নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নাম কি এবার বদল হতে চলেছে? রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সৌমিত্র খট্টাচার্য জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় রাজ্যের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এবার বিধানসভার মাটিতে বিল আকারে আসতে চলেছে বলেই জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালেও তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। এবার সেই বিষয়টিই নতুন করে সামনে এসেছে। একইসঙ্গে বাংলার ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বারাণসীর পুরনো যোগসূত্রকে সামনে রেখে আরও একটি বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন রাজ্যের নেতৃবৃন্দ। ফলে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে।
রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিধানসভায় আসছে বিল
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলেও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে প্রক্রিয়াটি আর এগিয়ে যায়নি। এবার ফের রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করা হবে।
এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের নাম শুধু বাংলায় পরিবর্তন করার কথা নয়। ইংরেজিতেও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলা ও ইংরেজি—দুই ক্ষেত্রেই রাজ্যের বর্তমান নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাই এবার বিধানসভার আলোচনার কেন্দ্রে আসতে চলেছে। সৌমিত্র খট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে বিল পেশ করা হবে। ফলে আগের উদ্যোগ যেখানে থেমে গিয়েছিল, এবার সেই বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে এসেছে।
২০২২ সালের উদ্যোগের পর ফের একই প্রসঙ্গ
রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে ২০২২ সালেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের নাম বদলের প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি।
এবার সেই পুরনো প্রসঙ্গই ফের সামনে এসেছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সৌমিত্র খট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিধানসভায় বিল আনার মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় এই বিষয়টি পেশ করা হবে।
এখানেই এবারের উদ্যোগের বিশেষ দিক হল, রাজ্যের নাম বাংলা এবং ইংরেজি—দুই ভাষাতেই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ফলে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি কেবল একটি ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই জানানো হয়েছে।
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে, উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া থেমে যাওয়ার পর এবার আবার নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। বিধানসভায় বিল পেশ হলে এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
বারাণসীর সঙ্গে বাংলার পুরনো যোগসূত্র সামনে আনার পরিকল্পনা
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলার ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বারাণসীর পুরনো যোগসূত্রকেও সামনে আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বারাণসীতে বাঙালির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যিক উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের নেতৃবৃন্দ।
এই পরিকল্পনায় পূজ্য বিহারী রাজপরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে একটি বড় ভবন তৈরি করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সেই ভবনে থাকবে গ্রন্থাগার, সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য আলাদা পরিসর।
অর্থাৎ বারাণসীতে বাংলার ঐতিহ্যিক উপস্থিতিকে শুধু স্মৃতির মধ্যে আটকে না রেখে তাকে একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক পরিসরের মাধ্যমে ধরে রাখার পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের সঙ্গে বারাণসীর যে পুরনো সম্পর্ক রয়েছে, সেই উত্তরাধিকারকে সংরক্ষণ করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
১৮৪৬ সালের কালিমন্দির পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা
বারাণসীতে থাকা একটি পুরনো কালিমন্দিরকেও এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ১৮৪৬ সালে নির্মিত এই কালিমন্দির বর্তমানে অত্যন্ত সংকীর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই মন্দির পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই মন্দির পুনরুদ্ধারের জন্য গায়িত্রী দেবী পাঁচ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাম আমলে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। অর্থাৎ অর্থ দেওয়ার উদ্যোগের কথা সামনে এলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মন্দির পুনরুদ্ধারের কাজ সেই সময়ে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীকালে তৃণমূল সরকারের আমলেও মন্দির পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
এবার আবার সেই কালিমন্দির পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বারাণসীতে বাঙালির ঐতিহ্যিক উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের বৃহত্তর পরিকল্পনার মধ্যেই এই মন্দির পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও রাখা হয়েছে।
বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই বদলাবে রাজ্যের নাম
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। শুধু বাংলায় নয়, ইংরেজিতেও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থাৎ দুই ভাষাতেই রাজ্যের নাম একইভাবে পরিবর্তনের জন্য বিধানসভায় বিল আনার কথা জানানো হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ। এবার সেই নাম পরিবর্তনের জন্যই বিল আনার উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। তবে নতুন নাম কী হবে, সেই বিষয়টিই এখন এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আগে একবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এগোয়নি। এবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি সৌমিত্র খট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় বিল পেশ করা হবে। একইসঙ্গে বারাণসীতে বাংলার ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং পুরনো কালিমন্দির পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
ফলে একদিকে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব, অন্যদিকে বারাণসীতে বাংলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের পরিকল্পনা—এই দুই বিষয়ই একইসঙ্গে সামনে এসেছে। এখন নজর বিধানসভায় পেশ হতে চলা সেই বিলের দিকে। রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কীভাবে এগোয়, সেটিই পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

