R N Ravi National Education Policy criticism: আইআইটি খড়গপুরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সম্মেলনে জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। অতীত থেকে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি দিলেন ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে যে বড় পরিবর্তনগুলি এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০। এই নীতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিস্তৃত আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং বাস্তব প্রয়োগের নানা উদ্যোগ। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে ২৭ মার্চ ২০২৬, কলকাতার নিউ টাউনে খড়্গপুর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পার্কে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক সম্মেলন। কলকাতা বিদ্যাভারতী উচ্চশিক্ষা সংস্থান,, পশ্চিমবঙ্গ এবং খড়্গপুর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষাজগতের এক উল্লেখযোগ্য মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই সম্মেলনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল আর এন রবি -র উপস্থিতি, যা পুরো অনুষ্ঠানকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এখানে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রাসঙ্গিকতা, উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা (R N Ravi National Education Policy criticism)
সকাল সাড়ে দশটায় মাননীয় রাজ্যপাল আর এন রবি -র উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় স্তোত্র পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এক গম্ভীর ও গৌরবময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং উপস্থিত অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।
স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন খড়্গপুর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্যে তিনি এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন—শুধু নীতি নিয়ে আলোচনা নয়, বরং তার বাস্তব প্রয়োগের দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। তিনি শিক্ষার আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন। এআই (AI) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ দখল করে নিলেও, সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে মানুষ এখনও অনেক এগিয়ে। নৈতিকতার বিচার মানুষই ভালো করতে পারে। মানুষের সহানুভূতি, নেতৃত্ব ও গুণের কোনো বিকল্প নেই। উদ্বোধনী পর্ব থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই সম্মেলন একটি কার্যকর চিন্তার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে চিরাচরিত গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র চাকরির লক্ষ্য নিয়ে এগোনোই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। বরং শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদেরকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ভাবতে শেখে এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করার সাহস অর্জন করে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, শিক্ষা মানে কেবলমাত্র একটি চাকরি পাওয়া নয়। এর পরিধি অনেক বৃহৎ। শিক্ষার্থীদের মৌলিক চিন্তাভাবনা করতে হবে, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং স্টার্টআপের মতো উদ্যোগের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যেখানে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকশিত হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটিকে অবশ্যই একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও চিন্তাশক্তিকেই সর্বাগ্রে রাখতে হবে। প্রযুক্তি কখনোই মানুষের মৌলিক চিন্তার বিকল্প হতে পারে না।
এই আলোচনায় তিনি ভারতের প্রাচীন দর্শনের কথাও উল্লেখ করেন। “লোকসংগ্রহ” এবং “বসুধৈব কুটুম্বকম”-এর মতো ভাবনা বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধার শিক্ষা দেয় এবং নেতৃত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক। এই প্রসঙ্গে তিনি দর্শনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের কথাও তুলে ধরেন, যা মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ শেখায়।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই নীতির প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছেও শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আর্থসামাজিক বিভেদ ভুলে সকলের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র একজন স্নাতক তৈরি করা নয়। বরং এমন একজন মানুষ গড়ে তোলা, যার মধ্যে মানবিক গুণাবলি, দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বের ক্ষমতা রয়েছে। কারণ আগামী দিনের সমাজ গড়ে উঠবে এই মানবিক ও সচেতন শিক্ষিত মানুষের হাত ধরেই।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের জাতীয় শিক্ষানীতি সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য (R N Ravi National Education Policy criticism)
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর গুরুত্ব বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই নীতি শুধু শিক্ষার কাঠামো পরিবর্তন করে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে সাহায্য করে।
তিনি বিশেষভাবে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন— বহুমুখী শিক্ষা পদ্ধতি, দক্ষতা নির্ভর শিক্ষা, গবেষণার উন্নয়ন, ভারতীয় জ্ঞানচর্চার পুনরুজ্জীবন। তাঁর মতে, এই নীতি ভারতের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, নীতির সঠিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর বক্তব্যে যেমন শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি তুলে ধরেন, তেমনই তিনি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং বর্তমান ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার কিছু অবনমনের দিক নিয়েও স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল তথ্যসমৃদ্ধ, বিশ্লেষণধর্মী এবং একই সঙ্গে সতর্কবার্তায় ভরা।
