Why Mojtaba Khamenei Became Iran Supreme Leader: আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার শূন্যতা পূরণে সামনে আসে মোজতবা খামেনির নাম। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্র ‘বেইত’-এ কাজ করা, আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাবই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে দিয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে মোজতাবা খামেনির নাম সামনে আসা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন ঠিক মোজতাবা খামেনিকেই বেছে নেওয়া হল? এর পেছনে রয়েছে ইরানের দীর্ঘ রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতার কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক।
মূলত দীর্ঘদিন ধরেই মোস্তাবা খামেনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেছেন। তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়, অর্থাৎ ‘বেইত’-এর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এই কার্যালয়ের মাধ্যমেই ইরানের প্রশাসন, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। ফলে আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে না থাকলেও বাস্তবে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন : শুধু তেল নয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আর কী কী আসে ভারতে?
মোজতাবা খামেনির রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝার জন্য তাঁর অতীতের দিকে তাকানো প্রয়োজন। ১৯৬৯ সালে ইরানের মাসহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি ইরানের প্রধান ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র কোমে গিয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি একজন মধ্যম স্তরের শিয়া ধর্মগুরু হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
তবে তাঁর প্রভাব কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC)-এর একটি ইউনিটে যোগ দেন। সেখানে হাবিব ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। একই সময়ে তিনি বাসিজ মিলিশিয়ার সঙ্গে কাজ করেন, যা ইরানের স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলেন। এই যোগাযোগই পরবর্তীকালে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আইআরজিসির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে আইআরজিসির প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই বাহিনীর আস্থাভাজন হওয়া যে কোনো নেতার জন্য বড় শক্তি।
২০০৯ সালে ইরানে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর যে ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেটি দমনে মোস্তাবা খামেনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তখনও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি পদে ছিলেন না, কিন্তু তার বাবার কার্যালয়ের মাধ্যমে তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করেন বলে ধারণা করা হয়।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজ্ঞতার কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুদ্ধ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা মোস্তাবা খামেনির রয়েছে। বিশেষ করে যখন দেশটি আন্তর্জাতিক চাপ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে রয়েছে, তখন এমন একজন নেতাকে সামনে আনা হয়েছে যিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে কাজ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির সমর্থন এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্কই মোস্তাবা খামেনির নেতৃত্বের পথকে সহজ করেছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্র ‘বেইত’-এ দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেকের ধারণা, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংকট মোকাবিলার জন্যই মোস্তাবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা কীভাবে নির্বাচিত হন?
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা বা Supreme Leader নির্বাচন করার একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এই নির্বাচন পরিচালনা করে Assembly of Experts নামে পরিচিত একটি ধর্মীয় পরিষদ। এটি মূলত ৮৮ সদস্যের একটি পরিষদ, যাদের সবাই শিয়া ইসলামি আইন ও ধর্মতত্ত্বে দক্ষ ধর্মীয় আলেম। এই পরিষদের সদস্যরা প্রতি আট বছর অন্তর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ যদি কোনো কারণে শূন্য হয়ে যায়—যেমন তার মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণ—তাহলে Assembly of Experts দ্রুত নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। সেই ক্ষেত্রে পরিষদের সদস্যরা গোপন বৈঠকে বসেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রার্থী নির্বাচনের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হয়। যেমন—
- ইসলামী আইন ও ধর্মতত্ত্বে গভীর জ্ঞান
- রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের ক্ষমতা
- রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা
- দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষমতা
এই সব বিষয় মূল্যায়ন করার পর পরিষদের সদস্যরা ভোট দেন। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ অধিকাংশ সদস্যের সম্মতিতেই একজন প্রার্থীকে এই পদে মনোনীত করা হয়। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সে ক্ষেত্রে সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (ধর্মীয় আইনবিশারদ) নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাঠামো দায়িত্ব পালন করে। ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি সাধারণত আজীবন পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সংবিধান অনুযায়ী Assembly of Experts চাইলে কোনো সর্বোচ্চ নেতাকে তার অযোগ্যতা বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে অপসারণও করতে পারে।
আইআরজিসিতে কেন এত প্রভাবশালী মোজতাবা খামেনি? (Why Mojtaba Khamenei Became Iran Supreme Leader)
ইরানের ক্ষমতার রাজনীতিতে মোজতাবা খামেনির প্রভাব বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হল তার সঙ্গে আইআরজিসি (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যা শুধু সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাকে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই আইআরজিসির সঙ্গে মোজতাবা খামেনির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৮০-এর দশকে চলা ওই দীর্ঘ যুদ্ধে তিনি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পসের একটি ইউনিট, হাবিব ব্যাটালিয়নে যোগ দেন। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়। একই সময়ে তিনি বাসিজ মিলিশিয়া নামের স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তার জন্য একটি শক্তিশালী সামরিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সহায়ক হয়।
পরবর্তীকালে তিনি সরাসরি কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তার বাবার কার্যালয়, অর্থাৎ সুপ্রিম লিডারের অফিস বা ‘বেইত’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেখানে তিনি অনেকটা ‘গেটকিপার’ বা সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করতেন, যার মাধ্যমে আইআরজিসির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগের একটি চ্যানেল তৈরি হয়। এই অবস্থান তাকে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে মোস্তাবা খামেনির সঙ্গে আইআরজিসির বিভিন্ন ইউনিট, বিশেষ করে কুদস ফোর্স এবং বাসিজ বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যেও গভীরভাবে প্রোথিত।
