Ghatal Master Plan: দশকের পর দশক ধরে বন্যা সমস্যায় জর্জরিত ঘাটাল। বহু প্রতিশ্রুতির পর এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বর্ষা এলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল। বছরের পর বছর ধরে বন্যা, নদীভাঙন এবং জলযন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটিয়েছেন ঘাটালবাসী। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে, তলিয়ে গিয়েছে চাষের জমি, গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে স্কুল বা ত্রাণ শিবিরে। দশকের পর দশক ধরে শুধুই প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে শুরু হয়নি বহুচর্চিত ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান। এবার সেই প্রকল্প নিয়েই নতুন করে আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার।
অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দেব বহুবার প্রকাশ্যে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এমনকি দু’হাজার চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি ঘাটাল থেকে প্রার্থী হতেও অনীহা প্রকাশ করেছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বাস দেন যে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
কী এই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান?
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান মূলত পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে বন্যা সমস্যা দূর করার একটি বৃহৎ জল নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প। রূপনারায়ণ, কংসাবতী, শিলাবতী-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বর্ষার সময় দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ফলে ঘাটাল ও সংলগ্ন এলাকা কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই তৈরি হয় এই পরিকল্পনা।
এই প্রকল্পে নদীগুলির নিয়মিত ড্রেজিং করার কথা বলা হয়েছে, যাতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর আশপাশের খাল সংস্কার, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নতুন পাম্প হাউস তৈরি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নদীপথে লকগেট বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। চন্দ্রকোণা, ঘাটাল, দাসপুর-সহ একাধিক এলাকায় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার কথাও বলা হয়েছে এই প্রকল্পে।
কেন এতদিন আটকে ছিল প্রকল্প?
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের ইতিহাস দীর্ঘ কয়েক দশকের। পাঁচের দশকে প্রথম এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তারও আগে সংসদে ঘাটালের বন্যা সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন বাম সাংসদ নিকুঞ্জবিহারী চৌধুরী। এরপর বিশেষ কমিটি গঠন করা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারবার প্রশাসনিক জটিলতা এবং অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়।
দু’হাজার দশ সালে গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়ে। দু’হাজার পনেরো সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিলেও কাজ বাস্তবে এগোয়নি। প্রথমদিকে এই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় বাইশশো কোটি টাকা। সেই সময় নিয়ম অনুযায়ী পঁচাত্তর শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়ার কথা ছিল এবং বাকি অংশ বহন করার কথা ছিল রাজ্যের। কিন্তু পরবর্তীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের অভাব এবং আর্থিক টানাপোড়েনের জেরে প্রকল্প কার্যত থমকে যায়।
এবার নতুন করে আশার আলো
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবার ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এবার রাজ্যে এবং কেন্দ্রে একই সরকারের নেতৃত্ব থাকায় দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পঞ্চাশ শতাংশ এবং রাজ্য সরকার পঞ্চাশ শতাংশ অর্থ বহন করবে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের জলশক্তি মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিশেষ প্রকল্পের আওতাতেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ এগোবে বলে সূত্রের খবর। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যেটি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ পেতে পারে বলেই আশা করছেন ঘাটালবাসী।
ঘাটালের মানুষ কি সত্যিই মুক্তি পাবেন?
প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে দিন কাটান ঘাটালের সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই জল ঢুকে পড়ে বাড়িতে। চাষের জমি নষ্ট হয়, রাস্তাঘাট ভেঙে যায়, বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। সেই কারণেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান শুধু একটি প্রকল্প নয়, ঘাটালবাসীর বহু বছরের স্বপ্ন এবং বাঁচার লড়াই।
এখন দেখার, বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প বাস্তবে কত দ্রুত এগোয় এবং সত্যিই ঘাটালের মানুষকে বন্যার স্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে কি না। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে এবার বাস্তব কাজ কতটা হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

