তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য বিভাজন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। Trinamool Congress Split পরিস্থিতিতে ঘাসফুল প্রতীক, দলীয় তহবিল এবং প্রকৃত দলের স্বীকৃতি নিয়ে কী বলছে আইন, তা নিয়েই বাড়ছে আগ্রহ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দলের একাংশ সাংসদ বা বিধায়ক পৃথক অবস্থান নিলে কিংবা আলাদা গোষ্ঠী গঠন করলে দলের প্রতীক, স্বীকৃতি এবং তহবিলের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়েও বেশি আইনি।
দলভাঙন আইন ও প্রতীকের প্রশ্ন এক নয়
ভারতের আইনে দলভাঙন এবং দলের প্রতীক বা স্বীকৃতির বিষয় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামোর মধ্যে পড়ে। একদিকে রয়েছে সংসদ ও বিধানসভায় সদস্যপদ রক্ষার প্রশ্ন, যা দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় বিচার করা হয়। অন্যদিকে দলের প্রতীক, স্বীকৃতি এবং মালিকানার বিষয়টি নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বা বিধায়ক আলাদা অবস্থান নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা দলের প্রতীক বা সম্পত্তির মালিক হয়ে যান না।
ঘাসফুল চিহ্ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার?
দলের প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের হাতে। নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত ১৯৬৮ সালের বিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলে বিভাজন দেখা দিলে কমিশন সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ক্ষেত্রে কমিশন সাধারণত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে—
- দলের সাংগঠনিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে।
- সাংসদ ও বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন কোন গোষ্ঠীর পক্ষে।
- দলের মূল আদর্শ, নীতি ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা কোন গোষ্ঠী বহন করছে।
ফলে শুধুমাত্র সাংসদ বা বিধায়কদের সংখ্যা বেশি হলেই কোনও গোষ্ঠী প্রতীক পাবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
দলীয় তহবিল ও সম্পত্তির অধিকার কার?
রাজনৈতিক দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রশ্নও সরাসরি সাংসদদের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না।
সাধারণত যে গোষ্ঠীকে নির্বাচন কমিশন “আসল দল” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তারাই দলীয় সম্পদ ও তহবিলের দাবিদার হয়। কোনও ক্ষেত্রে বিরোধ আদালতে পৌঁছালে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিজস্ব গঠনতন্ত্রও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে কী হয়?
দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত সদস্য অন্য কোনও দলে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁদের সদস্যপদ রক্ষা পেতে পারে। তবে শুধুমাত্র পৃথক ব্লক গঠন করলেই প্রতীক বা তহবিলের মালিকানা পাওয়া যায় না।
অর্থাৎ সদস্যপদ রক্ষার প্রশ্ন এবং দলের প্রতীক বা সম্পত্তির মালিকানার প্রশ্ন—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনও বড় ধরনের সাংগঠনিক বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন গোষ্ঠীকে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থন এবং দলীয় কাঠামোর উপর কার প্রভাব বেশি—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ফলে কোনও গোষ্ঠী সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেই যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘাসফুল প্রতীক বা দলীয় তহবিলের অধিকার পাবে, এমনটা নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে আদালতের রায়ের উপর।
রাজনৈতিক জল্পনা যতই বাড়ুক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে প্রতীক ও তহবিলের প্রশ্নে শেষ কথা বলবে নির্বাচন কমিশন এবং প্রয়োজন হলে দেশের বিচারব্যবস্থা।
#TrinamoolCongress
#MamataBanerjee
#TMCSplit
#WestBengalPolitics
#PoliticalNews
#ElectionCommission
#IndianPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

