West Bengal Education Reform 2026: স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের বড় ভূমিকা, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার আশ্বাস, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, মিড-ডে মিলের মানোন্নয়ন এবং জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন— শিক্ষা ব্যবস্থায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিকে সামনে রেখে এবং ড. ভীমরাও আম্বেদকরের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের ভাবনাকে ভিত্তি করে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের রূপরেখা ঘোষণা করল নতুন সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়— শিক্ষার প্রতিটি স্তরের পরিকাঠামো, নিয়োগ, পঠনপাঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষা যৌথ তালিকাভুক্ত বিষয় হওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় সরকারেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর না করায় গত তিন বছর ধরে কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ রাজ্য পায়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই নীতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে এবং আগামী ১ আগস্ট থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দিল্লি থেকে আসা আটজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে কেন্দ্রীয় অনুদান
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চলতি অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় অনুদানের অর্থ রাজ্যের হাতে চলে আসবে। সেই অর্থ ব্যয় করা হবে রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোথাও ভবন সংস্কার, কোথাও শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন, কোথাও পানীয় জল বা শৌচাগারের সমস্যা— সবকিছুই পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।
স্কুলে আসছে বড় পরিবর্তন
মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন।
- স্কুলে মিড-ডে মিল রান্নায় কাঠ বা কয়লার ব্যবহার তুলে দিয়ে ধাপে ধাপে গ্যাসের মাধ্যমে রান্নার ব্যবস্থা করা হবে।
- পর্যায়ক্রমে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) বসানো হবে।
- প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরিষ্কার শৌচাগার এবং আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
- পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে উন্নত মানের থালা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হবে।
- বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম-সহ গরমপ্রবণ জেলার যেসব স্কুলে এখনও পাখা নেই, সেখানে দ্রুত সিলিং ফ্যান বসানো হবে।
- বালিকা বিদ্যালয়গুলিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে।
নিয়োগে স্বচ্ছতার আশ্বাস
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত নীতিগত ভুলের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আদালতের জটিলতায় আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই বিধানসভায় নতুন আইন এনে সেই ভুল সংশোধন করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর মামলাটি পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আইনি জট কাটবে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৬ হাজার পদের জন্য ইন্টারভিউ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের অনুমতি মিললেই দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ
সরকারের দাবি, ভবিষ্যতের সমস্ত নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন—
- কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
- এসসি, এসটি, ওবিসি, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির সংরক্ষণ নীতি কঠোরভাবে মেনে নিয়োগ হবে।
- শুধুমাত্র মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ করা হবে।
মিড-ডে মিলে বাড়ছে বরাদ্দ
আগামী ১ আগস্ট থেকে মিড-ডে মিলের মান উন্নত করারও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীদের খাবারের জন্য দৈনিক বরাদ্দ ৬ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। এই প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব ইসকন-এর হাতে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর কড়া নজর
বেসরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধির বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এনওসি দেওয়া হয়েছে, তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে ফি কাঠামো নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।
স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের বড় ভূমিকা
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপি ও এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মডেল অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও স্কুল পরিচালন সমিতির শীর্ষপদে অভিভাবকদের বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই নতুন বিল আনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, এর ফলে রাজনৈতিক প্রভাব কমবে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় অভিভাবকদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।
#WestBengalEducation #EducationReform #SchoolManagement #TeacherRecruitment #NationalEducationPolicy #ShubhenduAdhikari #SchoolInfrastructure #MidDayMeal #EducationNews

