শুধু আনন্দ নয়, মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর (Flying Kites) এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত সংযোগ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পৌষ সংক্রান্তির (Makar Sankranti) সকাল মানেই ছাদে ছাদে উৎসবের আমেজ। নীল আকাশ ছেয়ে যায় লাল-নীল-হলুদ রঙিন ঘুড়িতে। “ভো-কাট্টা” বা “কাই পো চে”-র চিৎকারে মুখরিত হয় চারপাশ। আমাদের অনেকের কাছেই মকর সংক্রান্তি মানেই ঘুড়ি ওড়ানোর দিন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বছরের এই নির্দিষ্ট দিনটিতেই কেন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা প্রচলিত হলো? এটি কি শুধুই নির্মল আনন্দ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর কারণ?
NewsOffBeat-এর ডিজিটাল ডেস্ক খুঁজে বের করল এই রঙিন উৎসবের পেছনের অজানা বিজ্ঞান ও দর্শন।
সূর্যের উত্তরায়ণ ও স্বাস্থ্যের বিজ্ঞান (The Science of Sunlight)
মকর সংক্রান্তিতে (Makar Sankranti) ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথাটি মূলত স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমরা জানি, এই দিন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে এবং উত্তরায়ণ শুরু হয়। অর্থাৎ, দীর্ঘ শীতের পর সূর্যের তেজ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। প্রাচীনকালে ঋষি-মুনিরা জানতেন, শীতকালে আমাদের শরীরে সূর্যের আলোর অভাব ঘটে, যার ফলে নানারকম ত্বকের সমস্যা দেখা দেয় এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হয়।
ঘুড়ি ওড়ানোর বাহানায় মানুষ যাতে দীর্ঘক্ষণ সকালের এই কচি ও উপকারী রোদে থাকতে পারে, সেই জন্যেই এই প্রথার প্রচলন করা হয়েছিল। সকালের এই রোদ শরীরে লাগলে তা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি করে এবং শীতকালীন জীবাণু ও সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। তাই এটি কেবল খেলা নয়, বরং এক ধরণের প্রাকৃতিক ‘সান বাথ’ (Sun Bath) থেরাপি।
আধ্যাত্মিক সংযোগ: মাটির সঙ্গে আকাশের বন্ধন
ঘুড়ি ওড়ানোর একটি সুন্দর দার্শনিক দিকও রয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ঘুড়ি হলো মানুষের আত্মার প্রতীক, যা আকাশের উচ্চতায় ঈশ্বরের কাছাকাছি পৌঁছাতে চায়। আর ঘুড়ির সুতো বা লাটাই হলো সেই যোগসূত্র, যা আমাদের মাটির সঙ্গে বা বাস্তবের সঙ্গে বেঁধে রাখে। আবার গুজরাট বা রাজস্থানের মতো রাজ্যে বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ঘুড়ি ওড়ালে দেবতারা খুশি হন। ঘুড়ি কেটে গেলে যে উল্লাস করা হয়, তা আসলে নিজের ভেতরের নেতিবাচকতা বা খারাপ অভ্যাসকে কেটে ফেলার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
আরও পড়ুন : মকর সংক্রান্তি কি ও কেন? জানুন এই উৎসবের আসল ইতিহাস
সামাজিক বন্ধন ও উৎসবের আমেজ
মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti) হলো ফসল তোলার উৎসব। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ উদযাপন করতেই মানুষ খোলা আকাশের নিচে সমবেত হয়। ঘুড়ি ওড়ানো একটি দারুণ সামাজিক কার্যকলাপ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক ছাদের তলায় বা খোলা মাঠে জড়ো হন। এটি একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক দুর্দান্ত মাধ্যম।
তাই এবারের সংক্রান্তিতে যখন লাটাই হাতে ছাদে উঠবেন, তখন মনে রাখবেন—আপনি শুধু একটি ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন না, বরং হাজার বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যকে পালন করছেন যা আপনার শরীর ও মন, উভয়কেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্যের এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানানোর এর চেয়ে রঙিন উপায় আর কী হতে পারে!
- ডিজিটাল যুগে মাতৃভাষা: সোশ্যাল মিডিয়া কি বদলে দিচ্ছে ভাষার রূপ?
- দিনের কোন সময় সত্যিই অশুভ? সত্যিটা কী বলছে গবেষণা
- তৎকাল ছাড়াই কনফার্ম সিট! শেষ মুহূর্তে ট্রেনে নিশ্চিত আসন পাওয়ার সহজ কৌশল জানুন
- চৌরঙ্গীর স্রষ্টা আর নেই │ শংকরের চোখে কলকাতা শহর, মানুষের শ্রেণি ও সময়ের দলিল
- পকেটেই প্রিমিয়াম ক্যামেরা! ভিভো ভি সিরিজের নতুন ফোন লঞ্চে টেক দুনিয়ায় ঝড়

