নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সারথি অনুষ্ঠানে সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, অষ্টম শ্রেণি থেকে সারথী প্রকল্প চালু, স্মার্ট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো, শিক্ষকদের নিয়োগ এবং মধ্যাহ্নভোজের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, পাঠ্যপুস্তক, স্কুলব্যাগ, খেলাধুলা এবং মেধাবী পড়ুয়াদের বৃত্তি নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা এবং বিদ্যালয়ে মুঠোফোন ব্যবহারের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ছাত্রীদের বছরে যে এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তা ২০২৭ সালে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, ছাত্রীদের জন্য এই সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা করেছেন তিনি।
পাশাপাশি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণি থেকেই সারথী প্রকল্প চালু করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আটশো বিদ্যালয়কে স্মার্ট বিদ্যালয় করার পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ছশোটি স্মার্ট বিদ্যালয় অনুমোদন করা হয়েছে। আরও দুশোটি বিদ্যালয়কে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাঁর লক্ষ্য, চলতি বছরেই মোট আটশোটি বিদ্যালয়ে স্মার্ট বিদ্যালয় ব্যবস্থা চালু করা।
এই বিদ্যালয়গুলিতে ভবন, খেলার মাঠ, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার এবং আধুনিক শিক্ষার উপযোগী অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার সুযোগ আরও উন্নত করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
আশি হাজার বিদ্যালয়ে অনুদান ও শিক্ষকদের নিয়োগ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের সময় তিন বছর ধরে বিদ্যালয়গুলিকে যৌথ অনুদান দেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রায় আশি হাজার বিদ্যালয়ে একদিনে প্রায় তিনশো কোটি টাকার কাছাকাছি যৌথ অনুদান পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের খাতা ও স্কুলব্যাগের গুণগত মান উন্নত করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগে পড়ুয়াদের দেওয়া খাতার কাগজের মান ভালো ছিল না। সেই পরিস্থিতি বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর অভাবের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্কুল সার্ভিস কমিশন প্রথম পর্যায়ে দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, তালিকাটি ত্রুটিমুক্ত। আগামী দিনে শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
মধ্যাহ্নভোজে বাড়ছে বরাদ্দ, পুষ্টিকর খাবারের উদ্যোগ
বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজের গুণগত মান বাড়ানোর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তরে মাথাপিছু বরাদ্দ ছয় টাকা আটাত্তর পয়সা থেকে বাড়িয়ে দশ টাকা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কলকাতায় ইতিমধ্যেই ইসকনের মাধ্যমে প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়াকে পুষ্টিকর ও নিরামিষ খাবার দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা প্রায় দুই লক্ষ ৪৫ হাজার পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৃত্তি, খেলাধুলা ও বিদ্যালয়ে মুঠোফোন ব্যবহারে আপত্তি
মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য বিবেকানন্দ মেধাবৃত্তি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মেধাবী পড়ুয়াদের এই বৃত্তির আওতায় আনা হবে।
এ ছাড়া সারথী প্রকল্প, সৌরচালিত শিক্ষাসামগ্রী, উন্নত পোশাক, ভালো পাঠ্যপুস্তক, স্কুলব্যাগ এবং মধ্যাহ্নভোজে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। বিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষার্থী বাহিনী, জাতীয় সেবা প্রকল্প এবং ব্রতচারী কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন। পাশাপাশি খেলো ইন্ডিয়া ও জুড়ো ইন্ডিয়ার মতো কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ এবং খেলাধুলার মান বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য আগে যে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো, সেই আর্থিক সহায়তা নিয়েও নতুন করে ভাবার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। তবে সেই অর্থ শুধুমাত্র শিক্ষাসংক্রান্ত খরচে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা এবং মুঠোফোন কেনার জন্য অর্থ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মুঠোফোন ব্যবহারের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর ফলে পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে এই বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মূলত বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার পরিকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, পুষ্টিকর খাবার, বৃত্তি এবং খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথাই এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
#WestBengalSchools #SchoolEducation #SarathiScheme #SmartSchools #StudentWelfare #TeacherRecruitment #MidDayMeal #VivekanandaMeritScholarship #EducationNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