তিনি জানান, এর আগে তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবেও কাজ করেছেন। সেই সময়ে বিভিন্ন জাতীয় শিক্ষানীতি সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকান। তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতকে ঔপনিবেশিক শাসন শুরুর আগে ভারতবর্ষ ছিল বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি। কিন্তু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় সেই অবস্থান নেমে আসে ষষ্ঠ স্থানে। স্বাধীনতার পর প্রত্যাশা ছিল যে ভারত আবার অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ২০১৪ সালের মধ্যে ভারত আরও পিছিয়ে গিয়ে একাদশ স্থানে নেমে আসে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যে দেশগুলো একসময় পিছিয়ে ছিল, আজ তারা এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের দেশ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।” এমনকি ছোটো ছোটো দেশগুলোর কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ শিক্ষার মৌলিক ভিত্তির দুর্বলতা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জ্ঞানই শক্তি।” একসময় ভারতবর্ষ ছিল বিশ্বের জ্ঞানচর্চার প্রধান কেন্দ্র, একপ্রকার ‘জ্ঞানের ভাণ্ডার’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান হারিয়ে গেছে। তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্ব বৌদ্ধিক সম্পদ সংস্থায় ভারতের অবদান ছিল মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ ছয় শতাংশ, যা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ জনসংখ্যা ভারতের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে অবদান রাখা যাচ্ছে না। ২০১৪ সালে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন উদ্যোগও ছিল না—পাঁচশোটির কম স্টার্টআপ উদ্যোগ সক্রিয় ছিল।
নিজের বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় চীনের মানুষ ভারতীয় মেধার প্রশংসা করত এবং কিছুটা ঈর্ষাও করত। কিন্তু পরবর্তীকালে পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর কথায়, “ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের জ্ঞানকর্মীর সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে”—অর্থাৎ, মূলত পরিষেবা খাতে কর্মী সরবরাহ করলেও মৌলিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে পিছিয়ে পড়েছে।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মী পাঠাচ্ছি, কিন্তু নিজের দেশে মৌলিক গবেষণা খুব কম হচ্ছে।” এর ফলেই অর্থনীতিতেও ভারত পিছিয়ে পড়েছে। এমনকি তিনি কিছু ছোট দেশের সঙ্গে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও তুলনা টানেন এই প্রসঙ্গে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার দিকটিও তিনি তুলে ধরেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সমস্যা, জম্মু-কাশ্মীরে অস্থিরতা এবং পাঞ্জাবের অশান্ত পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মত দেন। তিনি আরও বলেন, একসময় জ্ঞানের জন্য পরিচিত ভারতবর্ষ এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, যা দেশের অগ্রাধিকারের পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের ভুল কোথায়, তারও বিশ্লেষণ করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের তরুণ-তরুণীরা মেধাবী হলেও তাদের সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ব্রিটিশ আমলের শিক্ষানীতির ধারাবাহিক প্রভাবকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “বেন্টিংক ও মেকলের শিক্ষানীতির প্রভাব আমরা এখনও বহন করে চলেছি।” স্বাধীনতার পর ষাটের দশক এবং আশির দশকের মাঝামাঝি যে শিক্ষানীতিগুলি তৈরি হয়, সেগুলিও মূলত সেই ঔপনিবেশিক কাঠামোরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ফলে ভারতীয় চিন্তাধারা বা মৌলিক ধারণার যথেষ্ট প্রতিফলন ঘটেনি।
এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তিনি মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মকে আরও সৃজনশীল, উদ্যমী এবং সমালোচনামূলক চিন্তাশীল হতে হবে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অনেকাংশেই ভুলে যাচ্ছে যে এই দেশেই একসময় নালন্দা, তক্ষশীলা, বিক্রমশীলার মতো বিশ্বের প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। ভারতবর্ষ প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি ছিল—এই ঐতিহ্যকে স্মরণ করা জরুরি।
শেষে তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে জানে। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় ভারত বিশ্বের অর্থনীতির প্রায় তিরিশ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করত—যেখানে তখন ইউরোপ বা আমেরিকার প্রভাব ছিল না।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল পরিষ্কার—ভারতকে আবার জ্ঞানচর্চা, মৌলিক গবেষণা এবং সৃজনশীলতার পথে ফিরে আসতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতের শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানের তৃতীয় অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা।
অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সুফল ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এই নীতি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করলেও এর বাস্তব প্রয়োগে অবকাঠামোগত সমস্যা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক প্রবীর কুমার ঘোষ প্রশাসনিক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে গেলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, শাসন কাঠামোর পরিবর্তনও অপরিহার্য।
এছাড়া কলকাতার ভারতীয় রাসায়নিক জীববিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক বিভা ট্যান্ডন বহুবিভাগীয় শিক্ষার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা এমন হবে যেখানে বিভিন্ন বিষয় একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। বিকেলের অধিবেশনে বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের বক্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে ছিল— উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিকীকরণ, ভারতীয় জ্ঞানচর্চার সমন্বয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, ভার্চুয়াল ল্যাব এবং অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের সুযোগ পেতে পারে। এই সম্মেলনের আলোচনাগুলি থেকে স্পষ্ট যে, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে।
সন্ধ্যা ছটায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। দিনভর আলোচনা, মতবিনিময় এবং গবেষণার মাধ্যমে এটি একটি সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এই সম্মেলন শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়—এটি ভবিষ্যতের শিক্ষার দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিক্ষাবিদদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ আগামী দিনে ভারতের উচ্চশিক্ষাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলবে—এটাই প্রত্যাশা।
#NEP2020 #EducationConference #IITKharagpur #KolkataNews #AIinEducation #HigherEducationIndia #NEP2020 #ViksitBharat #EducationReform #IITKharagpur #GovernorRavi #LokBhavan
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

