। কারণ এই বাজেট শুধু অঙ্কের হিসাব নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ।
পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কেন্দ্রের বাজেটে তারা ন্যায্য গুরুত্ব পায় না। জিএসটি বকেয়া, ১০০ দিনের কাজের টাকা, রেল ও পরিকাঠামো প্রকল্পে ধীরগতি—সব মিলিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রশ্নগুলো এবার আরও জোরালোভাবে উঠে আসছে। এই প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করব, Union Budget 2026-এ পশ্চিমবঙ্গ ঠিক কী পেতে পারে, কোথায় প্রত্যাশা বেশি, আর কোন জায়গায় হতাশার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই বিষয়ে নিউজ অফবিটকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (অটোনমাস) কলকাতার অর্থনীতি বিষয়ের অধ্যাপক শুভনীল চৌধুরী।
আরও পড়ুন : আনন্দপুরে মৃত্যুফাঁদ │ ফিরে এল কলকাতার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াল স্মৃতি │ জানুন, হাড়হিম করা সেই গল্প।
রেল ও মেট্রো প্রকল্প
পশ্চিমবঙ্গের বাজেট প্রত্যাশার তালিকায় এক নম্বরে যে বিষয়টি রয়েছে, তা হলো রেল ও মেট্রো পরিকাঠামো। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক মেট্রো প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো, জোকা–এসপ্ল্যানেড, বারাসাত–নোয়াপাড়া—এই সব প্রকল্প শুধু যাতায়াত নয়, শহরের অর্থনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
রাজ্যের মানুষ আশা করছেন, আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে মেট্রো রেল প্রকল্পগুলির জন্য আলাদা করে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু, রেল স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণ এবং পণ্য পরিবহণের জন্য রেল করিডোরে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকার এই খাতে দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ নিতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছায় এবং উন্নয়নের একটি স্পষ্ট ছবি তুলে ধরা যায়।
আয়কর কাঠামো ও মধ্যবিত্ত
মধ্যবিত্ত বাঙালির পকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই আলোচনার কেন্দ্রে আসে আয়কর (Income Tax)। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এবছর আয়করে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বর্তমানে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর যে ছাড়ের সুবিধা রয়েছে, সেটি বজায় থাকতেই পারে।
তবে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, কিছুটা হলেও কর কাঠামো আরও সহজ করা হবে। বিশেষ করে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন, হোম লোনে ছাড় কিংবা স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হলে মধ্যবিত্তের উপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে যেহেতু চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি, তাই এই অংশের দিকে বাজেটে বিশেষ নজর থাকছে।
এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) ও সামাজিক সুরক্ষা
গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত এমজিএনআরইজিএ (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট) বা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প। গ্রামবাংলার লক্ষ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ন্যূনতম রোজগার ও জীবিকা সুরক্ষার ভরসা পায়। তবে গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পকে ঘিরে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে বকেয়া অর্থ, কাজের অনুমোদন এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। ফলে Union Budget 2026-এ এই প্রকল্প নিয়ে কী ঘোষণা হয়, সেদিকে গ্রামীণ বাংলার নজর কার্যত স্থির।
এই প্রেক্ষিতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি বড় পরিবর্তন—এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পের নতুন নামকরণ। কেন্দ্রের তরফে এই প্রকল্পকে নতুন করে “পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি যোজনা” নামে পরিচিত করার প্রস্তাব সামনে এসেছে। নাম বদলের পাশাপাশি প্রকল্পের কাঠামো, বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, নাম পরিবর্তনের চেয়ে প্রকল্পের মূল চেতনা—নিয়মিত কাজ ও সময়মতো মজুরি—বজায় রাখা বেশি জরুরি।
বাজেট বিশেষজ্ঞদের মতে, Union Budget 2026-এ যদি এই নতুন নামের অধীনে প্রকল্পটির বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয় এবং পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া অর্থ মেটানোর জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আনতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী পেনশন-সহ অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা স্কিমে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে। কারণ এই সব প্রকল্প মিলিয়েই গ্রামবাংলার সামাজিক নিরাপত্তার একটি বড় ছাতা তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এমজিএনআরইজিএ থেকে পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি যোজনা—এই রূপান্তর শুধু নামের পরিবর্তন নয়, বরং কেন্দ্রের গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নীতির দৃষ্টিভঙ্গির একটি বড় ইঙ্গিত। বাজেটের ঘোষণাই ঠিক করবে, এই পরিবর্তন বাস্তবে গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা
করোনা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষিতে আয়ুষ্মান ভারত এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পে রাজ্যের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও একই ছবি। স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা—সব স্তরেই অবকাঠামো ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি Budget 2026-এ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ঘোষণা আসে, তবে তা শুধুই রাজনৈতিক লাভ নয়, বরং মানব উন্নয়নের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
জিএসটি, ফিন্যান্স কমিশন ও রাজ্য-কেন্দ্র সমীকরণ
পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক টানাপোড়েনের অন্যতম বড় কারণ GST (Goods and Services Tax)। রাজ্যের অভিযোগ, জিএসটি চালুর পর থেকে তারা প্রাপ্য রাজস্ব পুরোপুরি পাচ্ছে না। ফিন্যান্স কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্যের ভাগ বাড়বে না কমবে—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক।
বাজেট ভাষণে যদি জিএসটি ক্ষতিপূরণ বা রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত সহায়তার ইঙ্গিত থাকে, তাহলে সেটিকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় প্রাপ্তি বলেই ধরা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পশ্চিমবঙ্গের কাছে শুধু একটি অর্থনৈতিক নথি নয়—এটি রাজনৈতিক বার্তা, উন্নয়নের দিশা এবং কেন্দ্রের মনোভাবের প্রতিফলন। রেল, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও জিএসটি—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই বিচার হবে, বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ আদৌ বিশেষ কিছু পেল কি না।
১লা ফেব্রুয়ারির পরই পরিষ্কার হবে, এই প্রত্যাশার পাহাড় কতটা বাস্তবের মাটিতে দাঁড়াতে পারল।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

