নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে বড় চমক দিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র — নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর — থেকে জয়ী হওয়ার পর তিনি জানিয়ে দিলেন, নন্দীগ্রাম কেন্দ্র তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে সেখানে ফের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নন্দীগ্রামের মানুষকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেন, আগামী পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন বা পরিষেবা নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক বড় সামাজিক প্রকল্পের আর্থিক বৃদ্ধি ঘোষণা করেন, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
দ্বিগুণ হচ্ছে ভাতা
সবচেয়ে বড় ঘোষণার মধ্যে রয়েছে বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি। এতদিন যেসব উপভোক্তারা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পেতেন, এবার সেই অর্থ দ্বিগুণ করে দুই হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জুন মাস থেকেই এই নতুন ভাতা কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, অসহায় বিধবা মহিলা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা অনেক বড় স্বস্তি এনে দেবে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের।
লক্ষ্মীর ভান্ডারেও বড় পরিবর্তন
শুধু সামাজিক ভাতাই নয়, লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী দেড় হাজার টাকা থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ক্যাবিনেট বৈঠকেও ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে পাঠানো হবে।
এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
নন্দীগ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক জল্পনা
দুটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর কোন কেন্দ্র তিনি রাখবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। অবশেষে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই কাজ করবেন এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্র ছেড়ে দেবেন।
তবে তিনি এও বলেন, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না। এলাকার উন্নয়ন, রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি নিয়মিত নজর রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত আগামী উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সাধারণ মানুষের মুখে এখন স্বস্তির হাসি
একদিকে ভাতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকার পরিমাণ বাড়ানো — এই দুই সিদ্ধান্ত রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। অনেকেই মনে করছেন, এই আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির ফলে বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হবে।
রাজনৈতিক মহলও মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই ধারাবাহিক বড় ঘোষণা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