২০০৯ সালে ইরানে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর যে গ্রিন মুভমেন্ট বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেটি দমনে বাসিজ মিলিশিয়াকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মোস্তাবা খামেনির ভূমিকা নিয়ে বহু বিশ্লেষণে আলোচনা হয়েছে। সেই সময় তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে সমর্থন করেছিলেন বলে জানা যায়। এর ফলে আইআরজিসির মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এই দীর্ঘ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আনুগত্যের কারণেই আইআরজিসির ভেতরে মোজতাবা খামেনির প্রভাব ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি বহুবার প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তিনি আইআরজিসির প্রতি আস্থাশীল এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে—যেখানে দেশটি আঞ্চলিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বহিরাগত চাপের মুখে রয়েছে—আইআরজিসির সমর্থন ছাড়া কোনো নেতা কার্যকরভাবে ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবেন না। মোস্তাবা খামেনির দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার শক্তিশালী যোগাযোগের কারণে আইআরজিসি তাকে একজন বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে দেখেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি শুধু সামরিক কৌশলেই নয়, আইআরজিসির প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কেও ভালোভাবে অবগত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিদেশি চাপের মুখেও রাষ্ট্রের নীতি অটুট রাখা—এই সব ক্ষেত্রেই তিনি প্রস্তুত একজন নেতা।
এই সব কারণ মিলিয়েই আইআরজিসি মোস্তাবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সমর্থন দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তাদের মতে, আলি খামেনির মৃত্যুর পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করার জন্য এমন একজন নেতার প্রয়োজন ছিল যিনি ক্ষমতার কাঠামো, সামরিক শক্তি এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত। মোস্তাবা খামেনিকে সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন মোজতাবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে উঠে এলেন? (Why Mojtaba Khamenei Became Iran Supreme Leader)
ইসলামী বিপ্লবের এক দশক আগেই তার জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ৫৫ বছর বয়সী মোস্তাবা খামেনি বহু বছর ধরেই ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনার অন্দরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামনে আসতেন না, তবুও তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে তাকে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতাবা খামেনিকে অনেক সময় “পর্দার আড়ালের শক্তি” হিসেবেও দেখা হয়। কারণ তিনি সরাসরি রাজনৈতিক মঞ্চে না থাকলেও তার বাবার কার্যালয়—সুপ্রিম লিডারের অফিস বা ‘বেইত’-এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে।
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তার উত্থানের একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইআরজিসির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। এই সম্পর্কই তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
তবে মোজতাবা খামেনির ক্ষেত্রে একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে—তা হলো তার ধর্মীয় যোগ্যতা। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে ইসলামী আইনশাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন হতে হয়। সাধারণত শিয়া ইসলামের উচ্চপদস্থ ধর্মগুরুদের মধ্যে যাদের ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি থাকে, তাদেরই এই পদে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু মোস্তাবা খামেনির ক্ষেত্রে এই উপাধিটি নেই এবং তাকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের তালিকায়ও সাধারণত গণ্য করা হয় না। ফলে তার ধর্মীয় যোগ্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে।
তবুও বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক ও ক্ষমতার কাঠামোর সমর্থন অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে আইআরজিসির সমর্থন মোস্তাবা খামেনির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক সময় এই পদে ইরানের বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনির নামও আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির পূর্ণ সমর্থন তিনি পাননি। ফলে শেষ পর্যন্ত মোস্তাবা খামেনিই অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলেন।
কারণ হিসেবে বলা হয়, মোজতাবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা কাঠামো এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সামরিক বাহিনীর কাঠামো নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রাজনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম বলে মনে করা হয়েছে। বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেও তাকে একজন কার্যকর নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কারণেই বর্তমান সংকটময় সময়ে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম, অন্যদিকে যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি বা সংকট তৈরি হতে পারে, তা সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে। এই দুই দিক থেকেই তিনি অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হয়ে ওঠেন। তবে তার সামনে পথ মোটেও সহজ নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল পরিস্থিতি তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
আলি খামেনি জীবদ্দশায় বহুবার পশ্চিমাদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাকে নাকচ করেছিলেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মোস্তাবা খামেনি সেই একই পথ অনুসরণ করবেন, নাকি নতুন কোনো কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করবেন (Why Mojtaba Khamenei Became Iran Supreme Leader)। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে এমন এক সময়ে নেতৃত্ব নিতে হচ্ছে যখন দেশটি নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যেন এক ধরনের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তাকে নতুন করে রাষ্ট্র পরিচালনার পথ তৈরি করতে হবে। সামনে যে পথ রয়েছে তা কঠিন, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে মোজতাবা খামেনির নেতৃত্ব, তার সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক কৌশলই আগামী দিনে ইরানের ভবিষ্যৎকে কোন পথে নিয়ে যাবে—তা নির্ধারণ করবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ঘরশত্রু বিভীষণ কি ইরানের সংকটের কারণ হল? আমেরিকা কোন বিশেষ বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে?
- বই পড়লে কি মন শান্ত হয়? জানুন, স্ট্রেস কমাতে কীভাবে এই বিশেষ থেরাপি কাজ করে
- গোলাপি মণীশ মলহোত্রা শাড়িতে নজর কাড়লেন সারা তেন্ডুলকর! অর্জুন-সানিয়ার রাজকীয় বিয়েতে চাঁদের হাট, জানুন অন্দরমহলের অজানা গল্প
- কে এই নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি? জানুন তাঁকে নিয়ে তামিলনাড়ুর সমস্ত বিতর্ক ও যাবতীয় তথ্য
- কেন পদত্যাগ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের? কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

